ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
কথা: আব্দুল লতিফ
সুর: আব্দুল লতিফ

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে
ওরা কথায় কথায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমাদেরই হাতে-পায়ে
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়

কইতো যাহা আমার দাদায়, কইছে তাহা আমার বাবায়
কইতো যাহা আমার দাদায়, কইছে তাহা আমার বাবায়
এখন কও দেহি ভাই মোর মুখে কি অন্য কথা শোভা পায়
কও দেহি ভাই
এখন কও দেহি ভাই মোর মুখে কি অন্য কথা শোভা পায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়

সইমু না আর সইমু না, অন্য কথা কইমু না
যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান, আহা যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান,
এই জানের বদল রাখুম রে ভাই, বাব-দাদার জবানের মান
ও হো..হো..হো….বাব-দাদার জবানের মান

যে শুইনাছে আমার দেশের গাঁওগেরামের গান
নানান রঙয়ের নানান রসে, ভইরাছে তার প্রাণ
যে শুইনাছে আমার দেশের গাঁওগেরামের গান
নানান রঙয়ের নানান রসে, ভইরাছে তার প্রাণ
যপ-কীর্তন, ভাসান-জারি, গাজীর গীত আর কবি সারি
যপ-কীর্তন, ভাসান-জারি, গাজীর গীত আর কবি সারি
আমার এই বাংলাদেশের বয়াতিরা নাইচা নাইচা কেমন গায়
বাংলাদেশের
আমার এই বাংলাদেশের বয়াতিরা নাইচা নাইচা কেমন গায়
ওরা কাদের মুখের কথা কাইরা নিতে চায়
ওরা কাদের মুখের কথা কাইরা নিতে চায়

তারি তালে তালে হৈ ঢোল করতাল বাজে ঐ
বাশি কাশি খঞ্জনি সানাই, (আহা) বাশি কাশি খঞ্জনি সানাই
এখন কও দেখি ভাই এমন শোভা কোথায় গেলে দেখতে পাই
ও হো..হো..হো….কোথায় গেলে দেখতে পাই

পূবাল বায়ে বাদাম দিয়া লাগলে ভাটির টান
গায়রে আমার দেশের মাঝি
ভাটিয়ালি গান, (ভাইরে) ভাটিয়ালি গান
তার ভাটিয়াল গানের সুরে মনের দুসখু যায়রে দূরে
বাজায় বাশি সেইনা সুরে রাখাল বনের ছায়
রাখাল বনের ছায়
ওরা যদি না দেয় মান আমার দেশের যতই যাক
তার সাথে মোর নাড়ীর যোগাযোগ, আছে তার সাথে মোর নাড়ীর যোগাযোগ
এই আপদ-বিপদ দুঃখে কষ্টে এ গান আমার ভোলায় শোক
ও হো..হো..হো….এ গান আমার ভোলায় শোক

এই ঠুং ঠুংয়া ঠুং দোতারা আর সারিন্দা বাজাইয়া
গায়ের যোগী ভিক্ষা মাগে প্রেমের সারি গাইয়াগো
প্রেমের সারি গাইয়া
এই ঠুং ঠুংয়া ঠুং দোতারা আর সারিন্দা বাজাইয়া
গায়ের যোগী ভিক্ষা মাগে প্রেমের সারি গাইয়াগো
প্রেমের সারি গাইয়া

একতারা বাজাইয়া বাউল ঘুচায় মনের সকল আউল
একতারা বাজাইয়া বাউল ঘুচায় মনের সকল আউল
তারা মার্ফতি মুর্শিদি তত্ত্বে পথের দিশা দিয়া যায়
মার্ফতি মুর্শিদি তত্ত্বে পথের দিশা দিয়া যায়
ওরা তাদের মুখের কথা কাইরা নিতে চায়
ওরা তাদের মুখের কথা কাইরা নিতে চায়

ওরে আমার বাংলারে, ওরে সোনার ভান্ডারে
আরো কত আছে যে রতন আহা আরো কত আছে যে রতন
মূল্য তাহার হয়না দিলেও মনি মুক্তা আর কাঞ্চন
ও হো..হো..হো….মনি মুক্তা আর কাঞ্চন

আরেক কথা মনে হইলে আঁখি ঝইড়া যায়
ঘুমপাড়াইনা গাইত যে গান মোর দুঃখিনী মায়
আরেক কথা মনে হইলে আঁখি ঝইড়া যায়
ঘুমপাড়াইনা গাইত যে গান মোর দুঃখিনী মায়
ওমায় সোনা মানিক যাদু বলে চুমা দিয়া লইত কোলে
সোনা মানিক যাদু বলে চুমা দিয়া লইত কোলে
আরো আদর কইরা কইত মোরে আয় চান আমার বুকে আয়
আদর কইরা
আরো আদর কইরা কইত মোরে আয় চান আমার বুকে আয়
ওরা মায়ের মুখের কথা কাইরা নিতে চায়
ওরা মায়ের মুখের কথা কাইরা নিতে চায়

কও আমার মায়ের মত গান, আমার মায়ের মত প্রাণ
বাংলা বিনে কারো দেশে নাই, বাংলা বিনে কারো দেশে নাই
এই মায়ের মুখের মধুর বুলি কেমন কইরা ভুলুম ভাই
ও হো..হো..হো….কেমন কইরা ভুলুম ভাই

এই ভাষারই লাইগা যারা মায়ের দেয় ভুলান
দেশের মাটি বুকের খুনে কইরা গেছে লাল
এই ভাষারই লাইগা যারা মায়ের দেয় ভুলান
দেশের মাটি বুকের খুনে কইরা গেছে লাল
মনে কইরা তরার কথা কান্দে বনের তরু লতা
মনে কইরা তরার কথা কান্দে বনের তরু লতা
তাইতো ঘরে ঘরে কত মা তায় চোখের জলে বুক ভাসায়
ওরা মায়ের মুখের কথা কাইরা নিতে চায়
ওরা মায়ের মুখের কথা কাইরা নিতে চায়

কইরো না আর দুঃখ শোক শোনরে গাঁও গেরামের লোক
শোন শোন গঞ্জের সোনা ভাই, তোমরা শোন শোন গঞ্জের সোনা ভাই
একবার বুক ফুলাইয়্যা কও দেখি ভাই
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই………

………………………………………………………

শিল্পী আব্দুল লতিফ সাহেব ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ I মাঝে মাঝে উনি উপলব্ধি করতেন যে, কে যেন ওনাকে জোরে চেপে ধরত I তখনই ওনাকে কাগজ কলম নিয়ে বসে যেতে হত এবং যা কিছু মনে আসত তা লিখে ফেলতেন I এর পরে উনি আবার ওনার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতেন i তার মানে এই যে উনি অনুভব করতেন যে, কে যেন তাকে দিয়ে তার গানগুলো লিখতে বাধ্য করতো I ওনার গানের কথাগুলো যেন কোনো অদৃশ্য উত্স থেকে আসত Iওনার বিখ্যাত “সোনা , সোনা , সোনা, লোকে বলে সোনা ” গানটি লেখা , সুর দেওয়া এবং গাওয়া শেষ হয়েছিল একই বসায় ৩০ মিনিটের ভেতর I বড় বড় কবিরা হয়ত তাদের কবিতাগুলো এভাবেই লিখেছেন I

যখন কোনো একটা বড় ঘটনা ঘটত তখনি উনি বসে যেতেন এবং সেই ঘটনার উপর একখানা গান লেখে এবং সুর দিয়ে গেয়ে দিতেন I শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক সাহেবের মৃত্যুর কথা শুনেই তিনি বসে গেলেন গান লিখতে I ওই দিনই তিনি তার অনেক লম্বা মর্সিয়া গাইলেন রেডিওতে I সেদিন সমস্ত বাঙালি জাতি কেদেছিল তার সেই মর্সিয়া শুনে I একদিন ওনার এক ছোট নাতনি বেড়াতে আসল I উনি জানতে পারলেন যে সেদিন ছিল মেয়েটির জন্ম দিন I তখনই তিনি গান লিখে ও সুর দিয়ে গাইলেন: “শিরিন বুবুর জন্ম দিনে …”

মাতৃভাষা আন্দোলনে এবং মুক্তি যুদ্ধে আব্দুল লতিফ সাহেবের অবদান অনেক I উনি ওনার বিখ্যাত “ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়” গানটি গাইতেন ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় বিদ্রোহী মিছিলের সামনে চলতে চলতে I পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অনেক চেষ্টা করেছিল ওনাকে মেরে ফেলতে I ২৬শে মার্চ হানাদার বাহিনী ওনার সেকেন্ড ক্যাপিটালের বাড়িতে হানা দেয় I সৌভাগ্যবশত উনি এবং ওনার পরিবারের সবাই তার আগের রাতে বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন I তার পর উনি ৯ মাসের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন মাঠে এবং জঙ্গলে I বিভিন্ন গ্রামের কৃষক শ্রমিক পরিবারের মা বোনেরা ওনাকে খাইয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন সেই লম্বা ৯ মাস I পাকিস্তানিরা ওনার ঘরে যা কিছু ছিল তা সবই ধ্বংশ করে ফেলেছিল I ওনার লেখা ৩৫০০ খানা গানও তারা ধ্বংশ করেছিল I স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে ওনার লিখা ২৫০০ খানা গান আবার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে I

আব্দুল লতিফ সাহেব অনেক রকম গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন ও গেয়েছেন: পল্লী গীতি, দেশাত্মবোধক গান, জারি, পুথি , আরো কতকি I ওনার লেখা আধ্যাত্মিক গানগুলো অত্যন্ত উচ্চ মানের I আসলে উনি ছিলেন একজন সত্যিকারের সুফি I ওনার লেখা ও জীবন ধারায় তা প্রমানিত হয় I

আব্দুল লতিফ সাহেবের বাড়িতে হত বিখ্যাত শিল্পীদের আড্ডা I কয়েকজন বিখ্যাত শিল্পী ওনার হাতে তৈরী I তাদের ভেতর আব্দুল আলিম ও ফেরদৌসী রহমান অন্যতম I আব্দুল আলিম সাহেব ঘন ঘন আব্দুল লতিফ সাহেবের বাড়িতে আসতেন এবং বলতেন, “লতিফ ভাই , আমার জন্য আর একটা গান লিখে দেন ,” “লতিফ ভাই , আমাকে আর একটা গান শিখিয়ে দেন I” মৃত্যুর আগে আলিম সাহেব তার পরিবারকে তার শ্রদ্ধেয় লতিফ ভাইর কাছে সপে দিয়ে বলেছিলেন, “আমি আমার পরিবারের দেখাশুনার সমস্ত দায়িত্ব আপনাকে দিয়ে গেলাম I” আব্দুল লতিফ সাহেব এবং তার স্ত্রী সেই দায়িত্ব পালন করেছেন I

আব্দুল লতিফ সাহেবের সাথে ফেরদৌসী রহমানের সম্বন্ধ ছিল অত্যন্ত সুমধুর I ফেরদৌসী রহমান আব্দুল লতিফ সাহেবকে ডাকতেন ‘লচা’ বলে – লতিফের ল এবং চাচার চা I লচা ফেরদৌসীকে ডাকতেন “গা গা মা“ I ফেরদৌসী রহমান তার লচাকে কখনো ভুলেননি I

আব্দুল লতিফ সহেবের কথা বলতে গেলে আব্দুল গফফার চৌধুরীর বিখ্যাত একুশের গান “ আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” সম্বন্ধে একটা কথা বলা দরকার I ১৯৫২ সালে আব্দুল গফফার চৌধুরী সাহেব ছিলেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী I ২১শে ফেব্রুয়ারী তিনি শহীদ রফিকের মরাদেহ দেখেছিলেন I তিনি বলেছেন,”আমি আরো দু‘জন বন্ধু নিয়ে গিয়েছিলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের আউটডোর কক্ষে৷ সেখানে বারান্দায় শহীদ রফিকের লাশ ছিল৷ মাথার খুলিটা উড়ে গেছে৷ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তখন ছাত্র৷ তিনি তাঁর ক্যামেরায় রফিকের ছবি তোলেন৷“সেই বছরেই আব্দুল গফফার চৌধুরী সাহেব একখানা কবিতা আকারে লিখলেন ” আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” I কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল ঢাকার একটা খবরের কাগজে I সেই কাগজটি কবিতার লেখকের নাম প্রকাশ করেনি I পরে ১৯৫৪ সালে হাসান হাফিজুর রহমান একখানা একুশের সংকলন প্রকাশ করেন I আব্দুল গফফার চৌধুরীর গানটিও সেই সংকলনে স্থান পায় I তখনকার পাকিস্তানি সরকার সেই সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

আব্দুল লতিফ সহেব ছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সাহেবের ঘনিষ্ট বন্ধু I ডক্টর রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই আতিকুল ইসলাম একদিন “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” কবিতাটি আব্দুল লতিফ সহেবের কাছে নিয়ে আসল I সেই দিনই আব্দুল লতিফ সহেব এই কবিতায় সুর দিলেন I কয়েকদিন পরে ঢাকা কলেজের কিছু ছাত্র কলেজ প্রাঙ্গনে শহীদ মিনার স্থাপনের চেষ্টা করার সময় আব্দুল লতিফ সাহেব সেই গানটি গেয়েছিলেন । এর ফলে কলেজ কয়েকজন ছাত্রদেরকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করে দেয়, এবং পাকিস্তানি সরকার আব্দুল লতিফ সাহেবকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় I ওনার পরিচিত বাঙালি অফিসাররা ওনাকে সেই বিপদ থেকে বাচান I

পরবর্তিতে আব্দুল লতিফ সাহেবের বাড়ির কাছে মুলাদির শহীদ আলতাফ মাহমুদ সাহেব ” আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানটিতে দ্বিতীয়বার সুরারোপ করেন I আলতাফ মাহমুদ সাহেবের সুরে গানটি শুনে আব্দুল লতিফ সাহেবে সাহেব বললেন, “এখন থেকে আলতাফ মাহমুদের দেওয়া সুরেই এই গান খানা গাওয়া হবে I ” আব্দুল লতিফ সাহেবের এই সিদ্ধান্ত তার হৃদয়ের উদারতারই পরিচয় দেয় I এ ব্যাপারে আব্দুল গাফফার চৌধুরী সাহেব লিখেছেন, “…লতিফ ভাই আরেকটি কাজ করেছিলেন। সে কাজটি হল, আমার লেখা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ শীর্ষক কবিতাটিতে সুরারোপ করে তাকে গানে পরিণত করা। লতিফ ভাইয়ের সুরেই গানটি প্রথম গীত হয়। তারপর আরেক সুরশিল্পী আলতাফ মাহমুদ গানটিতে দ্বিতীয়বার সুরারোপ করেন। লতিফ ভাইয়ের সুরটি কেবল জনপ্রিয় হতে শুরু করেছিল। কিন্তু আলতাফ মাহমুদ দ্বিতীয়বার গানটিতে সুরারোপ করার পর লতিফ ভাই সবার আগে তাকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, ‘আলতাফ তোমার সুরেই গানটি গাওয়া হোক I’ ”

আব্দুল লতিফ সাহেব মানুষকে অত্যন্ত ভালো বাসতেন I উনি ঈদের সময় কাপড় চোপড় কিনতেন ওনার নাপিত, বাজারের মাছ ব্যবসাই ও অন্যান্য গরিব লোকের ছেলেমেয়েদের জন্য I মানুষও ওনাকে খুব ভালবাসত I উনি যখন কাচা বাজারে যেতেন অথবা রাস্তা দিয়ে হাটতেন তখন চার দিক থেকে লোকজন উচু গলায় বলত: “লতিফ ভাই, আসসালামু আলায়কুম“, “লতিফ ভাই কেমন আছেন ?”

আর্থিক দিক থেকে আব্দুল লতিফ সাহেবের অবস্থা ছিল অস্বচ্ছল I একখানা সাইকেলে চড়ে উনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধনী লোকের মেয়েদেরকে গান শিখাতেন I মাঝে মাঝে রেডিওতেও গান গাইতেন এবং গান শিখাতেন I এই দুই সূত্র থেকে যা আয় হত তাদিয়ে উনি কোনো রকম সংসার চালাতেন I ওনার স্ত্রী এবং দুটো ছেলে মেয়েকে নিয়ে উনি থাকতেন হাসিনা মঞ্জিলের পিছে চাঁদ খান পুল লেনের একটা এক-রুম বাসায় I ওনার স্ত্রী রান্না করতেন তাদের খোলা বারান্দায় একখানা পোরটেবল মাটির চুলায় I খাওয়া দাওয়া হত শোয়ার ঘরে সিমেন্টের ফ্লোরের উপর I ওনার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন আসল দেশের স্বাধীনতার পর I বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তান থেকে ফিরে আসার কিছুদিন পরেই একদিন এক ভদ্রলোক লতিফ সাহেবের কাছে এসে বললেন, ”বঙ্গবন্ধু আপনাকে তার সাথে দেখা করতে বলেছেন I” আব্দুল লতিফ সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন I উনি ভাবলেন: “আমি কি কোনো অন্যায় করেছি যার জন্য বঙ্গবন্ধু আমার সাথে রাগ করবেন ?” বঙ্গবন্ধুর আদেশ অমান্য করা সম্ভব নয় I তাই আব্দুল লতিফ সাহেব ভয়ে ভয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলেন I বঙ্গবন্ধু আব্দুল লতিফ সাহেবকে বললেন, “লতিফ, তুই কাল থেকে Information and Broadcasting বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি হিসাবে কাজ করবি I” আব্দুল লতিফ সাহেব বললেন, “বঙ্গবন্ধু, আমিতো লেখাপড়া জানিনা I আমি কেমন করে ডেপুটি সেক্রেটারির কাজ করব ?” আব্দুল লতিফ সাহেব বরিশাল শহরের একটা হাই স্কুলে মাত্র ক্লাস সিক্স পর্যন্ত লেখা পরা করেছিলেন I বঙ্গবন্ধু বললেন, “আমি জানি তুই এই কাজ করতে পারবি I”

এখন আমি একটা গল্প বলব I এই গল্পটা হলো আব্দুল লতিফ সাহেবের ছোট বয়সে প্রথমবার গান গাওয়া নিয়ে I উনি তখন প্রাইমারি স্কুলে দিতীয় শ্রেনীর ছাত্র I ওনার স্কুলটা ছিল বরিশালের রায়পাশা গ্রামে বোশ বাড়ি I একদিন সেই স্কুলে একটা গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল I সেই অনুষ্ঠানে আব্দুল লতিফ সহেবের গান গাওয়ার কথা ছিল I ওনার গান গাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বক্ষণে উনি গান গাওয়ার ভয়ে স্কুল ঘর থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেছিলেন I আব্দুল লতিফ সাহেব নিজে বলেছেন, ‘স্ক্রীন ওঠামাত্র আমার দু‘হাঁটু কাঁপছে তো কাঁপছে, টিকতে না পেরে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেও পারিনি। হেড মাস্টার জোর করে ধরে আনলেন স্টেজে। কী আর করি। এক রকম বলির পাঁঠার মতো গানটা গাই আরকি। তারপর থেকেই সাহস বাড়ল, হারমোনিয়ামের সুর উঠিয়ে গান ধরলাম প্রাণ ভরে।‘ সেদিন ওনার ‘হে দয়াময় রহমান রহিম‘ গানটি শুনে শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল I পরবর্তিতে বোশ বাড়ির লোকেরাই আব্দুল লতিফ সাহেবকে কোলকাতা নিয়ে যায়, এবং তাদের বাড়ি রেখে এক হিন্দু ওস্তাদকে দিয়ে ওনাকে গান শিখান I তখনকার দিনে ছিল অস্পৃশ্যতার যুগ I সেই যুগে একটা হিন্দু পরিবার একটা মুসলমান ছেলেকে তাদের বাড়িতে রেখে গান শিখিয়েছে–এটা একটা অসাধারণ ব্যাপার ছিল I

আব্দুল লতিফ সাহেব ২০০৫ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন । মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, দুই কন্যা এবং ৭ জন নাতি নাতনি রেখে যান

এ না হলে বসন্ত কিসের? দোলা চাই অভ্যন্তরে,
মনের ভিতর জুড়ে আরো এক মনের মর্মর,
পাতা ঝরা, স্বচক্ষে স্বকর্ণে দেখা চাঁদ, জ্যোৎস্নাময়
রাতের উল্লাসে কালো বিষ । এ না হলে বসন্ত কিসের ?

গাছের জরায়ু ছিঁড়ে বেরিয়েছে অপিচ্ছিল বোধ,
ওর মুখে কুমারীর খুন, প্রসূতির প্রসন্ন প্রসূন ।
কন্ঠ ভরে করি পান পরিপূর্ণ সে-পাত্র বিষের,
চাই পূর্ণ শিশিরে নির্ঘুম । এ না হলে বসন্ত কিসের?

হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্রসঙ্গীতে যত আছে,
হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে
বনের কুসুমগুলি ঘিরে। আকাশে মেলিয়া আঁখি
তবুও ফুটেছে জবা,—দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে,
তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্ত পথিক।

এলিয়ে পড়েছে হাওয়া, ত্বকে কী চঞ্চল শিহরন,
মন যেন দুপুরের ঘূর্ণি-পাওয়া পাতা, ভালোবেসে
অনন্ত সঙ্গীত স্রোতে পাক খেয়ে, মৃত্তিকার বুকে
নিমজ্জিত হতে চায়। হায় কি আনন্দ জাগানিয়া।

এমন আগ্রাসী ঋতু থেকে যতই ফেরাই চোখ,
যতই এড়াতে চাই তাকে, দেখি সে অনতিক্রম্য।
বসন্ত কবির মতো রচে তার রম্য কাব্যখানি
নবীন পল্লবে, ফুলে ফুলে। বুঝি আমাকেও শেষে
গিলেছে এ খল-নারী আপাদমস্তক ভালোবেসে।

আমি তাই লঘুচালে বন্দিলাম স্বরূপ তাহার,
সহজ অক্ষরবৃত্তে বাঙলার বসন্ত বাহার।

অযুত বৎসর আগে হে বসন্ত, প্রথম ফাল্গুনে
মত্ত কুতূহলী,
প্রথম যেদিন খুলি নন্দনের দক্ষিণ-দুয়ার
মর্তে এলে চলি,
অকস্মাৎ দাঁড়াইলে মানবের কুটিরপ্রাঙ্গণে
পীতাম্বর পরি,
উতলা উত্তরী হতে উড়াইয়া উন্মাদ পবনে
মন্দারমঞ্জরী,
দলে দলে নরনারী ছুটে এল গৃহদ্বার খুলি
লয়ে বীণা বেণু—
মাতিয়া পাগল নৃত্যে হাসিয়া করিল হানাহানি
ছুঁড়ি পুষ্পরেণু।
সখা, সেই অতিদূর সদ্যোজাত আদি মধুমাসে
তরুণ ধরায়
এনেছিলে যে কুসুম ডুবাইয়া তপ্ত কিরণের
স্বর্ণমদিরায়,
সেই পুরাতন সেই চিরন্তন অনন্ত প্রবীণ
নব পুষ্পরাজি
বর্ষে বর্ষে আনিয়াছ— তাই লয়ে আজো পুনর্বার
সাজাইলে সাজি।
তাই সে পুষ্পে লিখা জগতের প্রাচীন দিনের
বিস্মৃত বারতা,
তাই তার গন্ধে ভাসে ক্লান্ত লুপ্ত লোকলোকান্তের
কান্ত মধুরতা।

তাই আজি প্রস্ফুটিত নিবিড় নিকুঞ্জবন হতে
উঠিছে উচ্ছ্বাসি
লক্ষ দিনযামিনীর যৌবনের বিচিত্র বেদনা,
অশ্রু গান হাসি।

চলছি উধাও, বল্গাহারা- ঝড়ের বেগে ছুটে
শিকল কে সে বাঁধছে পায়ে!
কোন্‌ সে ডাকাত ধরছে চেপে টুটি!
-আঁধার আলোর সাগরশেষে
প্রেতের মতো আসছে ভেসে!
আমার দেহের ছায়ার মতো, জড়িয়ে আছে মনের সনে,
যেদিন আমি জেগেছিলাম, সেও জেগেছে আমার মনে!
আমার মনের অন্ধকারে
ত্রিশূলমূলে, দেউলদ্বারে
কাটিয়েছে সে দুরন্ত কাল ব্যর্থ পূজার পুষ্প ঢেলে!
স্বপন তাহার সফল হবে আমায় পেলে, আমায় পেলে!
রাত্রিদিবার জোয়ার স্রোতে
নোঙরছেঁড়া হৃদয় হ’তে
জেগেছে সে হালের নাবিক
চোখের ধাধায় ঝড়ের ঝাঁঝে
মনের মাঝে মানের মাঝে
আমার চুমোর অন্বেষণে
প্রিয়ার মতো আমার মনে
অঙ্কহারা কাল ঘুরেছে কাতর দুটি নয়ন তুলে,
চোখের পাতা ভিজিয়ে তাহার আমার অশ্রুপাথার-কূলে!
ভিজে মাঠের অন্ধকারে কেঁদেছে মোর সাথে
হাতটি রেখে হাতে!
দেখিনি তার মুখখানি তো,
পাইনি তারে টের,
জানি নি হায় আমার বুকে আশেক-অসীমের
জেগে আছে জনমভোরের সূতিকাগার থেকে!
কত নতুন শরাবশালায় নাবনু একে একে!
সরাইখানার দিলপিয়ালায় মাতি
কাটিয়ে দিলাম কত খুশির রাতি!
জীবন-বীণার তারে তারে আগুন-ছড়ি টানি
গুঞ্জরিয়া এল-গেল কত গানের রানি,
নাশপাতি-গাল গালে রাখি কানে কানে করলে কানাকানি
শরাব-নেশায় রাঙিয়ে দিল আঁখি!
-ফুলের ফাগে বেহুঁশ হোলি নাকি!
হঠাৎ কখন স্বপন-ফানুস কোথায় গেল উড়ে!
-জীবন মরু- মরীচিকার পিছে ঘুরে ঘুরে
ঘায়েল হয়ে ফিরল আমার বুকের কেরাভেন-
আকাশ-চরা শ্যেন!
মরুঝড়ের হাহাকারে মৃগতৃষার লাগি
প্রাণ যে তাহার রইল তবু জাগি
ইবলিশেরই সঙ্গে তাহার লড়াই-হল শুরু!
দরাজ বুকে দিল্‌ যে উড়–উড়-!
ধূসর ধু ধু দিগন্তরে হারিয়ে যাওয়া নার্গিসেই শোভা
থরে থরে উঠল ফুটে রঙিন-মনোলোভা!
অলীক আশার, দূর-দুরশার দুয়ার ভাঙার তরে
যৌবন মোর উঠল নেচে রক্তমুঠি, ঝড়ের ঝুঁটির পরে!
পিছে ফেলে টিকে থাকার ফাটকে কারাগারে
ভেঙে শিকল ধ্বসিয়ে ফাঁড়ির দ্বার
চলল সে যে ছুটে!
শৃঙ্খল কে বাধল তাহার পায়ে-
চুলের ঝুটি ধরল কে তার মুঠে!
বর্শা আমার উঠল ক্ষেপে খুনে,
হুমকি আমার উঠল বুকে রুখে!
দুশমন কে পথের সুমুখে
-কোথায় কে বা!
এ কোন মায়া
মোহ এমন কার!
বুকে আমার বাঘের মতো গর্জাল হুঙ্কার!
মনের মাঝের পিছুডাকা উঠল বুঝি হেঁকে-
সে কোন সুদূরে তারার আলোরে থেকে
মাথার পরের খা খা মেঘের পাথারপুরী ছেড়ে
নেমে এল রাত্রিদিবার যাত্রাপথে কে রে!
কী তৃষা তার!
কী নিবেদন!
মাগছে কিসের ভিখ্‌!
উদ্যত পথিক
হঠাৎ কেন যাচ্ছে থেমে-
আজকে হঠাৎ থামতে কেন হয়!
-এই বিজয়ী কার কাছে আজ মাগছে পরাজয়!
পথ- আলেয়ার খেয়ায় ধোঁয়ায় ধ্রুবতারার মতন কাহার আঁখি
আজকে নিল ডাকি
হালভাঙা এই ভুতের জাহাজটারে!
মড়ার খুলি-পাহাড়প্রমাণ হাড়ে
বুকে তাহার জ’মে গেছে কত শ্মশান-বোঝা!
আক্রোশে হা ছুটছিল সে একরোখা, এক সোজা
চুম্বকেরই ধ্বংসগিরির পানে,
নোঙরহারা মাস্তুলেরই টানে!
প্রেতের দলে ঘুরেছিল প্রেমের আসন পাতি,
জানে কি সে বুকের মাঝে আছে তাহার সাথী!
জানে কি সে ভোরের আকাশ, লক্ষ তারার আলো
তাহার মনের দূয়ারপথেই নিরিখ হারালো!
জানি নি সে তোহার ঠোঁটের একটি চুমোর তরে
কোন্‌ দিওয়ানার সারেং কাঁদে
নয়নে নীর ঝরে!
কপোত-ব্যথা ফাটে রে কার অপার গগন ভেদি!
তাহার বুকের সীমার মাঝেই কাঁদছে কয়েদি
কোন্‌ সে অসীম আসি!
লক্ষ সাকীর প্রিয় তাহার বুকের পাশাপাশি
প্রেমের খবর পুছে
কবের থেকে কাঁদতে আছে-
‘পেয়ালা দে রে মুঝে!’

মহামৈত্রীর বরদ-তীর্থে-পুণ্য ভারতপুরে
পূজার ঘন্টা মিশিছে হরষে নমাজের সুরে-সুরে!
আহ্নিক হেথা শুরু হয়ে যায় আজান বেলার মাঝে,
মুয়াজ্জেনদের উদাস ধ্বনিটি গগনে গগনে বাজে,
জপে ঈদগাতে তসবি ফকির, পূজারী মন্ত্র পড়ে,
সন্ধ্যা-উষার বেদবাণী যায় মিশে কোরানের স্বরে;
সন্ন্যাসী আর পীর
মিলে গেছে হেথা-মিশে গেছে হেথা মসজিদ , মন্দির!

কে বলে হিন্দু বসিয়া রয়েছে একাকী ভারত জাঁকি?
-মুসলমানের হসে- হিন্দু বেঁধেছে মিলন-রাখী;
আরব মিশর তাতার তুর্কী ইরানের চেয়ে মোরা
ওগো ভারতের মোসলেমদল, তোমাদের বুক-জোড়া!
ইন্দ্র প্রস্থ ভেঙেছি আমরা, আর্যাবর্ত ভাঙি
গড়েছি নিখিল নতুন ভারত নতুন স্বপনে রাঙি!
নবীন প্রাণের সাড়া
আকাশে তুলিয়া ছুটিছে মুক্ত যুক্তবেণীর ধারা!

রুমের চেয়েও ভারত তোমার আপন, তোমার প্রাণ!
হেথায় তোমার ধর্ম অর্থ, হেথায় তোমার ত্রাণ;
হেথায় তোমার আশান ভাই গো, হেথায় তোমার আশা;
যুগ যুগ ধরি এই ধূলিতলে বাঁধিয়াছ তুমি বাসা,
গড়িয়াছ ভাষা কল্পে-কল্পে দরিয়ার তীরে বসি,
চক্ষে তোমার ভারতের আলো-ভারতের রবি, শশী,
হে ভাই মুসলমান
তোমাদের তরে কোল পেতে আছে ভারতের ভগবান!

এ ভারতভূমি নহেকো তোমার, নহকো আমার একা,
হেথায় পড়েছে হিন্দুর ছাপ- মুসলমানের রেখা,
হিন্দু মনীষা জেগেছে এখানে আদিম উষার ক্ষণে,
ইন্দ্রদ্যুম্নে উজ্জয়িনীতে মথুরা বৃন্দাবনে!
পাটলিপুত্র শ্রাবস্তী কাশী কোশল তক্ষশীলা।
অজন্তা আর নালন্দা তার রটিছে কীর্তিলীলা!
ভারতী কমলাসীনা
কালের বুকেতে বাজায় তাহার নব প্রতিভার বীণা!

এই ভারতের তখতে চড়িয়া শাহানশাহার দল
স্বপ্নের মণিপ্রদীপে গিয়েছে উজলি আকাশতল!
গিয়েছে তাহার কল্পলোকের মুক্তার মালা গাঁথি
পরশে তাদের জেগেছে আরব উপন্যাসের রাতি!
জেগেছে নবীন মোগল-দিল্লি-লাহোর-ফতেহপুর
যমুনাজলের পুরানো বাঁশিতে বেজেছে নবীন সুর!
নতুন প্রেমের রাগে
তাজমহলের তরুণিমা আজও উষার আরুণে ‌জাগে!

জেগেছে হেথায় আকবরী আইন-কালের নিকষ কোলে
বারবার যার উজল সোনার পরশ উঠিল জ্বলে।
সেলিম, সাজাহাঁ- চোখের জলেতে এক্‌শা করিয়া তারা
গড়েছে মীনার মহলা স্তম্ভ কবর ও শাহদারা!
ছড়ায়ে রয়েছে তন্দ্রাবিহীন-অপলক, অপরূপ!
যেন মায়াবীর তুড়ি
স্বপনের ঘোরে ত্বব্ধ করিয়া রেখেছে কনকপুরী!

মোতিমহলের অযুত রাত্রি, লক্ষ দীপের ভাতি
আজিও বুকের মেহেরাবে যেন জ্বালায়ে যেতেছে বাতি-
আজিও অযুত বেগম-বাঁদীর শষ্পশয্যা ঘিরে
অতীত রাতের চঞ্চল চোখ চকিতে যেতেছে ফিরে!
দিকে দিকে আজও বেজে ওঠে কোন্‌ গজল-ইলাহী গান!
পথহারা কোন্‌ ফকিরের তানে কেঁদে ওঠে সারা প্রাণ!
-নিখিল ভারতময়
মুসলমানের স্বপন-প্রেমের গরিমা জাগিয়া রয়!

এসেছিল যারা ঊষর ধুসর মরুগিরিপথ বেয়ে,
একদা যাদের শিবিরে সৈন্যে ভারত গেছিল ছেয়ে,
আজিকে তাহারা পড়শি মোদের, মোদের বহিন-ভাই;
আমাদের বুকে বক্ষে তাদের ,আমাদের কোলে ঠাঁই
কাফের যবন টুটিয়া গিয়াছে ছুটিয়া গিয়াছে ঘৃণা,
মোস্‌লেম্‌ বিনা ভারত বিকল, বিফল হিন্দু বিনা
মহামৈত্রীর গান
বাজিছে আকাশে নব ভারতের গরিমায় গরীয়ান!

কবি’র সূচী

অগাষ্ট 2014
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র
« ফেব্রু    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 321 other followers

%d bloggers like this: