You are currently browsing the monthly archive for মে 2008.

গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের

জলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট

          উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায়

 

বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে

নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো

          হৃদয়ের সোনালি তন্তুর সুক্ষ্মতায়

বর্ষীয়সী জননী সে-শার্ট

উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে

 

ডালিম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দুর-শোভিত

মায়ের উঠোন ছেড়ে এখন সে-শার্ট

          শহরের প্রধান সড়কে

          কারখানার চিমনি-চুড়োয়

          গমগমে এভেন্যুর আনাচে কানাচে

উড়ছে, উড়ছে অবিরাম

আমাদের হৃদয়ের রৌদ্র-ঝলসিত প্রতিধ্বনিময় মাঠে,

চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়

 

আমাদের দূর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা

সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;

আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

স্মৃতির স্নায়ুরা দীপ্র কুকুরের দাঁত,

বিষদাঁত বিঁধিয়েছে অস্তিত্বের পায়ে,

রক্তে সেই যন্ত্রণার আততায়ী তাত

উন্মাদ পাক খায়; ডাইনে আর বাঁয়ে

বিভীষিকা-জলাতঙ্ক-বিকল স্নায়ুরা:

ভয়াল কুকুর দিনেরাত্রে ছুটে আসে;

দুচোখে বেঁধেছে বাসা কুটিল মৃত্যুরা,

ক্ষিপ্ত কুকুরের মুখ চোখে শুধু ভাসে।

 

স্মৃতির স্নায়ুরা দীর্ণ জীবিত করাত-

অহোরাত্র ঘুরে যায় মাংসের নিচে,

শরীরের খাঁজে তার আততায়ী দাঁত

ছিঁড়ে নেয় মেদ ত্বক ক্ষুধার্ত কিরিচে।

নিদ্রাহীন অন্ধকার সামনে পিছনে

টুঁটি চেপে ধরে আছে আমার আয়ুর;

কান্তা, তুমি তো ছিলে জীবনের গানে:

সে স্মৃতিরা ছেঁড়ে আজ স্বপ্ন স্নায়ুর।

নানা গোপনতার মধ্যে আমি বাস করি,

আমার পায়ের আঙুলে রেগে নুড়ি বাজলে আমি শুনি ঝর্ণা

সে-আওয়াজ কি আর কারো কাছে পৌঁছয়?

একটা ঝিঁঝির ডাক যেই ওঠে সারা বন অন্ধকারে দুলতে থাকে

আর সারা শুন্য গাছপালার কথা চালাচালিতে ভরে যায়,

ছড়িয়ে পড়ে অরণ্যের ছায়া তারপর কাঁকরমাটির সবুজ

পাহাড় আঁকড়ে-ধরা শেকড়ের খবর আসে,

আমি তা বুকে চেপে রাখি। কেউ কি তা জানে?

কেই-বা জানে আমার রাজ্য-সমাচার?

অনেক গোপনতা ধরে রাখার ফন্দিও আমার অনেক,

যখন চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে শিরাতন্তু থেকে

আমি হোহো হাসিতে চমকে দিচ্ছি আকাশ,

দ্যাখো দ্যাখো কী ফুর্তিবাজ বলে কত হাততালি জোটে

তখন আমি যেন জয়গর্বে আরো ফুর্তিবাজ হয়ে উঠি,

আমি যে সময়ের চকচকে ধারের উপর পা রেখে হাঁটছি

আমি যে এগিয়ে যাচ্ছি প্রকাণ্ড পাথরচাঙের ফাঁকে

সে-কথা কাওকে আমি জানতে দিই না। কেন দেব?

আমি তো জীবনমরণ খেলায় কাওকে আমার শরিক করিনি।

আমার গোপনতা নিয়ে আমি আছি

সবাই দেখছে চিকচিক চোখের কোণ ঠোঁটের বাঁকা টান

আর আমি দেখছি মুহুর্মুহু মেঘবিদ্যুৎ

বুকের মধ্যে শুনছি সমস্ত ওলটপালটের বাজনা,

গোপনতায় আমি বুঁদ হয়ে আছি।

১.

থাকুক তোমার একটু স্মৃতি থাকুক

একলা থাকার খুব দুপুরে

একটি ঘুঘু ডাকুক

 

২.

দিচ্ছো ভীষণ যন্ত্রণা

বুঝতে কেন পাছো না ছাই

মানুষ আমি, যন্ত্র না!

 

৩.

চোখ কেড়েছে চোখ

উড়িয়ে দিলাম ঝরা পাতার শোক

তুমি তো জল-ছবি নও,

তবে-

মৃদু বাতাসেই কেন এলামেলো হও?

বলো, কার প্রতীক্ষায় আছো হে আমার দুঃখী শব্দাবলী?

আমার ভেতরে নিশিদিন অগণিত শিশু

পাঠশালা যায় আসে বানায় রঙিন স্বপ্ন কবিতার বই

নিপুণ বাঁধাই জরিমোড়া।

নিশিদিন আমার ভেতরে শব্দ নিয়ে লুফোলুফি হয়

কৌতুক জলসায় মাতে গ্রাম্যবধুরা লোকালয়ে, স্বার্থপর

পারিনি তাদের আমি পরাতে এখনো কোনো

সুনিপুন পোশাক-আশাক, পারিনি দুলাতে আজো

কর্ণমূলে লোভনীয় কোনো মণিহার।

 

কার প্রতীক্ষায় কাটে বেলা? আমার আকাশে ওঠে

অগণিত জ্বলজ্বলে তারা, ওঠে চাঁদ মধ্য-রজনীতে

কোনোদিন ঢেলে দেয় জোৎস্না ঘরময়,

কুয়াশায় ভিজে বুক নাভিমূলে কোমল-কোমল পেলবতা

আড়ষ্ট কপোল-জোড় ভেজাই আদরে নির্দ্বিধায়,

বুলাতে পারিনি তবু পরিত্যক্ত শিয়রে তাদের

কোনোদিনও মোমের আঙুল।

 

বলো কার প্রতীক্ষায় হে আমার শব্দাবলী গনগনে

জাগ্রত শিশুর কান্না শুনে কাটাও রজনী অবিশ্রাম?

ভেতরে আমার নিশিদিন পদধ্বনি বেজে ওঠে কার,

কার নিত্য আগমন আমাকে ভুলিয়ে রেখে বেশ

নিয়মিত ঘর-গেরস্থালী সাজায় আদরে,বলো

কার প্রতীক্ষায় আছো হে আমার দুঃখী শব্দাবলী

ঘুমহীন?

 

মে 2008
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র
« এপ্রি   জানু »
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.