হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধুসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।
সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে-সব নদী-ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

3 comments
Comments feed for this article
ফেব্রুয়ারি 17, 2012 Project Management 9:22 অপরাহ্ন
প্ৰাঞ্জল চোলাধৰা
এই কবিতাটো সৰুতেই মুখস্থ কৰি পেলাইছিলো। আজি ৱেবছাইটত কবিতাটো পাই অন্য এক পুলক অনুভৱ কৰিছোঁ।
সেপ্টেম্বর 28, 2011 Project Management 8:24 অপরাহ্ন
ইমরোজ আহমদ
কিছু লেখবার নাই…কিছু বলবার নাই…শুধু ভালোবাসা রেখে যাই!
ফেব্রুয়ারি 19, 2011 Project Management 12:25 অপরাহ্ন
Sabuj Ahmed
অসাধারন একটি কবিতাই নয় একটি কিংবদন্তি।