You are currently browsing the category archive for the ‘অ-ও’ category.

স্মৃতির স্নায়ুরা দীপ্র কুকুরের দাঁত,

বিষদাঁত বিঁধিয়েছে অস্তিত্বের পায়ে,

রক্তে সেই যন্ত্রণার আততায়ী তাত

উন্মাদ পাক খায়; ডাইনে আর বাঁয়ে

বিভীষিকা-জলাতঙ্ক-বিকল স্নায়ুরা:

ভয়াল কুকুর দিনেরাত্রে ছুটে আসে;

দুচোখে বেঁধেছে বাসা কুটিল মৃত্যুরা,

ক্ষিপ্ত কুকুরের মুখ চোখে শুধু ভাসে।

 

স্মৃতির স্নায়ুরা দীর্ণ জীবিত করাত-

অহোরাত্র ঘুরে যায় মাংসের নিচে,

শরীরের খাঁজে তার আততায়ী দাঁত

ছিঁড়ে নেয় মেদ ত্বক ক্ষুধার্ত কিরিচে।

নিদ্রাহীন অন্ধকার সামনে পিছনে

টুঁটি চেপে ধরে আছে আমার আয়ুর;

কান্তা, তুমি তো ছিলে জীবনের গানে:

সে স্মৃতিরা ছেঁড়ে আজ স্বপ্ন স্নায়ুর।

নানা গোপনতার মধ্যে আমি বাস করি,

আমার পায়ের আঙুলে রেগে নুড়ি বাজলে আমি শুনি ঝর্ণা

সে-আওয়াজ কি আর কারো কাছে পৌঁছয়?

একটা ঝিঁঝির ডাক যেই ওঠে সারা বন অন্ধকারে দুলতে থাকে

আর সারা শুন্য গাছপালার কথা চালাচালিতে ভরে যায়,

ছড়িয়ে পড়ে অরণ্যের ছায়া তারপর কাঁকরমাটির সবুজ

পাহাড় আঁকড়ে-ধরা শেকড়ের খবর আসে,

আমি তা বুকে চেপে রাখি। কেউ কি তা জানে?

কেই-বা জানে আমার রাজ্য-সমাচার?

অনেক গোপনতা ধরে রাখার ফন্দিও আমার অনেক,

যখন চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে শিরাতন্তু থেকে

আমি হোহো হাসিতে চমকে দিচ্ছি আকাশ,

দ্যাখো দ্যাখো কী ফুর্তিবাজ বলে কত হাততালি জোটে

তখন আমি যেন জয়গর্বে আরো ফুর্তিবাজ হয়ে উঠি,

আমি যে সময়ের চকচকে ধারের উপর পা রেখে হাঁটছি

আমি যে এগিয়ে যাচ্ছি প্রকাণ্ড পাথরচাঙের ফাঁকে

সে-কথা কাওকে আমি জানতে দিই না। কেন দেব?

আমি তো জীবনমরণ খেলায় কাওকে আমার শরিক করিনি।

আমার গোপনতা নিয়ে আমি আছি

সবাই দেখছে চিকচিক চোখের কোণ ঠোঁটের বাঁকা টান

আর আমি দেখছি মুহুর্মুহু মেঘবিদ্যুৎ

বুকের মধ্যে শুনছি সমস্ত ওলটপালটের বাজনা,

গোপনতায় আমি বুঁদ হয়ে আছি।

: আপনারা যাচ্ছেন বুঝি?

: চলে যাচ্ছি, মালপত্র উঠে গেছে সব।

: বছর দুয়েক হলো, তাই নয়?

: তারো বেশি। আপনার ডাকনাম শানু, ভালো নাম?

: শাহানা, আপনার?

: মাবু।

: জানি।

: মাহবুব হোসেন। আপনি খুব ভালো সেলাই জানেন।

: কে বলেছে। আপনার তো অনার্স ফাইনাল, তাই নয়?

: এবার ফাইনাল

: ফিজিক্স-এ অনার্স।

: কি আশ্বর্য। আপনি কেন ছাড়লেন হঠাৎ?

: মা চান না। মানে ছেলেদের সঙ্গে বসে…

: সে যাক গে, পা সেরেছে?

: কি করে জানলেন?

: এই আর কি। সেরে গেছে?

: ও কিছু না, প্যাসেজটা পিছল ছিলো মানে…

: সত্যি নয়। উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে…

: ধ্যাৎ। খাবার টেবিলে রোজ মাকে অতো জ্বালানো কি ভালো?

: মা বলেছে?

: শুনতে পাই? বছর দুয়েক হলো, তাই নয়?

: তারো বেশি। আপনার টবের গাছে ফুল এসেছে?

: নেবেন? না থাক। রিকসা এলো, মা এলেন, যাই।

: যাই। আপনি সন্ধেবেলা ওভাবে পড়বেন না,

  চোখ যাবে, যাই।

: হলুদ শার্টের মাঝখানে বোতাম নেই, লাগিয়ে নেবেন, যাই।

: যান, আপনার মা আসছেন। মা ডাকছেন, যাই।

অতটুকু চায়নি বালিকা!

অত শোভা, অত স্বাধীনতা!

চেয়েছিল আরো কিছু কম,

 

আয়নার দাঁড়ে দেহ মেলে দিয়ে

বসে থাকা সবটা দুপুর, চেয়েছিল

মা বকুক, বাবা তার বেদনা দেখুক!

 

অতটুকু চায়নি বালিকা!

অত হৈ রৈ লোক, অত ভীড়, অত সমাগম!

চেয়েছিল আরো কিছু কম!

 

একটি জলের খনি

তাকে দিক তৃষ্ণা এখনি, চেয়েছিল

 

একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণী!

 

মায়ের কাছে সন্তানের অঙ্গীকার,

তোমার জন্য কথার ঝুড়ি নিয়ে

তবেই না বাড়ি ফিরবো

লক্ষী মা, রাগ করো না,

মাত্রতো আর কটা দিন।

 

সেদিন সকালের রোদে

কৃষ্ণচূড়ার আবির

আকাশের চূড়ায় লালঝুটি।

 

সেগুন ফুলের আঘ্রাণ গায়ে মেখে

রুপালি মাছের মতো

উজানে সাঁতার কেটে

ওরা আসে

এক-দুই-দশটি পাঁপড়িতে

যুথবদ্ধ রক্তকমল।

 

পরনে বর্ণমালার নামাবলী

দৃষ্টিতে সবুজ হাওয়ার মুকুল

ধমণীতে নির্ঝরের জলতরঙ্গ

হৃদয়ে মায়ের দুধের শিশির

কণ্ঠে শিমুল ফুলের আনন্দ।

 

ওরা যখন গান করে

কখনো নক্ষত্রের মতো উচ্চকিত

কখনো শিশিরের মতো নিঃশব্দ

কখনো মাটির শিকর আন্দোলিত

কখনো মায়ের চোখ ভিজে যায়।

 

তখন বেতের ফলের মতো বিপন্ন রোদ

মায়ের আঁচলে শাবকের মতো বেড়ে ওঠে

দৃষ্টিহীন অন্ধকার হিরন্ময় সুনেত্র

মৃত্যুর চৌকাঠে পলাশের বৈভব

এবং কুয়াশার মানুষ স্পর্ধিত মধ্যাহ্ণ।

 

হাওয়ায় মৃত্যুর গন্ধ

ব্যাধের কুটিল চক্রান্তে

সুপুরুষ পাখিরা নিহত

জননীর পুত্র নিরুদ্দিষ্ট

বোবা বয়াতি

কাগজের চোখে কথা বলে

ছবির একতারায় গান বাধে।

 

তারপর বিষন্ন শালিকের মতো

প্রবীণ দরোজায় সাবধানের শৃঙ্খল।

 

কৃষ্ণচূড়া আবার বেড়া ভাঙে

লোহার বেড়া

কখনো কমলের চোখের মত উৎক্ষিপ্ত

কখনো সহস্র ক্ষতের মতো প্রস্ফুটিত

কখনো উল্কার মতো অগ্নিগর্ভ।

 

এবং বাধেঁর ঘাস  দাতে কেটে

অনায়াসে ভেদ করে শত্রুর ব্যুহ-

ছেঁড়া অন্ধ পোড়া চোখ স্ফুরিত অধর

গান গায় বিজয়ের গান।

তারপর যাহা থাকে যাহা কিছু অবশিষ্ট

প্রায় ঠোঁট প্রায় মুখ অথবা গোলাপ

সুফলা পলির মতো মেঘনার পাড়ে শুয়ে থাকে।

 

যারা ভালোবাসে

তারা যুদ্ধে যায়

যারা যুদ্ধে যায়

সকলে ফিরে আসে না

এবং যারা মায়ের কাছে ফিরে আসে

তাদের ঝুলিতে বর্ণমালার নুপুর

ঢেঁকিতে কিশোরী পা

ডুরে শাড়ি ঘাসের ফড়িং।

 

তখন জোনাকির মতো বৃষ্টি নামে

ধানের ক্ষেতে শামুক ওঠে

প্রবীণ বয়াতি একতারায় গান বাধেঁ,

সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান

কবিতা

রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ

কবিতা।

 

 

 

মে 2012
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র
« এপ্রি    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.