You are currently browsing the category archive for the ‘জীবনানন্দ দাশ’ category.

Go where you will – I shall remain on Bengal’s shore
Shall see jackfruit leaves dropping in the dawn’s breeze;
Shall see the brown wings of shalik chill in the evening,
Its yellow leg under the white down goes on dancing
In the grass, darkness – once, twice – and then suddenly
The forest’s oak beckons it to its heart’s side,
Shall see sad feminine hands – white conch-bangles
Crying like conch shells in the ash-grey wind:
She stands on the pond’s side in the evening,

As if she will take the parched rice hued duck
To some land of legends –
As if the fragrance of the quiltcover clings to her body,
As if she is born out of watercress in the pond’s nest –
Washes her feet silently – then goes faraway, traceless
In the fog – yet I know I shall not lose her
In the crowd of the earth –
She is there on my Bengal’s shore.

(Sonnet 3, Rupashi Bangla)

সুরঞ্জনা, অইখানে যেয়োনাকো তুমি,
বোলোনাকো কথা অই যুবকের সাথে ;
ফিরে এসো সুরঞ্জনা :
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে ;

ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে ;
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার ;
দূর থেকে দূরে – আরও দূরে
যুবকের সাথে তুমি যেয়োনাকো আর ।

কী কথা তাহার সাথে ? – তার সাথে !
আকাশের আড়ালে আকাশে
মৃত্তিকার মতো তুমি আজ :
তার প্রেম ঘাস হয়ে আসে ।

সুরঞ্জনা,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস :
বাতাসের ওপারে বাতাস­
আকাশের ওপারে আকাশ ।

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দয়েলপাখি – চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম – বট – কাঁঠালের – হিজলের – অশথের করে আছে চুপ ;
ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে ;
মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে
এমনই হিজল – বট – তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ

দেখেছিল ; বেহুলাও একদিন গাঙুড়ের জলে ভেলা নিয়ে -
কৃষ্ণা – দ্বাদশীর জোৎস্না যখন মরিয়া গেছে নদীর চড়ায় -
সোনালি ধানের পাশে অসংখ্য অশ্বত্থ বট দেখেছিল, হায়,
শ্যামার নরম গান শুনেছিল – একদিন অমরায় গিয়ে
ছিন্ন খঞ্জনার মতো যখন সে নেচেছিল ইন্দ্রের সভায়
বাংলার নদ – নদী – ভাঁটফুল ঘুঙুরের মতো তার কেঁদেছিল পায় ।

আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি এই ঘাসে
ব’সে থাকি; কামরাঙা লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মর্তো
গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে- আসিয়াছে শান্ত অনুগত
বাংলার নীল সন্ধ্যা- কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে;
আমার চোখের ’পরে আমার মুখের ‘পরে চুল তার ভাসে;
পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখেনিকো- দেখি নাই অত
অজস্র চুলের চুমা হিজলে কাঁঠালে জামে ঝরে অবিরত,
জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে রূপসীর চুলের বিন্যাসে

পৃথিবীর কোনো পথে: নরম ধানের গন্ধ- কলমীর ঘ্রাণ,
হাঁসের পালক, শর, পুকুরের জল, চাঁদা সরপুটিদের
মৃদু ঘ্রাণ, কিশোরীর চাল-ধোয়া ভিজে হাত- শীত হাতখান,
কিশোরের পায়ে-দলা মুথাঘাস, -লাল লাল বটের ফলের
ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা- এরি মাঝে বাংলার প্রাণ:
আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি পাই টের।

ছেলে: আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি এই ঘাসে

ব’সে থাকি; বাংলার নীল সন্ধ্যা-কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে;

আমার চোখের পরে আমার মুখের পরে চুল তার ভাসে;

পৃথিবীর কোনো পথে এ কন্যারে দেখিনিকো-দেখি নাই অত

অজস্রচুলের চুমা হিজলে, কাঁঠালে , জামে ঝরে অবিরত,

জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে রূপসীর চুলের বিন্যাসে।

 

মেয়ে: পৃথিবীর কোনো পথে: নরম ধানের গন্ধ-কলমীর ঘ্রাণ,

কিশোরের পায়ের- দলা মুথাঘাস, – লাল লাল বটের ফলের

ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা- এরই মাঝে বাংলার প্রাণ ।

আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি পাই টের।

 

ছেলে: আবার আকাশে অন্ধকার ঘন হয়ে উঠেছে :

যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছে

অথচ যার মুখ আমি কোনোদিন দেখিনি, /সেই নারীর মতো

ফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়ে উঠেছে।

 

মেয়ে: ফাল্গুনের অন্ধকার নিয়ে আসে সেই সমুদ্রপারের কাহিনী,

রামধনু রঙের কাচের জানালা,

ময়ূরের পেখমের মতো রঙিন পর্দায় পর্দায়

কক্ষ ও কক্ষান্তর থেকে আরো দুর কক্ষ ও কক্ষান্তরের

ক্ষণিক আভাস-

 

আয়ুহীন স্তব্ধতা ও বিস্ময়!

তোমার নগ্ন নির্জন হাত ।

 

ছেলে: রাতের বাতাস আসে

আকাশের নক্ষত্রগুলো জ্বলন্ত হয়ে ওঠে

যেন কারে ভালোবেসেছিলাম-

সমস্ত শরীর আকাশ রাত্রি নক্ষত্র-উজ্জ্বল হয়ে উঠছে তাই

আমি টের পাই সেই নগ্ন হাতের গন্ধের

সেই মহানুভব অনিঃশেষ আগুনের

রাতের বাতাসে শিখানীলাভ এই মানবহৃদয়ের

সেই অপর মানবীকে।

      সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে, বলিল:

 

মেয়ে: তোমারে চাই :

      বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ 

      খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি- কুয়াশার পাখনায়-

সন্ধ্যার নদীর জলে নামে যে আলোক

জোনাকির দেহ হতে- খুঁজেছি তোমারে সেইখানে-

 

ছেলে: নতুন সৌন্দর্য এক দেখিয়াছি- সকল অতীত

ঝেড়ে ফেলে- নতুন বসন্ত এক এসেছে জীবনে ;

শালিখেরা কাঁপিতেছে মাঠে মাঠে- সেইখানে শীত

শীত শুধু- তবুও আমার বুকে হৃদয়ের বনে

কখন অঘ্রান রাত শেষ হ’ল- পৌষ গেল চ’লে

যাহারে পাইনি রোমে বেবিলনে, সে এসেছে ব’লে।

 

মেয়ে: তুমি এই রাতের বাতাস ,বাতাসের সিন্ধু-ঢেউ

তোমার মতন কেউ নাই আর।

অন্ধকার নিঃসাড়তার  মাঝখানে

তুমি আনো প্রাণে .সমুদ্রের ভাষা,

ব্যথিত জলের মতন,

রাতের বাতাস তুমি,- বাতাসের সিন্ধু- ঢেউ,

তোমার মতন কেউ নাই আর।

 

ছেলে: তোমার মুখের দিকে তাকালে এখনো

আমি সেই পৃথিবীর সমুদ্রের নীল,

নক্ষত্র, রাত্রির জল, যুবাদের ক্রন্দন সব-

শ্যামলী, করেছি অনুভব।        

তোমার সৌন্দর্য নারি, অতীতের দানের মতন।

ধর্মাশোকের স্পষ্ট আহ্বানের মতো

আমাদের নিয়ে যায় ডেকে

      তোমার মুখের স্নিগ্ধ প্রতিভার পানে।

 

মেয়ে: আমরা কিছু চেয়েছিলাম প্রিয়;

নক্ষত্র মেঘ আশা আলোর ঘরে

ঐ পৃথিবীর সূর্যসাগরে, ভেবেছিলাম,

পেয়ে যাবে প্রেমের স্পষ্ট গতি

সত্য সূর্যালোকের মতন;-

 

ছেলে: সবার ওপর তোমার আকাশপ্রতিম মুখে রয়েছে

সফল সকালের রৌদ্র।

সৃষ্টি ও সমাজের বিকেলের অন্ধকারের ভিতর

সকালবেলার প্রথম সূর্য-শিশিরের মতো সেই মুখ ;

জানে না কোথায় ছায়া পড়েছে আমার জীবনে,

সমস্ত অমৃতযোগের অন্তরীক্ষে।

আমাদের ভালোবাসা পথ কেটে নেবে এই পৃথিবীতে ;-

আমরা দুজনে এই বসে আছি আজ-ইচ্ছাহীন ;-

শালিক পায়রা মেঘ পড়ন্ত বেলার এই দিন

চারিদিকে ;-

এখানে গাছের পাতা যেতেছে হলুদ হ’য়ে- নিঃশব্দে উল্কার মতো ঝ’রে

     একদিন তুমি এসে তবু এই হলুদ আঁচল রেখে ঘাসের ভিতরে শান্তি পাবে ।

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,

যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;

যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই-প্রীতি নেই-করুনার আলোড়ন নেই

পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।

যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি,

এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়

মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা

শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।

 

মে 2012
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র
« এপ্রি    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.