You are currently browsing the category archive for the ‘প-ম’ category.

তুমি তো জল-ছবি নও,

তবে-

মৃদু বাতাসেই কেন এলামেলো হও?

বলো, কার প্রতীক্ষায় আছো হে আমার দুঃখী শব্দাবলী?

আমার ভেতরে নিশিদিন অগণিত শিশু

পাঠশালা যায় আসে বানায় রঙিন স্বপ্ন কবিতার বই

নিপুণ বাঁধাই জরিমোড়া।

নিশিদিন আমার ভেতরে শব্দ নিয়ে লুফোলুফি হয়

কৌতুক জলসায় মাতে গ্রাম্যবধুরা লোকালয়ে, স্বার্থপর

পারিনি তাদের আমি পরাতে এখনো কোনো

সুনিপুন পোশাক-আশাক, পারিনি দুলাতে আজো

কর্ণমূলে লোভনীয় কোনো মণিহার।

 

কার প্রতীক্ষায় কাটে বেলা? আমার আকাশে ওঠে

অগণিত জ্বলজ্বলে তারা, ওঠে চাঁদ মধ্য-রজনীতে

কোনোদিন ঢেলে দেয় জোৎস্না ঘরময়,

কুয়াশায় ভিজে বুক নাভিমূলে কোমল-কোমল পেলবতা

আড়ষ্ট কপোল-জোড় ভেজাই আদরে নির্দ্বিধায়,

বুলাতে পারিনি তবু পরিত্যক্ত শিয়রে তাদের

কোনোদিনও মোমের আঙুল।

 

বলো কার প্রতীক্ষায় হে আমার শব্দাবলী গনগনে

জাগ্রত শিশুর কান্না শুনে কাটাও রজনী অবিশ্রাম?

ভেতরে আমার নিশিদিন পদধ্বনি বেজে ওঠে কার,

কার নিত্য আগমন আমাকে ভুলিয়ে রেখে বেশ

নিয়মিত ঘর-গেরস্থালী সাজায় আদরে,বলো

কার প্রতীক্ষায় আছো হে আমার দুঃখী শব্দাবলী

ঘুমহীন?

হাত পেতে আছি দাও

চোখ পেতে আছি দাও

বুক পেতে আছি দাও

 

অবহেলা দাও      অপেক্ষা দাও

বিশবাঁও জলে

আমাকে ডোবাও

তুলে এনে ফের

আমাকে ঘোরাও

যাক ঘুরে যাক

নাগর দোলাও

দাও তুমি দাও      অপমান দাও

চাও বা না চাও     নাও

পুড়ে খাঁটি সোনা নাও

আঁচলে বেঁধো না তাও

 

এতো তুচ্ছতা প্রাপ্য আমার?

সিঁড়ি খুঁজে চলি নরকে নামার।

অন্ধ ভ্রমর গেঁথেছে অমর

শব্দপুঞ্জ ডানায় তোমার

কী অর্থ তার বুঝবে কী আর!

সিঁড়ি খুঁজে চলি নরকে নামার।

শুধু ধ্রুবপদ তোমাকে দিলাম

ভালোবাসা নাও ভালোবাসা নাও

তোমার জন্য জীবন নিলাম

করেছি বলেই

শুধু শূন্যতা বিনিময়ে দাও…

 

হাত পেতে আছি দাও

চোখ পেতে আছি দাও

বুক পেতে আছি তাও…

বৃক্ষের ভাগ্যকে ঈর্ষা করি।

নিজের বেদনা থেকে নিজেই ফোটায় পুস্পদল।

নিজের কস্তুরী গন্ধে নিজেই বিহ্বল।

বিদীর্ণ বল্কলে বাজে বসন্তের বাঁশরী বারংবার

আত্মজ কুসুমগুলি সহস্র চুম্বনচিহ্নে অলংকৃত করে ওষ্ঠতল।

 

আমি একা ফুটিতে পারি না।

আমি একা ফোটাতে পারি না।

রক্তের বিষাদ থেকে একটি আরক্তিম কুসুমও।

আমাকে বৃক্ষের ভাগ্য তুমি দিতে পারো।

 

বহুজন্ম বসন্তের অম্লান মঞ্জুরী ফুটে আছো।

নয়নের পথে দীর্ঘ ছায়াময় বনবীথিতল

ওষ্ঠের পল্লব জুড়ে পুস্প বিচ্ছুরন।

আমাকে বৃক্ষের ভাগ্য তুমি দিতে পারো।

 

তুমি পারো করতলে তুলে নিতে আমার বিষাদ

ভিক্ষাপাত্র ভরে দিতে পারো তুমি অমর সম্ভারে

সর্বাঙ্গ সাজিয়ে আছো চন্দ্রালোকে, চন্দনের ক্ষেত।

আমার উদগত অশ্রু অভ্যথর্না করে নিতে

পারো না কি তোমার উদ্যানে?

 

মোহিনীরা স্বভাবে নির্মম।

আর যারা ভালোবাসে

তারা শুধু নিজেদের আত্মার ক্রন্দনে ক্লিষ্ট হয়।

যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি।

প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে

সূর্য ডোবে রক্তপাতে

সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন্য বিছানাতে।

একান্তে যার হাসির কথা হাসেনি।

যে টেলিফোন আসার কথা আসেনি।

 

অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা শাখেঁর উলু

একশ বনের বাতাস এসে একটা গাছে হুলুস্থুলু

আজ বুঝি তার ইচ্ছে আছে

ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে

দীঘির পাড়ে হারিয়ে যেতে সাঁতার জলের মত্ত নাচে।

এখনো কি ডাকার সাজে সাজেনি?

যে টেলিফোন বাজার কথা বাজেনি।

 

তৃষ্ণা যেন জলের ফোঁটা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি বাদল

তৃষ্ণা যেন ধূপের কাঠি গন্ধে আঁকে সুখের আদল

খাঁ খাঁ মনের সবটা খালি

মরা নদীর চড়ার বালি

অথচ ঘর দুয়ার জুড়ে তৃষ্ণা বাজায় করতালি

প্রতীক্ষা তাই প্রহরবিহীন

আজীবন ও সর্বজনীন

সরোবর তো সবার বুকেই, পদ্ম কেবল পর্দানশীন

স্বপ্নকে দেয় সর্বশরীর, সমক্ষে সে ভাসে না।

যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না।

তারপরও কথা থাকে;

বৃষ্টি হয়ে গেলে পর

ভিজে ঠাণ্ডা বাতাসের মাটি-মাখা গন্ধের মতন

আবছায়া মেঘ মেঘ কথা;

কে জানে তা কথা কিংবা

কেঁপে ওঠা রঙিন স্তব্ধতা।

 

সে কথা হবে না বলা তাকে:

শুধু প্রাণ ধারণের প্রতিজ্ঞা ও প্রয়াসের ফাঁকে ফাঁকে

অবাক হৃদয়

আপনার সঙ্গে একা-একা

সেই সব কুয়াশার মত কথা কয়।

অনেক আশ্বর্য কথা হয়তো বলেছি তার কানে।

হৃদয়ের কতটুকু মানে

তবু সে কথায় ধরে!

 

তুষারের মতো যায় ঝরে

সব কথা কোনো এক উত্তুঙ্গ শিখরে

আবেগের,

হাত দিয়ে হাত ছুঁই,

কথা দিয়ে মন হাতড়াই

তবু কারে কতটুকু পাই।

 

সব কথা হেরে গেলে

তাই এক দীর্ঘশ্বাস বয়,

বুঝি ভুলে কেঁপে ওঠে

একবার নির্লিপ্ত সময়।

 

তারপর জীবনের ফাটলে-ফাটলে

কুয়াশা জড়ায়

কুয়াশার মতো কথা হৃদয়ের দিগন্তে ছড়ায়।

 

মে 2012
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র
« এপ্রি    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.