You are currently browsing the category archive for the 'পুর্ণেন্দু পত্রী' category.

বৃক্ষের ভাগ্যকে ঈর্ষা করি।

নিজের বেদনা থেকে নিজেই ফোটায় পুস্পদল।

নিজের কস্তুরী গন্ধে নিজেই বিহ্বল।

বিদীর্ণ বল্কলে বাজে বসন্তের বাঁশরী বারংবার

আত্মজ কুসুমগুলি সহস্র চুম্বনচিহ্নে অলংকৃত করে ওষ্ঠতল।

 

আমি একা ফুটিতে পারি না।

আমি একা ফোটাতে পারি না।

রক্তের বিষাদ থেকে একটি আরক্তিম কুসুমও।

আমাকে বৃক্ষের ভাগ্য তুমি দিতে পারো।

 

বহুজন্ম বসন্তের অম্লান মঞ্জুরী ফুটে আছো।

নয়নের পথে দীর্ঘ ছায়াময় বনবীথিতল

ওষ্ঠের পল্লব জুড়ে পুস্প বিচ্ছুরন।

আমাকে বৃক্ষের ভাগ্য তুমি দিতে পারো।

 

তুমি পারো করতলে তুলে নিতে আমার বিষাদ

ভিক্ষাপাত্র ভরে দিতে পারো তুমি অমর সম্ভারে

সর্বাঙ্গ সাজিয়ে আছো চন্দ্রালোকে, চন্দনের ক্ষেত।

আমার উদগত অশ্রু অভ্যথর্না করে নিতে

পারো না কি তোমার উদ্যানে?

 

মোহিনীরা স্বভাবে নির্মম।

আর যারা ভালোবাসে

তারা শুধু নিজেদের আত্মার ক্রন্দনে ক্লিষ্ট হয়।

যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি।

প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে

সূর্য ডোবে রক্তপাতে

সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন্য বিছানাতে।

একান্তে যার হাসির কথা হাসেনি।

যে টেলিফোন আসার কথা আসেনি।

 

অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা শাখেঁর উলু

একশ বনের বাতাস এসে একটা গাছে হুলুস্থুলু

আজ বুঝি তার ইচ্ছে আছে

ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে

দীঘির পাড়ে হারিয়ে যেতে সাঁতার জলের মত্ত নাচে।

এখনো কি ডাকার সাজে সাজেনি?

যে টেলিফোন বাজার কথা বাজেনি।

 

তৃষ্ণা যেন জলের ফোঁটা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি বাদল

তৃষ্ণা যেন ধূপের কাঠি গন্ধে আঁকে সুখের আদল

খাঁ খাঁ মনের সবটা খালি

মরা নদীর চড়ার বালি

অথচ ঘর দুয়ার জুড়ে তৃষ্ণা বাজায় করতালি

প্রতীক্ষা তাই প্রহরবিহীন

আজীবন ও সর্বজনীন

সরোবর তো সবার বুকেই, পদ্ম কেবল পর্দানশীন

স্বপ্নকে দেয় সর্বশরীর, সমক্ষে সে ভাসে না।

যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না।

 

নভেম্বর 2009
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র
« অগা    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930