আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত
চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে
গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ’লে যাবে,
কিশোরীরা চ’লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা
ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক’রে চ’লে যাবে, নষ্টদের
উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র
শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের স্বর
গদ্য পদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন,
আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা-
রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক
আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।

আমি একজন মুক্তি-যোদ্ধা, মৃত্যু পিছনে আগে,
ভয়াল বিশাল নখর মেলিয়া দিবস রজনী জাগী ।
কখনো সে ধরে রেজাকার বেশ, কখনো সে খান-সেনা,
কখনো সে ধরে ধর্ম লেবাস পশ্চিম হতে কেনা।
কখনো সে পশি ঢাকা-বেতারের সংরক্ষিত ঘরে,
ক্ষেপা কুকুরের মরণ-কামড় হানিছে ক্ষিপ্ত স্বরে।

আমি চলিয়াছি চির-নির্ভীক অবহেলি সবকিছু
নরমুণ্ডের ঢেলা ছড়াইয়া পশ্চাত-পথ পিছু।
ভাঙিতেছি স্কুল ভাঙিতেছি সেতু ষ্টিমার জাহাজ লরি,
খান-সৈন্যরা যেই পথে যায় আমি সে পথের অরি
ওরা ভাড়া-করা ঘৃণ্য গোলাম স্বার্থ-অন্ধ সব,
মিথ্যার কাছে বিকাতে এসেছে স্বদেশের বৈভব!

আমরা চলেছি রক্ষা করিতে মা-বোনের ইজ্জত,
শত শহীদের লোহুতে জ্বালানো আমাদের হিম্মত।
ভয়াল বিশাল আঁধার রাত্রে ঘন-অরণ্য ছায়,
লুণ্ঠিত আর দগ্ধ-গ্রামের অনল সম্মুখে ধায়।
তাহার আলোতে চলিয়াছি পথ, মৃত্যুর তরবার,
হস্তে ধরিয়া কাটিয়া চলেছি খান-সেনা অনিবার।

এ সোনার দেশে যতদিন রবে একটিও খান-সেনা,
ততদিন তব মোদের যাত্রা মুহুর্তে থামিবে না।
মাঠগুলি পুনঃ ফসলে ফসলে পরিবে রঙিন বেশ,
লক্ষ্মীর ঝাঁপি গড়ায়ে ছড়ায়ে ভরিবে সকল দেশ।
মায়ের ছেলেরা হবে নির্ভর, সুখ হাসি ভরা ঘরে,
দস্যুবিহীন এদেশ আবার শোভিবে সুষম ভরে।

কোন অভীষ্টের জন্যে এ রকম ছায়া নিয়ে যুক্ত
শুদ্ধ হচ্ছে কার হাতে কার মুক্তিযুদ্ধ?

তর্ক নামে শীতলতায় কিংবা উত্তাপে
সূক্ষ্মভাবে ফেলে দিচ্ছি কাউকে কাউকে খাপে!
রাজমুকুটের চাপে!

দৃষ্টিগ্রাহ্য যা কিছু তা পিছু পিছু টেনে
বোধগম্য কারণে-বারণে
কীযে তোলা হচ্ছে ক্রেনে আর কীযে তোলা হচ্ছে ট্রেনে।
কোন দফতর থেকে দেওয়া হচ্ছে খেতাপ-সর্বস্ব নাম
আর রংমাখা মোমবাতি?
পর্বতমালায় কি হয়েছে তৈরী এ ইতিহাস?
নেই রক্ত, নেই কারো ঘাম!

পোশাক পালটাতে পালটাতে
উচু-নিচু গিয়ারে ওঠা-নামা করতে করতে
কুচকাওয়াজকালেআটকে পড়ছি কোন জালে!
আজকাল রং পালটায় কি শুধুই গিরগিটি?
বাতিকগ্রস্ত চরিত্র রূপায়ণে যারা পারদর্শী
তাদেরই হাতে পালটে যাচ্ছে বিজয়মুকুট-
ইতিহাস হাসে মিটিমিটি ।

তোমার বয়স কতো, আঠারো উনিশ?
মুখশ্রী কেমন? রঙ চোখ চুল কী রকম? চলার ভঙ্গিমা?
ছিল কি বাগান, আর তোমার মল্লিকা বনে ধরেছিল কলি?
ছিলে তুমি কারো প্রতিমা?
জানি না।

না, জানি।
পৃথিবীর সব মাস সব দিন তোমার হাতের মধ্যে এসে গিয়েছিল,
দুপুরের মতো মুখ, রৌদ্রদগ্ধ চোখ, পায়ে চৈত্রের বাতাস,
তোমার বাগানে-
কলোনি স্বদেশে- ধরেছিল সাড়ে সাত কোটি মল্লিকার কলি,
তুমি ছিলে মুক্তির প্রতিমা।

ওই বুকে মাইন বেঁধে বলেছিলে- জয় বাংলা-
মানুষের স্বাধীনতা দীর্ঘজীবী হোক,
ট্যাঙ্কের ওপর ঝাঁপ দিতে দিতে বলেছিলে-
বর্বরতা এইভাবে মুছে যাক, ধ্বংস হোক সভ্যতার কীট।
অন্তিমবারের মতো পথিকেরা পথে এসে দাঁড়িয়েছে, আকাশে উঠেছে ধ্রুবতারা-
ধ্রুবতারা হয়ে গেছে মুক্তির জননী রোশেনারা।

 

[কে রোশেনারা? শুদ্ধ উচ্চারণে হয়তো রওশনআরা। গ্রাম-বাংলায় তা-ই রুশেনারা কিংবা রোশেনারা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ কালে এই রোশেনারাই ছিল ট্রেঞ্চে ট্রেঞ্চে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার এক অসম্ভব ভালোলাগা প্রত্যয়ের নাম। রোশেনারার মতো একজনকে বোন ভেবে গর্বে বুক ফুলে উঠত তাদের। শরণার্থী শিবিরগুলোতেও তাই, তারা উদ্দীপ্ত হতো তেজোদ্দীপ্ত এক বাঙালী মেয়ের দূরন্ত সাহসীপনায়। https://www.amarblog.com/omipial/posts/140619]

কী লিখছ ঘন্টা-কচু?
ঘোড়ার ডিমের পোচ,অমলেট ?
লিখছ নাকি ?! কী সাংঘাতিক !
ভয়ডর নেই ? রাইট অ্যান্ড লেফট ?

কীসের সাহস? ডান বাম সব,
বাজারী দোকানে চেতনা বিকায়।
Give and Take -Take and Give
সারা দেশ চলে এই তরিকায়।

পুরু চামড়ার এই সময়ে,
ঝরে ঝরে যায় কচিপাতা মন;
ডানা মেলেনা তো ভাবনার পাখি,
গুমোট বাঁচার সময় এখন।

এই শহরের মরা কংকালে,
খুবলে খাচ্ছে হাজার শকুন;
বই মেলা চলে রং তামাশায়,
লুকিয়ে রয়েছে ঘাতক গোপন।

কীসের লেবাসে ধাতব ঝিলিক?
বিকিকিনি হয় ঐশী বচন;
বই এর শত্রু ছুরি-চাপাতি,
ফুটপাতে লাশ ; দেখো না এখন।

একদিন ছিল অন্যরকম,
বই এর গন্ধে মেলা মৌতাত;
সাহসী কথারা মেলেছিল ডানা ,
ছিলনা তো কোনো আড়ি-পাতা রাত।

শাহবাগ আর বইপাড়া নয়,
স্মৃতিতে এখন নিথর দীপন ;
মানুষ নেই তো মানুষের ভিড়ে,
শিরদাঁড়াহীন অন্য জীবন।

দ্রুত হেঁটে চলে মানুষের সারি,
লাশ পড়ে থাকে লাশের মতন ;
কী আসে যায় রাতের খবরে?
কাল তো আসবে, আগের মতন।

দেশটাকে চল ভাগাড় বানাই,
সবাই চেতনা কিনে-বেচে খাই ;
‘সাধারণ’ মানে কেউ কিছু নয়,
অধিকার শুধু আইনি পাতায়।

লাশ ভেসে যায় রক্তের তোড়ে,
কেউ নেই কেউ, কোথাও কি আর?
দেখেনা কি কেউ? শোনেনা কি আর?
চোখ-কান বোঁজা মানুষের সার।

ইচ্ছে করে, গলা ছেড়ে বলি :
‘বিকার্ হীনতা’ ফাঁসিতে ঝোলো !
জেগে উঠছো কি সাহসী কথারা ?
নৈ:শব্দ্য তো অনেক হলো।

 

কবি: https://www.facebook.com/junebd

গভীর দু চোখ নিয়ে শিশু বড়ো হয়

কিছুই জানে না তারা, বড়ো হয়, ফের মরে যায়।

মানুষেরা চলে যায় যে-যার রাস্তায় ।

 

তেতো ফল একদিন মিষ্টি হয়ে ওঠে

মরা পাখিদের মতো ঝরে যায় রাতে

কয়েকদিন পড়ে থাকে, ফের মরে যায় ।

 

হাওয়া আছে সব সময়, তবু বার বার

কত কথা শুনি আমরা কত কথা বলি

শরীরের যন্ত্রপাতি সুখ আর দুঃখ ভোগ করে ।

ঘাসের ভিতর দিয়ে রাস্তা হয়, গ্রাম ও শহর

এখানে ওখানে ভরা পুকুর ও গাছপালা, আলো

কিছু আছে বিশ্রী লোক, কিছু আছে মড়ার মতন ।

 

কেন এরা বেড়ে ওঠে ? কেন পরম্পর

দুজন সমান হয় না ? কেন এরা এত সংখ্যাহীন ?

কেন একবার হাসি, তার পরই কান্না, শুকনো হাওয়া ?

 

এই সব ছেলেখেলা— আমাদের কাছে আর কতটুকু দামী

আমরা ক’জন তবু রয়েছি অসাধারণ, অনন্ত একাকী

চিরকাল ভ্ৰাম্যমাণ, কখনো খুঁজিনি কোনো শেষ ।

 

এত সব বিচিত্রকে লক্ষ্য করা কেন প্রয়োজন ?

যা হোক, সেই তো সব কিছু বলে, যে বলে সায়াহ্ন

এই এক শব্দ থেকে ভেসে ওঠে গভীর কাতর স্বর, দুঃখ নিরবধি

শূন্য মৌচাক থেকে যে-রকম প্রবাহিত মধু।

 

[ হেফমান্সথালের জন্ম ভিয়েনায়, ১৮৭৪-এ। যদিও ভিক্টর যুগো সম্পর্কে গবেষণা করে ডক্টরেট হয়েছিলেন, কিন্তু নিজের সাহিত্য সাধনায় রোমষ্টিসিজমকে অস্বীকার করেছেন। জার্মান সাহিত্যে তাঁর আসন তখনই অবিসংবাদীভাবে স্বীকৃত, কিন্তু ক্রমশ তিনি কবিতা থেকে সরে গিয়ে মঞ্চ জগতে আশ্রয় নেন । জার্মান গীতিনাট্যের গৌরবময় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত তাঁর নাম । সোফোক্লিস, মলিয়েরের ভাষান্তর ছাড়াও তিনি কয়েকটি কলোত্তীর্ণ ট্র্যাজেডি লিখেছেন নিজে— এবং সুরকার হিসেবে পেয়েছিলেন রিচার্ড স্ট্রাউসকে । এখন জার্মান সাহিত্যে তাঁর সুনাম প্রধানত প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার হিসেবে । কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কবিরা হফমান্সথালের কবিতারই বেশি ভক্ত। ওঁর ছেলে হঠাৎ আত্মহত্যা করায়, ভগ্নহৃদয় হফমান্সথালের মৃত্যু ১৯২৯-এ । ]

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

মে 2016
S S M T W T F
« Apr    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 169 other followers

%d bloggers like this: