আমরা এখন যাচ্ছি কোথায়? যাবো কোথায়?
ঘুমের ঘোরে রাত কাটালাম
ঘুম হলো না, ঘুম হলো না
নিদ্রামগ্ন স্বপ্ন দেখা তাও হলো না, তাও হলো না।
সকাল বেলা শিশির ঘাসে পা রেখেছি
কোথায় যাবো? কোথায় যাবো?
ঠিকঠিকানা নেই এখনো!
যুদ্ধ হলো শুদ্ধ হবো বলে
শ্যাওলা উঠোন নতুন করে টানবো কাছে
ফুল ফুটাবো বলে,
শূন্যগোলা মায়ের হাতে শস্যগোলা হবে
এই আশাতে রক্তমাখা হাত মুছেছি জলে।
এইতো এখন মাটি খুঁড়ে মূল দেখেছি
একেবারে পচে গেছে,
ঘুণ ধরেছে ঘরের বাঁশে
পচা গন্ধ চতুর্দিকে
তবুও হায় হয়না খোঁজা দিগন্ত।
খোসা ছাড়ার হবে সময় কবে?
নদীর প্রপাত টানবো কাছে কখন?
আমরা এখন যাচ্ছি কোথায়? যাবো কোথায়?

গাছ তো কাটাই যায়; আমি গাছ লাগাতে এসেছি
যে আমাকে ঘৃণা করে, পত্রপুষ্পে তাকেও সাজাব
জানালাটা বন্ধ কেন? খোলো, খোলো, জংধরা মুঠি
পাহাড়ের কাছে যাও, নদীদের সর্বমনে ডাকো
মাটির খাতায় লেখো জলের ঠিকুজি
খাগের কলমে আঁকো প্রেম
শষ্যে গাও সমাত্মজীবনী
শান্ত হও যুদ্ধবাজ মন
জয়-পরাজয়ে লেখা যুদ্ধশেষে শোষকবদল হয় শুধু
নতুন শোকের গল্প শুরু হয় যুদ্ধাহত বঞ্চনার পাড়ে
আমি কোনো বিজয় দেখিনি
আমি আজও বিজয় দেখিনি

২ পৌষ, ১৪২৩
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

শামুকখোলে শরীর ঢাকো
মুখটি লুকাও শামুকখোলে,
নষ্ট সময় নষ্ট সমাজ
নষ্টামিতে জীবন দোলে।
দুশো ছয়টি হাড়ে গড়া
ছিল তোমার অমন দেহ,
হাড্ডিবিহীন হলো শরীর
হাড়ের দেখা পায় না কেহ।
বিবর্তনের ধারায় পড়ে
বদল তোমার জেলি ফিসে,
মানিয়ে নেওয়াই আসল কথা
টিকে থাকায় লজ্জা কিসে!
শামুক দেখে ঘেন্না ভরে
কত কিছুই বলতে তুমি,
নিজেই এখন শামুকখোলে
আঁকড়ে থাকো পলল ভূমি।
হারিয়ে যাওয়া ডাইনোসরের
এখনও আছে ফসিল কত,
তোমার এমন হারিয়ে যাওয়ায়
ধরণী আজ লজ্জা-নত।
শামুকখোলে শরীর ঢাকো
মুখটি লুকাও শামুকখোলে,
মানুষ কি আর যায় রে হওয়া
মানুষবেশেই জন্ম নিলে?

না, কোনও মানুষ নয়, পাখিরা যা বলাবলি করে, আমি শুনি
বাণিজ্যিক ধুলো ওড়ে পাছাভারি বণিক বাতাসে
ধুলোয় ধূসর সব; কে যে কাকে কী যে কথা বলে
কাজ শেষ, কথাও অচল
বিশ্বায়নদুষ্টতায় প্রেমও বোঝে শেয়ার বাজার
চুমুও মুনাফা খোঁজে; কবিতাও বাজারি পাঠক
গাছের বাকলে কারা নাম লিখে ফিরে গেছে ঘরে?
কে সেই অচেনা ফুল, মাঠপাড়ে অনাদরে ফোটে?
কে নদী নীরবে কাঁদে প্রাণঘাতী মানবদূষণে?
কে প্রেম ঋদ্ধ করে বামাচারী পাণ্ডবের গোলা?
কেউ আর কাউকে চেনে না
না, কোনও মানুষ নয়, পাখিরা যা বলাবলি করে, আমি শুনি

১৬ মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ
২৯ জানুয়ারি, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

গুপ্তঘাতকদের বিভ্ৰান্ত করতে
শয্যাকক্ষ পরিবর্তন করতেন সম্রাট অশোক
আর আমি শত্রুদের বিভ্রান্ত করার বদলে
নিজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছি!

নামধাম ঠিকানা জানা লোকও অপরিচিত হয়ে যায়
কুলমিত্র অন্য কুলে গিয়ে চিরশত্রু হয়ে যায়
মাখামাখি আঁকাআঁকি করা অভিন্ন হৃদয় ভিন্ন হয়ে যায়

কে যে শত্রু চিনতে পারছি না—
জটিলগ্রন্থির সময়ে
কখন যে বন্ধুমুখ শক্রমুখ হয়ে ওঠে
কখন যে চোরাগোপ্তা আঘাত পড়বে পিঠে
তা বোঝার জো নেই!
আমি বিভ্রান্তির মধ্যে আছি—
স্বৰ্ণসন্ধানী পিঁপড়েরা জোর কদমে হাঁটছে।
যে কপিকলের সাহায্যে জল তুলবো
—অন্ধকূপ থেকে
সে কপিকলের দড়িটা হঠাৎ ছিড়ে যায়!

ভীষন ক্ষুধার্ত আছিঃ উদরে, শারীরবৃত্ত ব্যেপে
অনুভূত হতে থাকে – প্রতিপলে – সর্বগ্রাসী ক্ষুধা
অনাবৃষ্টি যেমন চরিত্রের শস্যক্ষেত্রে জ্বেলে দেয়
প্রভূত দাহন – তেমনি ক্ষুধার জ্বালা, জ্বলে দেহ
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য কোনও দাবি
অনেক অনেক-কিছু চেয়ে নিয়েছে, সকলেই চায়ঃ
বাড়ি, গাড়ী, টাকাকড়ি- কারো বা খ্যাতির লোভ আছে;
আমার সামান্য দাবিঃ পুড়ে যাচ্ছে পেটের প্রান্তর-
ভাত চাই-এই চাওয়া সরাসরি – ঠান্ডা বা গরম,
সরূ বা দারুণ মোটা রেশনের লাল চাল হ’লে
কোনো ক্ষতি নেই মাটির শানকি ভর্তি ভাত চাইঃ
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে ছেড়ে দেবো অন্য সব দাবি!
অযৌক্তিক লোভ নেই, এমনকি নেই যৌন ক্ষুধা-
চাইনি তো নাভিনিম্নে পড়া শাড়ি, শাড়ির মালিক;
যে চায় সে নিয়ে যাক – যাকে ইচ্ছা তাকে দিয়ে দাও –
জেনে রাখোঃ আমার ও সব এ কোনও প্রয়োজন নেই।

যদি না মেটাতে পারো আমার সামান্য এই দাবি,
তোমার সমস্ত রাজ্যে দক্ষযজ্ঞ কান্ড ঘটে যাবে;
ক্ষুধার্তের কাছে নেই ইষ্টানিষ্ট, আইন-কানুন –
সমুখে যা পাবো খেয়ে নেবো অবলীলাক্রমে;
যদি বা দৈবাৎ সম্মুখে তোমাকে, ধর, পেয়ে যাই –
রাক্ষুসে ক্ষুধার কাছে উপাদেয় উপাচার হবে।
সর্বপরিবেশগ্রাসী হ’লে সামান্য ভাতের ক্ষুধা
ভয়াবহ পরিনতি নিয়ে আসে নিমন্ত্রণ করে!

দৃশ্য থেকে দ্রষ্টা অবধি ধারাবাহিকতা খেয়ে ফেলে
অবশেষে যথাক্রমে খাবোঃ গাছপালা, নদী-নালা,
গ্রাম-গঞ্জ, ফুটপাথ, নর্দমার জলের প্রপাত,
চলাচলকারী পথচারী, নিতম্ব-প্রধান নারী,
উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ী-
আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ।
ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো।

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

এপ্রিল 2017
S S M T W T F
« Mar    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
%d bloggers like this: