ও মেয়ে তোর বয়স কত?
: কি জানি গো,মা থাকলে বলে দিত।
সেই যে বারে দাঙ্গা হল,শয়ে শয়ে লোক
মরল,
হিন্দুদের ঘর জ্বলল, মুসলমানের রক্ত ঝরল,
তখন নাকি মা পোয়াতি,দাঙ্গা আমার
জন্মতিথি।
ও মেয়ে তোর বাবা কোথায়?
: মা বলেছে,গরিব দের বাবা হারায়
কেউ তো বলে বাপটা আমার হারামি ছিল।
মায়ের জীবন নষ্ট করে,অন্য গাঁয়ে ঘর বাঁধল।
মা বলত, শিবের দয়াই তোকে পেলাম,
শিবকেই তাই বাপ ডাকলাম।
ও মেয়ে তোর প্রেমিক আছে?
ছেলেরা ঘোরে ধারে-কাছে?
: প্রেমিক কি গো?মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে?
স্বপ্ন দেখাই দিন দুপুরে?
চুড়ি কাজল মেলাতে কেনায়,
ঝোপের ধারে জামা খোলায়?
এসব নন্দ কাকা করেছে দুবার
প্রেমিক ওকেই বলব এবার।
ও মেয়ে তোর পদবি কি?
: বাপই নাকি দেয় শুনেছি
পদবী থাকলে ভাত পাওয়া যায়?
বাপের আদর কাঁদায় হাসায়
ওটা কি বাজারে মেলে?
কিনব তবে দু-দশে দিলে
দামী হলে চাই না আমার
থাক তবে ও বাপ-ঠাকুরদার
ও মেয়ে তুই রূপসী?
:লোকে বলে ডাগর গতর সর্বনাশী
রুপ তো নয়, চোখের ধাঁধা।
যৌবনেতে কুকুরী রাঁধা।
পুরুষ চোখের ইশারা আসে,
সুযোগ বুঝে বুকে পাছায় হাত ও ঘষে।
রুপ কি শুধুই মাংসপেশী?
তবে তো আমি খুব রূপসী।
ও মেয়ে তোর ধর্ম কি রে?
: মেয়েমানুষের ধর্ম কি গো?
সব কিছু তো শরীর ঘিরে,
সালমা বলে ধর্মই সমাজ বানায়,
সন্ধেবেলা যখন দাঁড়াই
কেউ তো বলে না,হিন্দু নাকি?
সবাই বলে,কতই যাবি?
বিছানা নাকি ধর্ম মেলায়
শরীর যখন শরীর খেলায়
তাই ভাবছি এবার থেকে ধর্ম বলব শরীর বা বিছানাকে।

পাঁচ বছরের মেয়েটি বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলো- বাবা, স্বাধীনতা মানে কি?
বাবা বলেছিলো- স্বাধীনতা মানে, এই আমরা যা কিছু বলতে পারি, যা খুশি করতে পারি, কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই, আমার ইচ্ছেতে আমি চলতে পারি।
মেয়েটি বলেছিলো- তাহলে আজ থেকে আমিও স্বাধীনতা।
বাবা বললো- না। প্রথমত স্বাধীনতা নয়, তুমি স্বাধীন। কিন্তু এখন নয়। তুমি এখন ছোট। স্বাধীনতা পেয়ে কি করবে? বড় হও। বড় হলে স্বাধীনতা আপনাআপনি আসবে। বড় হলেই তুমি স্বাধীন।
মেয়েটি বাবাকে জিজ্ঞেস করলো- বাবা, মা কবে বড় হবে?

 

বোকা জেনে ধোঁকা দিয়ে হাবা জনগণকে
কেরে তুই খেতে চাস সুন্দরবনকে?
চিংড়ির ঘের করে খেয়েছিলি অল্প
পুরোটাই খাবি তাই নতুন প্রকল্প?
নাড়ছে কে কলকাঠি হোতা-টা কে? জানি না
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প মানি না।

এখুনি বাতিল হোক এই হীন চুক্তি
ধ্বংসের উৎসবে নেই কোনো যুক্তি।
ম্যানগ্রোভ এই বন প্রকৃতির অংশ
সুন্দরবনটাকে করে দিতে ধ্বংস—
কেরে তুই করেছিস হীন চক্রান্ত?
জ্ঞানপাপী লোভী তুই কেউ কি তা জানত?
চুক্তির নামে নিজ স্বার্থটা টিকিয়ে
দেশের স্বার্থ তুই দিলি কীনা বিকিয়ে?

সুন্দরবন কোনো সাধারণ বন না
প্লিজ দাদা সামান্য দেশপ্রেমী হন না…!

শ্রদ্ধেয় প্রিয় আপা ও প্রধানমন্ত্রী–
আপনার চারপাশে কারা ষড়যন্ত্রী?
টাকা ছাড়া তাদের তো কিছু প্রয়োজন নেই
এই দেশে আর কোনো সুন্দরবন নেই।

চাইলেই করা যাবে এই বন তৈরি?
ও মানুষ ভালোবাসো রুখে দাও বৈরি…

২৯ জুলাই ২০১৬

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত
চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে
গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ’লে যাবে,
কিশোরীরা চ’লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা
ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক’রে চ’লে যাবে, নষ্টদের
উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র
শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের স্বর
গদ্য পদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন,
আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা-
রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক
আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।

আমি একজন মুক্তি-যোদ্ধা, মৃত্যু পিছনে আগে,
ভয়াল বিশাল নখর মেলিয়া দিবস রজনী জাগী ।
কখনো সে ধরে রেজাকার বেশ, কখনো সে খান-সেনা,
কখনো সে ধরে ধর্ম লেবাস পশ্চিম হতে কেনা।
কখনো সে পশি ঢাকা-বেতারের সংরক্ষিত ঘরে,
ক্ষেপা কুকুরের মরণ-কামড় হানিছে ক্ষিপ্ত স্বরে।

আমি চলিয়াছি চির-নির্ভীক অবহেলি সবকিছু
নরমুণ্ডের ঢেলা ছড়াইয়া পশ্চাত-পথ পিছু।
ভাঙিতেছি স্কুল ভাঙিতেছি সেতু ষ্টিমার জাহাজ লরি,
খান-সৈন্যরা যেই পথে যায় আমি সে পথের অরি
ওরা ভাড়া-করা ঘৃণ্য গোলাম স্বার্থ-অন্ধ সব,
মিথ্যার কাছে বিকাতে এসেছে স্বদেশের বৈভব!

আমরা চলেছি রক্ষা করিতে মা-বোনের ইজ্জত,
শত শহীদের লোহুতে জ্বালানো আমাদের হিম্মত।
ভয়াল বিশাল আঁধার রাত্রে ঘন-অরণ্য ছায়,
লুণ্ঠিত আর দগ্ধ-গ্রামের অনল সম্মুখে ধায়।
তাহার আলোতে চলিয়াছি পথ, মৃত্যুর তরবার,
হস্তে ধরিয়া কাটিয়া চলেছি খান-সেনা অনিবার।

এ সোনার দেশে যতদিন রবে একটিও খান-সেনা,
ততদিন তব মোদের যাত্রা মুহুর্তে থামিবে না।
মাঠগুলি পুনঃ ফসলে ফসলে পরিবে রঙিন বেশ,
লক্ষ্মীর ঝাঁপি গড়ায়ে ছড়ায়ে ভরিবে সকল দেশ।
মায়ের ছেলেরা হবে নির্ভর, সুখ হাসি ভরা ঘরে,
দস্যুবিহীন এদেশ আবার শোভিবে সুষম ভরে।

কোন অভীষ্টের জন্যে এ রকম ছায়া নিয়ে যুক্ত
শুদ্ধ হচ্ছে কার হাতে কার মুক্তিযুদ্ধ?

তর্ক নামে শীতলতায় কিংবা উত্তাপে
সূক্ষ্মভাবে ফেলে দিচ্ছি কাউকে কাউকে খাপে!
রাজমুকুটের চাপে!

দৃষ্টিগ্রাহ্য যা কিছু তা পিছু পিছু টেনে
বোধগম্য কারণে-বারণে
কীযে তোলা হচ্ছে ক্রেনে আর কীযে তোলা হচ্ছে ট্রেনে।
কোন দফতর থেকে দেওয়া হচ্ছে খেতাপ-সর্বস্ব নাম
আর রংমাখা মোমবাতি?
পর্বতমালায় কি হয়েছে তৈরী এ ইতিহাস?
নেই রক্ত, নেই কারো ঘাম!

পোশাক পালটাতে পালটাতে
উচু-নিচু গিয়ারে ওঠা-নামা করতে করতে
কুচকাওয়াজকালেআটকে পড়ছি কোন জালে!
আজকাল রং পালটায় কি শুধুই গিরগিটি?
বাতিকগ্রস্ত চরিত্র রূপায়ণে যারা পারদর্শী
তাদেরই হাতে পালটে যাচ্ছে বিজয়মুকুট-
ইতিহাস হাসে মিটিমিটি ।

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

অক্টোবর 2016
S S M T W T F
« Aug    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
%d bloggers like this: