লেখন

এই লেখনগুলি সুরু হয়েছিল চীনে জাপানে। পাখায় কাগজে রুমালে কিছু লিখে দেবার জন্যে লোকের অনুরোধে এর উৎপত্তি। তারপরে স্বদেশে ও অন্য দেশেও তাগিদ পেয়েছি। এমনি ক’রে এই টুকরো লেখাগুলি জমে উঠ্‌ল। এর প্রধান মূল্য হাতের অক্ষরে ব্যক্তিগত পরিচয়ের । সে পরিচয় কেবল অক্ষরে কেন, দ্রুতলিখিত ভাবের মধ্যেও ধরা পড়ে। ছাপার অক্ষরে সেই ব্যক্তিগত সংস্রবটি নষ্ট হয়– সে অবস্থায় এই সব লেখা বাতি-নেবা চীন লণ্ঠনের মতো হাল্কা ও ব্যর্থ হতে পারে। তাই জর্ম্মনিতে হাতের অক্ষর ছাপবার উপায় আছে খবর পেয়ে লেখনগুলি ছাপিয়ে নেওয়া গেল। অন্যমনস্কতায় কাটাকুটি ভুলচুক ঘটেছে। সে সব ত্রুটিতেও ব্যক্তিগত পরিচয়েরই আভাস রয়ে গেল॥

 

শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

The lines in the following pages had their origin in China and Japan where the author was asked for his writings on fans or pieces of silk.

 

Rabindranath Tagore

 

স্বপ্ন আমার জোনাকি

দীপ্ত প্রাণের মণিকা,

স্তব্ধ আঁধার নিশীথে

উড়িছে আলোর কণিকা॥

 

My fancies are fireflies

speaks of living light–

twinkling in the dark.

 

আমার লিখন ফুটে পথধারে

ক্ষণিক কালের ফুলে,

চলিতে চলিতে দেখে যারা তারে

চলিতে চলিতে ভুলে॥

 

The same voice murmurs

in these desultory lines

which is born in wayside pansies

letting hasty glances pass by

 

প্রজাপতি সেতো বরষ না গণে,

নিমেষ গণিয়া বাঁচে,

সময় তাহার যথেষ্ট তাই আছে॥

 

The butterfly does not count years

but moments

and therefore has enough time.

 

ঘুমের আঁধার কোটরের তলে স্বপ্নপাখির বাসা,

কুড়ায়ে এনেছে মুখর দিনের খসে-পড়া ভাঙা ভাষা॥

 

ভারী কাজের বোঝাই তরী কালের পারাবারে

পাড়ি দিতে গিয়ে কখন ডোবে আপন ভারে।

তার চেয়ে মোর এই ক-খানা হালকা কথার গান

হয়তো ভেসে বইবে স্রোতে তাই করে যাই দান॥

 

বসন্ত সে কুঁড়ি ফুলের দল

হাওয়ায় কত ওড়ায় অবহেলায়।

নাহি ভাবে ভাবী কালের ফল

ক্ষণকালের খামখেয়ালি খেলায়॥

 

স্ফুলিঙ্গ তার পাখায় পেল ক্ষণকালের ছন্দ।

উড়ে গিয়ে ফুরিয়ে গেল সেই তারি আনন্দ॥

 

সুন্দরী ছায়ার পানে তরু চেয়ে থাকে–

সে তার আপন, তবু পায় না তাহাকে॥

 

আমার প্রেম রবি-কিরণ-হেন

জ্যোতির্ময় মুক্তি দিয়ে তোমারে ঘেরে যেন॥

 

১০

মাটির সুপ্তিবন্ধন হতে আনন্দ পায় ছাড়া,

ঝলকে ঝলকে পাতায় পাতায় ছুটে এসে দেয় নাড়া॥

 

১১

অতল আঁধার নিশা পারাবার, তাহারি উপরিতলে

দিন সে রঙিন বুদ্বুদ অসীমে ভাসিয়া চলে॥

 

১২

ভীরু মোর দান ভরসা না পায়

মনে সে যে রবে কারো,

হয়তো বা তাই তব করুণায়

মনে রাখিতেও পার॥

 

১৩

ফাগুন, শিশুর মতো, ধূলিতে রঙিন ছবি আঁকে,

ক্ষণে ক্ষণে মুছে ফেলে, চলে যায়, মনেও না থাকে॥

 

১৪

দেবমন্দির-আঙিনাতলে শিশুরা করেছে মেলা।

দেবতা ভোলেন পূজারি-দলে,দেখেন শিশুর খেলা॥

 

১৫

তোমার বনে ফুটেছে শ্বেত করবী,

আমার বনে রাঙা,

দোঁহার আঁখি চিনিল দোঁহে নীরবে

ফাগুনে ঘুম-ভাঙা॥

 

১৬

আকাশ ধরারে বাহুতে বেড়িয়া রাখে,

তবুও আপনি অসীম সুদূরে থাকে॥

 

১৭

দূর এসেছিল কাছে–

ফুরাইলে দিন, দূরে চলে গিয়ে আরো সে নিকটে আছে।

 

১৮

ওগো অনন্ত কালো,

ভীরু এ দীপের আলো,

তারি ছোট ভয় করিবারে জয় অগণ্য তারা জ্বালো॥

 

১৯

আমার বাণীর পতঙ্গ গুহাচর

আয় গহ্বর ছেড়ে–

গোধূলিতে এল শেষ যাত্রার অবসর,

হারিয়ে যা পাখা নেড়ে॥

 

২০

দাঁড়ায়ে গিরি, শির

মেঘে তুলে,

দেখে না সরসীর

বিনতি।

অচল উদাসীর

পদমূলে

ব্যাকুল রূপসীর

মিনতি॥

 

২১

ভাসিয়ে দিয়ে মেঘের ভেলা

খেলেন আলো-ছায়ার খেলা,

শিশুর মতো শিশুর সাথে

কাটান হেসে প্রভাত বেলা॥

 

২২

মেঘ সে বাষ্পগিরি,

গিরি সে বাষ্পমেঘ,

কালের স্বপ্নে যুগে যুগে ফিরি ফিরি

এ কিসের ভাবাবেগ॥

 

২৩

চান ভগবান প্রেম দিয়ে তাঁর

গড়া হবে দেবালয়,

মানুষ আকাশে উঁচু করে  তোলে

ইঁট পাথরের জয়॥

 

২৪

শিখারে কহিল হাওয়া,

“তোমারে তো চাই পাওয়া।’

যেমনি জিনিতে চাহিল ছিনিতে

নিবে গেল দাবি-দাওয়া॥

 

২৫

দুই তীরে তার বিরহ ঘটায়ে

সমুদ্র করে দান

অতল প্রেমের অশ্রুজলের গান॥

 

২৬

তারার দীপ জ্বালেন যিনি

গগনতলে

থাকেন চেয়ে ধরার দীপ

কখন জ্বলে॥

 

২৭

মোর গানে গানে, প্রভু, আমি পাই পরশ তোমার,

নির্ঝরধারায় শৈল যেমন পরশে পারাবার॥

 

২৮

নানা রঙের ফুলের মতো ঊষা মিলায় যবে

শুভ্র ফলের মতন সূর্য জাগেন সগৌরবে॥

 

২৯

আঁধার সে যেন বিরহিণী বধূ

অঞ্চলে ঢাকা মুখ,

পথিক আলোর ফিরিবার আশে

বসে আছে উৎসুক॥

 

৩০

হে আমার ফুল, ভোগী মূর্খের মালে

না হ’ক তোমার গতি,

এই জেনো তব নবীন প্রভাতকালে

আশিস তোমার প্রতি॥

 

৩১

চলিতে চলিতে খেলার পুতুল খেলার বেগের সাথে

একে একে কত ভেঙে পড়ে যায়, পড়ে থাকে পশ্চাতে॥

 

৩২

বিলম্বে উঠেছ তুমি কৃষ্ণপক্ষশশী,

রজনীগন্ধা যে তবু চেয়ে আছে বসি॥

 

৩৩

আকাশে উঠিল বাতাস, তবুও নোঙর রহিল পাঁকে,

অধীর তরণী খুঁজিয়া না পায় কোথায় সে মুখ ঢাকে॥

 

৩৪

আকাশের নীল

বনের শ্যামলে চায়।

মাঝখানে তার

হাওয়া করে হায়-হায়॥

 

৩৫

কীটেরে দয়া করিয়ো, ফুল,

সে নহে মধুকর।

প্রেম যে তার বিষম ভুল

করিল জর্জর॥

 

৩৬

মাটির প্রদীপ সারা দিবসের অবহেলা লয় মেনে,

রাত্রে শিখার চুম্বন পাবে জেনে॥

 

৩৭

দিনের রৌদ্রে আবৃত বেদনা বচনহারা,

আঁধারে যে তাহা জ্বলে রজনীর দীপ্ত তারা॥

 

৩৮

গানের কাঙাল এ বীণার তার বেসুরে মরিছে কেঁদে।

দাও তার সুর বেঁধে॥

 

৩৯

নিভৃত প্রাণের নিবিড় ছায়ায় নীরব নীড়ের -‘পরে

কথাহীন ব্যথা একা একা বাস করে॥

 

৪০

আলো যবে ভালোবেসে মালা দেয় আঁধারের গলে,

সৃষ্টি তারে বলে॥

 

৪১

আলোকের স্মৃতি ছায়া বুকে করে রাখে,

ছবি বলি তাকে॥

 

৪২

ফুলে ফুলে যবে ফাগুন আত্মহারা

প্রেম যে তখন মোহন মদের ধারা।

কুসুম-ফোটার দিন হলে অবসান

তখন সে প্রেম প্রাণের অন্নপান॥

 

৪৩

দিন হয়ে গেল গত।

শুনিতেছি বসে নীরব আঁধারে

আঘাত করিছে হৃদয়দুয়ারে

দূর প্রভাতের ঘরে-ফিরে-আসা

পথিক দুরাশা যত॥

 

৪৪

জীর্ণ জয়-তোরণ-ধূলি-‘পর

ছেলেরা রচে ধূলির খেলাঘর॥

 

৪৫

রঙের খেয়ালে আপনা খোয়ালে,

হে মেঘ, করিলে খেলা।

চাঁদের আসরে যবে ডাকে তোরে

ফুরাল যে তোর বেলা॥

 

৪৬

স্খলিত পালখ ধূলায় জীর্ণ

পড়িয়া থাকে।

আকাশে ওড়ার স্মরণচিহ্ন

কিছু না রাখে॥

 

৪৭

পথে হল দেরি, ঝরে গেল চেরি–

দিন  বৃথা গেল, প্রিয়া।

তবুও তোমার ক্ষমা-হাসি বহি

দেখা দিল আজেলিয়া॥

 

৪৮

যখন পথিক এলেম কুসুমবনে

শুধু আছে কুঁড়ি দুটি।

চলে যাব যবে, বসন্তসমীরণে

কুসুম উঠিবে ফুটি॥

 

৪৯

হে মহাসাগর বিপদের লোভ দিয়া

ভুলায়ে বাহির করেছ মানবহিয়া।

নিত্য তোমার ভয়ের ভীষণ বাণী

দুঃসাহসের পথে তারে আনে টানি॥

 

৫০

গগনে গগনে নব নব দেশে রবি

নব প্রাতে জাগে নূতন জনম লভি॥

 

৫১

জোনাকি সে ধূলি খুঁজে সারা,

জানে না আকাশে আছে তারা॥

 

৫২

যবে কাজ করি

প্রভু দেয় মোরে মান।

যবে গান করি

ভালোবাসে ভগবান॥

 

৫৩

একটি পুষ্পকলি

এনেছিনু দিব বলি।

হায় তুমি চাও সমস্ত বনভূমি–

লও, তাই লও তুমি॥

 

৫৪

বসন্ত, তুমি এসেছ হেথায়–

বুঝি হল পথ ভুল।

এলে যদি তবে জীর্ণ শাখায়

একটি ফুটাও ফুল॥

 

৫৫

চাহিয়া প্রভাতরবির নয়নে

গোলাপ উঠিল ফুটে।

“রাখিব তোমায় চিরকাল মনে’

বলিয়া পড়িল টুটে॥

 

৫৬

আকাশে তো আমি রাখি নাই, মোর

উড়িবার ইতিহাস।

তবু, উড়েছিনু এই মোর উল্লাস॥

 

৫৭

লাজুক ছায়া বনের তলে

আলোরে ভালোবাসে।

পাতা সে কথা ফুলেরে বলে,

ফুল তা শুনে হাসে॥

 

৫৮

আকাশের তারায় তারায়

বিধাতার যে হাসিটি জ্বলে

ক্ষণজীবী জোনাকি এনেছে

সেই হাসি এ ধরণীতলে॥

 

৫৯

কুয়াশা যদি বা ফেলে পরাভবে ঘিরি

তবু নিজমহিমায় অবিচল গিরি॥

 

৬০

পর্বতমালা আকাশের পানে চাহিয়া না কহে কথা,

অগমের লাগি ওরা ধরণীর স্তম্ভিত ব্যাকুলতা॥

 

৬১

একদিন ফুল দিয়েছিলে, হায়,

কাঁটা বিঁধে গেছে তার।

তবু, সুন্দর, হাসিয়া তোমায়

করিনু নমস্কার॥

 

৬২

হে বন্ধু, জেনো মোর ভালোবাসা,

কোনো দায় নাহি তার–

আপনি সে পায় আপন পুরস্কার॥

 

৬৩

স্বল্প সেও স্বল্প নয়, বড়োকে ফেলে ছেয়ে।

দু-চারিজন অনেক বেশি বহুজনের চেয়ে॥

 

৬৪

সংগীতে যখন সত্য শোনে নিজবাণী

সৌন্দর্যে তখন ফোটে তার হাসিখানি॥

 

৬৫

আমি জানি মোর ফুলগুলি ফুটে হরষে

না-জানা সে কোন্‌ শুভচুম্বন পরশে॥

 

৬৬

বুদ্বুদ  সে তো বদ্ধ আপন ঘেরে–

শূন্যে মিলায়, জানে না সমুদ্রেরে॥

 

৬৭

বিরহপ্রদীপে জ্বলুক দিবসরাতি

মিলনস্মৃতির নির্বাণহীন বাতি॥

 

৬৮

মেঘের দল বিলাপ করে

আঁধার হল দেখে,

ভুলেছে বুঝি নিজেই তারা

সূর্য দিল ঢেকে॥

 

৬৯

ভিক্ষুবেশে দ্বারে তার “দাও’ বলি দাঁড়ালে দেবতা

মানুষ সহসা পায় আপনার ঐশ্বর্যবারতা॥

 

৭০

গুণীর লাগিয়া বাঁশি চাহে পথপানে,

বাঁশির লাগিয়া গুণী ফিরিছে সন্ধানে।

 

৭১

অসীম আকাশ শূন্য প্রসারি রাখে,

হোথায় পৃথিবী মনে মনে তার

অমরার ছবি আঁকে॥

 

৭২

কুন্দকলি ক্ষুদ্র বলি নাই দুঃখ, নাই তার লাজ,

পূর্ণতা অন্তরে তার অগোচরে করিছে বিরাজ।

বসন্তের বাণীখানি আবরণে পড়িয়াছে বাঁধা,

সুন্দর হাসিয়া বহে প্রকাশের সুন্দর এ বাধা॥

 

৭৩

ফুলগুলি যেন কথা,

পাতাগুলি যেন চারি দিকে তার

পুঞ্জিত নীরবতা॥

 

৭৪

দিবসের অপরাধ সন্ধ্যা যদি ক্ষমা করে তবে

তাহে তার শান্তিলাভ হবে॥

 

৭৫

আকর্ষণগুণে প্রেম এক ক’রে তোলে।

শক্তি শুধু বেঁধে রাখে শিকলে শিকলে॥

 

৭৬

মহাতরু বহে

বহু বরষের ভার।

যেন সে বিরাট

এক মুহূর্ত তার॥

 

৭৭

পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়,

পথের দুধারে অছে মোর দেবালয়॥

 

৭৮

ধরায় যেদিন প্রথম জাগিল

কুসুমবন

সেদিন এসেছে আমার গানের

নিমন্ত্রণ॥

 

৭৯

হিতৈষীর স্বার্থহীন অত্যাচার যত

ধরণীরে সব চেয়ে করেছে বিক্ষত॥

 

৮০

স্তব্ধ অতল শব্দবিহীন মহাসমুদ্রতলে

বিশ্ব ফেনার পুঞ্জ সদাই ভাঙিয়া জুড়িয়া চলে॥

 

৮১

নরজনমের পুরা দাম দিব যেই

তখনি মুক্তি পাওয়া যাবে সহজেই॥

 

৮২

গোঁয়ার কেবল গায়ের জোরেই বাঁকাইয়া দেয় চাবি,

শেষকালে তার কুড়াল ধরিয়া করে মহা দাবাদাবি॥

 

৮৩

জন্ম মোদের রাতের আঁধার

রহস্য হতে

দিনের আলোর সুমহত্তর

রহস্যস্রোতে॥

 

৮৪

আমার প্রাণের গানের পাখির দল

তোমার কণ্ঠে বাসা খুঁজিবারে

হল আজি চঞ্চল॥

 

৮৫

নিমেষকালের খেয়ালের লীলাভরে

অনাদরে যাহা দান কর অকাতরে

শরৎ-রাতের খসে-পড়া তারাসম

উজ্জ্বলি উঠে প্রাণের আঁধারে মম॥

 

৮৬

মোর কাগজের খেলার নৌকা ভেসে চলে যায় সোজা

বহিয়া আমার অকাজ দিনের অলস বেলার বোঝা॥

 

৮৭

অকালে যখন বসন্ত আসে শীতের আঙিনা-‘পর

ফিরে যায় দ্বিধাভরে।

আমের মুকুল ছুটে বাহিরায়, কিছু না বিচার করে,

ফেরে না সে, শুধু মরে॥

 

৮৮

হে প্রেম, যখন ক্ষমা কর তুমি সব অভিমান ত্যেজে,

কঠিন শাস্তি সে যে।

হে মাধুরী, তুমি কঠোর আঘাতে যখন নীরব রহ

সেই বড়ো দুঃসহ॥

 

৮৯

দেবতার সৃষ্টি বিশ্ব মরণে নূতন হয়ে উঠে।

অসুরের অনাসৃষ্টি আপন অস্তিত্বভারে টুটে॥

 

৯০

বৃক্ষ সে তো আধুনিক, পুষ্প সেই অতি পুরাতন–

আদিম বীজের বার্তা সেই আনে করিয়া বহন॥

 

৯১

নূতন প্রেম সে ঘুরে ঘুরে মরে শূন্য আকাশমাঝে,

পুরানো প্রেমের রিক্ত বাসায় বাসা তার মেলে না যে॥

 

৯২

সকল চাঁপাই দেয় মোর প্রাণে আনি

চির পুরাতন একটি চাঁপার বাণী॥

 

৯৩

দুঃখের আগুন কোন্‌ জ্যোতির্ময় পথরেখা টানে

বেদনার পরপার পানে॥

 

৯৪

ফেলে যবে যাও একা থুয়ে

আকাশের নীলিমায় কার ছোঁওয়া যায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে।

বনে বনে বাতাসে বাতাসে

চলার আভাস কার শিহরিয়া উঠে ঘাসে ঘাসে।

 

৯৫

উষা একা একা আঁধারের দ্বারে ঝংকারে বীণাখানি,

যেমনি সূর্য বাহিরিয়া আসে মিলায় ঘোমটা টানি॥

 

৯৬

শিশির রবিরে শুধু জানে

বিন্দুরূপে আপন বুকের মাঝখানে॥

 

৯৭

আপন অসীম নিষ্ফলতার পাকে

মরু চিরদিন বন্দী হইয়া থাকে॥

 

৯৮

ধরণীর যজ্ঞ-অগ্নি বৃক্ষরূপে শিখা তার তুলে,

স্ফুলিঙ্গ ছড়ায় ফুলে ফুলে॥

 

 

৯৯

ফুরাইলে দিবসের পালা

আকাশ সূর্যেরে জপে লয়ে তারকার জপমালা॥

 

১০০

দিনে দিনে মোর কর্ম আপন দিনের মজুরি পায়।

প্রেম সে আমার চিরদিবসের চরম মূল্য চায়॥

 

১০১

কর্ম আপন দিনের মজুরি রাখিতে চাহে না বাকি।

যে প্রেমে আমার চরম মূল্য তারি তরে চেয়ে থাকি॥

 

১০২

আলোকের সাথে মেলে আঁধারের ভাষা,

মেলে না কুয়াশা॥

 

১০৩

বিদেশে অচেনা ফুল পথিক কবিরে ডেকে কহে,–

“যে দেশ আমার, কবি, সেই দেশ তোমারো কি নহে?’

 

১০৪

পুঁথি-কাটা ওই পোকা

মানুষকে জানে বোকা।

বই কেন সে যে চিবিয়ে খায় না

এই লাগে তার ধোঁকা॥

 

১০৫

আকাশে মন কেন তাকায় ফলের আশা পুষি?

কুসুম যদি ফোটে শাখায় তা নিয়ে থাক্‌ খুশি॥

 

১০৬

অনন্তকালের  ভালে মহেন্দ্রের বেদনার ছায়া,

মেঘান্ধ অম্বরে আজি তারি যেন মূর্তিমতী মায়া॥

 

১০৭

সূর্যাস্তের রঙে রাঙা ধরা যেন পরিণত ফল,

আঁধার রজনী তারে ছিঁড়িতে বাড়ায় করতল॥

 

১০৮

প্রজাপতি পায় অবকাশ

ভালোবাসিবারে কমলেরে।

মধুকর সদা বারোমাস

মধু খুঁজে খুঁজে শুধু ফেরে॥

 

১০৯

মায়াজাল দিয়া কুয়াশা জড়ায়

প্রভাতেরে চারি ধারে,

অন্ধ করিয়া বন্দী করে যে তারে॥

 

১১০

শুকতারা মনে করে

শুধু একা মোর তরে

অরুণের আলো।

উষা বলে,”ভালো, সেই ভালো।’

 

১১১

অজানা ফুলের গন্ধের মতো

তোমার হাসিটি, প্রিয়,

সরল, মধুর, কী অনির্বচনীয়॥

 

১১২

মৃতের যতই বাড়াই মিথ্যা মূল্য,

মরণেরই শুধু ঘটে ততই বাহুল্য॥

 

১১৩

পারের তরীর পালের হাওয়ার পিছে

তীরের হৃদয় কান্না পাঠায় মিছে॥

 

১১৪

সত্য তার সীমা ভালোবাসে,

সেথায় সে মেলে আসি সুন্দরের পাশে॥

 

১১৫

নটরাজ নৃত্য করে নব নব সুন্দরের নাটে,

বসন্তের পুষ্পরঙ্গে শস্যের তরঙ্গে মাঠে মাঠে।

তাঁহারি অক্ষয় নৃত্য, হে গৌরী, তোমার অঙ্গে মনে,

চিত্তের মাধুর্যে তব, ধ্যানে তব, তোমার লিখনে॥

 

১১৬

দিন দেয় তার সোনার বীণা

নীরব তারার করে–

চিরদিবসের সুর বাঁধিবার তরে॥

 

১১৭

ভক্তি ভোরের পাখি

রাতের আঁধার শেষ না হতেই “আলো’ ব’লে ওঠে ডাকি॥

 

১১৮

সন্ধ্যায় দিনের পাত্র রিক্ত হলে ফেলে দেয় তারে

নক্ষত্রের প্রাঙ্গণমাঝারে।

রাত্রি তারে অন্ধকারে ধৌত করে পুন ভরি দিতে

প্রভাতের নবীন অমৃতে॥

 

১১৯

দিনের কর্মে মোর প্রেম যেন

শক্তি লভে,

রাতের মিলনে  পরম শান্তি

মিলিবে তবে ॥

 

১২০

ভোরের ফুল গিয়েছে যারা

দিনের আলো ত্যেজে

আঁধারে তারা ফিরিয়া আসে

সাঁঝের তারা সেজে ॥

 

১২১

যাবার যা সে যাবেই,তারে

না দিলে খুলে দ্বার

ক্ষতির সাথে মিলায়ে বাধা

করিবে একাকার ॥

 

১২২

সাগরের কানে জোয়ার-বেলায়

ধীরে কয় তটভূমি,

“তরঙ্গ তব যা বলিতে চায়

তাই লিখে দাও তুমি।’

সাগর ব্যাকুল ফেন-অক্ষরে

যতবার লেখে লেখা

চির-চঞ্চল অতৃপ্তিভরে

ততবার মোছে রেখা ॥

 

১২৩

পুরানো মাঝে যা-কিছু ছিল

চিরকালের ধন,

নূতন,তুমি এনেছ

তাই করিয়া আহরণ ॥

 

১২৪

মিলননিশীথে ধরণী ভাবিছে

চাঁদের কেমন ভাষা,

কোনো কথা নেই,শুধু মুখ চেয়ে হাসা ॥

 

১২৫

স্তব্ধ হয়ে কেন্দ্র আছে, না দেখা যায় তারে

চক্র যত নৃত্য করি ফিরিছে চারি ধারে ॥

 

১২৬

দিবসের দীপে শুধু থাকে তেল,

রাতে দীপ আলো দেয় ।

দোঁহার তুলনা করা শুধু অন্যায় ॥

 

১২৭

গিরি যে তুষার নিজে রাখে, তার

ভার তারে চেপে রহে ।

গলায়ে যা দেয় ঝরনাধারায়

চরাচর তারে বহে ॥

 

১২৮

কাছে থাকার আড়ালখানা

ভেদ ক’রে

তোমার প্রেম দেখিতে যেন

পায় মোরে ॥

 

১২৯

ওই শুন বনে বনে কুঁড়ি বলে তপনেরে ডাকি —

“খুলে দাও আঁখি’  ॥

 

১৩০

ধরার মাটির তলে  বন্দী হয়ে যে-আনন্দ আছে

কচিপাতা হয়ে এল দলে দলে অশথের গাছে ।

বাতাসে মুক্তির দোলে ছুটি পেল ক্ষণিক বাঁচিতে,

নিস্তব্ধ অন্ধের স্বপ্ন দেহ নিল আলোয় নাচিতে ॥

 

১৩১

খেলার খেয়ালবশে কাগজের তরী

স্মৃতির খেলেনা দিয়ে দিয়েছিনু ভরি,

যদি ঘাটে গিয়ে ঠেকে প্রভাতবেলায়

তুলে নিয়ো তোমাদের প্রাণের খেলায় ॥

 

১৩২

দিনের আলোক যবে রাত্রির অতলে

হয়ে যায় হারা

আঁধারের ধ্যাননেত্রে দীপ্ত হয়ে জ্বলে

শত লক্ষ তারা ।

আলোহীন বাহিরের আশাহীন দয়াহীন ক্ষতি

পূর্ণ করে দেয় যেন অন্তরের অন্তহীন জ্যোতি ॥

 

১৩৩

অস্তরবির আলো-শতদল

মুদিল অন্ধকারে।

ফুটিয়া উঠুক নবীন ভাষায়

শ্রান্তিবিহীন নবীন আশায়

নব উদয়ের পারে॥

 

১৩৪

জীবন-খাতার অনেক পাতাই

এমনিতরো শূন্য থাকে;

আপন মনের ধেয়ান দিয়ে

পূর্ণ করে লও না তাকে।

সেথায় তোমার গোপন কবি

রচুক আপন স্বর্গছবি,

পরশ করুক দৈববাণী

সেথায় তোমার কল্পনাকে॥

 

১৩৫

দেবতা যে চায় পরিতে গলায়

মানুষের গাঁথা মালা,

মাটির কোলেতে তাই রেখে যায়

আপন ফুলের ডালা॥

 

১৩৬

সূর্যপানে চেয়ে ভাবে মল্লিকামুকুল

কখন ফুটিবে মোর অত বড়ো ফুল॥

 

১৩৭

সোনার মুকুট ভাসাইয়া দাও

সন্ধ্যা মেঘের তরীতে ।

যাও চলে রবি বেশভূষা খুলে

মরণমহেশ্বরের দেউলে

নীরবে প্রণাম করিতে ॥

 

১৩৮

সন্ধ্যার প্রদীপ মোর রাত্রির তারারে

বন্দে  নমস্কারে ॥

 

১৩৯

শিশিরের মালা গাঁথা শরতের তৃণাগ্র-সূচিতে

নিমিষে মিলায়,–তবু নিখিলের মাধুর্য-রুচিতে

স্থান তার চিরস্থির; মণিমালা রাজেন্দ্রের গলে

আছে,তবু নাই সে যে, নিত্য নষ্ট প্রতি পলে পলে॥

 

১৪০

দিবসে যাহারে করিয়াছিলাম হেলা

সেই তো আমার প্রদীপ রাতের বেলা ॥

 

১৪১

ঝরে-পড়া ফুল আপনার মনে বলে —

“বসন্ত আর নাই এ ধরণীতলে’॥

 

১৪২

বসন্তবায়ু,কুসুমকেশর

গেছ কি  ভুলি?

নগরের পথে ঘুরিয়া বেড়াও

উড়ায়ে ধূলি॥

 

১৪৩

হে অচেনা,তব আঁখিতে আমার

আঁখি কারে পায় খুঁজি —

যুগান্তরের চেনা চাহনিটি

আঁধারে লুকানো বুঝি॥

 

১৪৪

দখিন হতে আনিলে,বায়ু,

ফুলের জাগরণ,

দখিন মুখে ফিরিবে যবে

উজাড় হবে বন॥

 

১৪৫

ওগো হংসের পাঁতি,

শীতপবনের সাথি,

ওড়ার মদিরা পাখায় করিছ পান।

দুরের স্বপনে মেশা

নভো-নীলিমার নেশা,

বলো,সেই রসে কেমনে ভরিব গান॥

 

১৪৬

শিশিরসিক্ত বনমর্মর

ব্যাকুল করিল কেন।

ভোরের স্বপনে অনামা প্রিয়ার

কানে-কানে-কথা যেন॥

 

১৪৭

দিনান্তের ললাট লেপি’

রক্ত-আলো-চন্দনে

দিগ্বধূরা ঢাকিল আঁখি

শব্দহীন ক্রন্দনে॥

 

১৪৮

নীরব যিনি তাঁহার বাণী নামিলে মোর বাণীতে

তখন আমি তাঁরেও জানি, মোরেও পাই জানিতে॥

 

১৪৯

কাঁটাতে আমার অপরাধ আছে,

দোষ নাহি মোর ফুলে।

কাঁটা, ওগো প্রিয়, থাক্‌ মোর কাছে,

ফুল তুমি নিয়ো তুলে॥

 

১৫০

চেয়ে দেখি হোথা তব জানালায়

স্তিমিত প্রদীপখানি

নিবিড় রাতের নিভৃত বীণায়

কী বাজায় কী বা জানি॥

 

১৫১

পৌরপথের বিরহী তরুর কানে

বাতাস কেন বা বনের বারতা আনে॥

 

১৫২

ও যে চেরিফুল তব বনবিহারিণী,

আমার বকুল বলিছে “তোমারে চিনি’॥

 

১৫৩

ধনীর প্রাসাদ বিকট ক্ষুধিত রাহু

বস্তুপিণ্ড-বোঝায় বদ্ধ বাহু।

মনে পড়ে সেই দীনের রিক্ত ঘরে

বাহু বিমুক্ত আলিঙ্গনের তরে॥

 

১৫৪

গিরির দুরাশা উড়িবারে

ঘুরে মরে মেঘের আকারে॥

 

১৫৫

দুর হতে যারে পেয়েছি পাশে

কাছের চেয়ে সে কাছেতে আসে॥

 

১৫৬

উতল সাগরের অধীর ক্রন্দন

নীরব আকাশের মাগিছে চুম্বন॥

 

১৫৭

চাঁদ কহে “শোন্‌

শুকতারা,

রজনী যখন

হল সারা

যাবার বেলায়

কেন শেষে

দেখা দিতে হায়

এলি হেসে,

আলো আঁধারের

মাঝে এসে

করিলি আমায়

দিশেহারা।’

 

১৫৮

হতভাগা মেঘ পায় প্রভাতের সোনা–

সন্ধ্যা না হতে ফুরায়ে ফেলিয়া

ভেসে যায় আনমনা॥

 

১৫৯

ভেবেছিনু গনি গনি লব সব তারা–

গনিতে গনিতে রাত হয়ে যায় সারা,

বাছিতে বাছিতে কিছু না পাইনু বেছে।

আজ বুঝিলাম, যদি না চাহিয়া চাই

তবেই তো একসাথে সব-কিছু পাই,

সিন্ধুরে তাকায়ে দেখো,মরিয়ো না সেঁচে॥

 

১৬০

তোমারে, প্রিয়ে, হৃদয় দিয়ে

জানি তবুও জানি নি।

সকল কথা বল নি অভিমানিনী॥

 

১৬১

লিলি,তোমারে গেঁথেছি হারে,আপন বলে চিনি,

তবুও তুমি রবে কি বিদেশিনী॥

 

১৬২

ফুলের লাগি তাকায়ে ছিলি শীতে

ফলের আশা ওরে!

ফুটিল ফুল ফাগুন-রজনীতে,

বিফলে গেল ঝরে॥

 

১৬৩

নিমেষকালের অতিথি যাহারা পথে আনাগোনা করে,

আমার গাছের ছায়া তাহাদেরি তরে।

যে জনার লাগি চিরদিন মোর আঁখি পথ চেয়ে থাকে

আমার গাছের ফল তারি তরে পাকে॥

 

১৬৪

বহ্নি যবে বাঁধা থাকে তরুর মর্মের মাঝখানে

ফলে ফুলে পল্লবে বিরাজে।

যখন উদ্দাম শিখা লজ্জাহীনা বন্ধন না মানে

মরে যায় ব্যর্থ ভস্মমাঝে॥

 

১৬৫

কানন কুসুম-উপহার দেয় চাঁদে

সাগর আপন শূন্যতা নিয়ে কাঁদে॥

 

১৬৬

লেখনী জানে না কোন্‌ অঙ্গুলি লিখিছে

লেখে যাহা তাও তার কাছে সবি মিছে॥

 

১৬৭

মন্দ যাহা নিন্দা তার রাখ না বটে বাকি।

ভালো যেটুকু মূল্য তার কেন বা দাও ফাঁকি॥

 

১৬৮

আকাশ কভু পাতে না ফাঁদ

কাড়িয়ে নিতে চাঁদে,

বিনা বাঁধনে তাই তো চাঁদ,

নিজেরে নিজে বাঁধে।

 

১৬৯

সমস্ত-আকাশ-ভরা আলোর মহিমা

তৃণের শিশিরমাঝে খোঁজে নিজ সীমা॥

 

১৭০

প্রভাত-আলোরে বিদ্রূপ করে ও কি

ক্ষুরের ফলার নিষ্ঠুর ঝকমকি॥

 

১৭১

একা এক শূন্যমাত্র, নাই অবলম্ব,

দুই দেখা দিলে হয় একের আরম্ভ॥

 

১৭২

প্রভেদেরে মানো যদি ঐক্য পাবে তবে,

প্রভেদ ভাঙিতে গেলে ভেদবৃদ্ধি হবে॥

 

১৭৩

মৃত্যুর ধর্মই এক, প্রাণধর্ম নানা,

দেবতা মরিলে হবে ধর্ম একখানা॥

 

১৭৪

আঁধার একেরে দেখে একাকার ক’রে।

আলোক একেরে দেখে নানা দিক ধ’রে॥

 

১৭৫

ফুল দেখিবার যোগ্য চক্ষু যার রহে

সেই যেন কাঁটা দেখে, অন্যে নহে নহে॥

 

১৭৬

ধুলায় মারিলে লাথি ঢোকে চোখে মুখে।

জল ঢালো, বালাই নিমেষে যাবে চুকে॥

 

১৭৭

ভালো করিবারে যার বিষম ব্যস্ততা

ভালো হইবারে তার অবসর কোথা॥

 

১৭৮

ভালো যে করিতে পারে ফেরে দ্বারে এসে,

ভালো যে বাসিতে পারে সর্বত্র প্রবেশে॥

 

১৭৯

আগে খোঁড়া করে দিয়ে পরে লও পিঠে,

তারে যদি দয়া বলো শোনায় না মিঠে॥

 

১৮০

হয় কাজ আছে তব নয় কাজ নাই,

কিন্তু “কাজ করা যাক’ বলিয়ো না ভাই॥

 

১৮১

কাজ সে তো মানুষের, এই কথা ঠিক।

কাজের মানুষ, কিন্তু  ধিক্‌ তারে ধিক্‌॥

অবকাশ কর্ম্মে খেলে আপনারি সঙ্গে,

সিন্ধুর স্তব্ধতা খেলে সিন্ধুর তরঙ্গে॥

প্রাণেরে মৃত্যুর ছাপ মূল্য করে দান,

প্রাণ দিয়া লভি তাই যাহা মূল্যবান॥

রস যেথা নাই সেথা যত কিছু খোঁচা,

মরুভূমে জন্মে শুধু কাঁটাগাছ বোঁচা॥

দর্পণে যাহারে দেখি সেই আমি ছায়া,

তারে লয়ে গর্ব্ব করি অপূর্ব্ব এ মায়া॥

আপনি আপনা চেয়ে বড়ো যদি হবে

নিজেকে নিজের কাছে নত করো তবে॥

প্রেমেরে যে করিয়াছে ব্যবসার অঙ্গ

প্রেম দূরে বসে বসে দেখে তার রঙ্গ॥

দুঃখেরে যখন প্রেম করে শিরোমণি

তাহারে আনন্দ বলে চিনি তো তখনি॥

অমৃত যে সত্য, তা’র নাহি পরিমাণ,

মৃত্যু তারে নিত্য নিত্য করিছে প্রমাণ॥

 

 

২৬ কার্ত্তিক, ১৩৩৩ Nov.7.1926   বুডাপেস্ট্‌ Balatonfűred, Hungary
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s