You are currently browsing the monthly archive for অক্টোবর 2013.

এই এক দেশ-যেখানে রক্তাক্ত হাইড্রোজেনের ভেতর

মেঘজমাট বেঁধে সৃষ্টি হয়েছিল

-এক চন্দ্রধারা

সেই চন্দ্রধারার নামই দেদীপ্যমান মুক্তিযুদ্ধ।

 

সৃষ্টির সময়ে ছিল

এক একেকটি আগুনের গোলক

যার সমবেত নাম বিদ্রোহী-জনতা

যেন এক আগ্নেয়গিরির যাদুঘর

টকবক হয়ে ফুটেছিল-দিগনড়রেখায়

উড়ছিল ধোঁয়ার কুÊলি

ঘনমেঘ-নীরদপুঞ্জ

কুড়ুলে মেঘ-আঁধিঝড়

তার মধ্যে থেকে উপচে উঠলো আমাদের স্বপ্নভূমি!

 

বিস্ময়কর রাসায়নিক মিশ্রণে

মরিয়া হয়ে উঠেছিল জনগণ

পাথরখণ্ডে সপ্তমুখী জবা ফুটলো

অসীম সাহসে-

একেকটি বরফের চাঁই গলে গলে

ফল্গুধারা তৈরি হলো !

 

রঙের ভিন্নতা ছিল না-

শরীরের যেকোনো স্হানে-মুখমণ্ডল, গলা, কাঁধ

হাত, পা, বুক অথবা পিঠে

সকল ধমনিতে একই রক্তের ধারা প্রবাহিত হয়েছিল

মস্তিষ্কের নিউরণে একই বাদ্যের দ্রিমি-দ্রিমি তাল ছিল

আমাদের দৃষ্টিহীনতা ছিল না

এমন কি আমরা একচক্ষু হরিণও ছিলাম না

আমাদের রক্ত জমাট বাঁধেনি

বিপন্ন সময়ে আমরা পরস্পর থেকে দূরে সরে থাকেনি

-শিরদাঁড়া উঁচু ছিল

আমাদের ছিল না পতঙ্গ-পতন !

রক্তক্ষরণের মধ্যে দিয়েও রক্তের প্রবহমানতা

-আনড়ঃনদী হয়ে জেগেছিল !

 

হৃদয়তন্ত্র কোন্‌ মন্ত্র নিয়ে জেগে উঠেছিল সেদিন ?

আমাদের কাঙ্ক্ষিত ছিল-

পরাধীনতার শৃংখলে-পরশাসিত থাকবো না

বশংবদ থাকবো না

দাসানুদাস হয়ে-পরনির্ভর থাকবো না

মেহনতি, শ্রমজীবী, কৃষিজীবীর ইশতেহার নিয়ে

শোষকশ্রেণির কব্জা থেকে বের হয়ে

-নিজের চারণভূমিতে

বৈষম্যহীন অবস্হায় সংহত হয়ে বেঁচে থাকবো !

 

অহিংস পথ দিয়ে আমরা যেতে চেয়েছিলাম

তবে সে পথে যেতে পারিনি-

রক্তাক্ত যুদ্ধের পথেই যেতে হয়েছিল !

ক্ষমতালোভী, সমরবণিক, যুদ্ধবাজ, ধর্মান্ধ-কালজ্ঞ শক্তি

ও সামাজ্যবাদ-

সোনার খাঁচায় আমাদের আটকে রাখতে পারেনি

আমরা হয়েছিলাম বালিহাঁস

ডাকপাখি

নীলকণ্ঠ

সোনাচড়াই !

 

বীতরাগ থেকে

নিঃস্পৃহতা ভেঙে আমরা জেগে উঠেছিলাম,

দ্বিধাহীনতা থেকে

অকুণ্ঠচিত্তে গীতি-নৃত্যে জেগে উঠেছিলাম,

মায়ামুগ্ধ থেকে

নিজের কোকিল সুরে জেগে উঠেছিলাম,

মনসড়াপ থেকে

ধ্যানমগ্ন হয়ে জেগে উঠেছিলাম,

ভয়গ্রসড় থেকে

দুঃসাহসে জেগে উঠেছিলাম,

শোকবিহ্বল থেকে

প্রাণপ্রাচুর্য নিয়ে জেগে উঠেছিলাম!

 

আর এখন-

আমরা কোন্‌ বিনষ্টির মধ্যে ?

আর এখন-

আমরা  কোন্‌ কপটভাষ্যের মধ্যে ?

আর এখন-

আমরা কোন্‌ স্বভাবদোষের মধ্যে ?

আর এখন-

আমরা কোন্‌ অশ্রুলোচনের মধ্যে ?

 

আমাদের অলোকসামান্য মুক্তিযুদ্ধ

আমাদের দেদীপ্যমান মুক্তিযুদ্ধ

ম্রিয়মান হয়ে যাবে ?

হারাবে তার স্বভাব-সৌন্দর্য

হারাবে তার উজ্জ্বলন

ও আকাশদিউটি !

যারফলে আমাদের দৃষ্টি জ্বালানোর পিলসুজ পর্যনড় থাকবে না ?

 

এত অকুঞ্চিত অন্ধকার

এত ছায়া-প্রচ্ছায়া

এত অন্ধকূপ

ধূপ জ্বালানোর লতাগৃহ নেই-

রাত্রি নামে-তমসাবৃত দিন !

 

চলো-অধিভুক্ত হই আবারও মুক্তিযুদ্ধে

চলো-কুণ্ঠামুক্ত হই আবারও মুক্তিযুদ্ধে

চলো-নবাঙ্কুর হই আবারও মুক্তিযুদ্ধে

চলো-প্রসববন্ধন হই আবারও মুক্তিযুদ্ধে।

 

তোমরা যতই টালবাহানায়, মুছে

ফেলে দিতে চাও দৃশ্যপট

পারবে না-

আমি স্বাক্ষী,

হিমপ্রবাহের মধ্যে থেকেও উষ্ণ ছিল

রক্ত-

আমি ছিলাম মুক্তক ছন্দ

মুক্তিযোদ্ধা,

গর্জে উঠেছিল এই হাতে

রাইফেল-

মানে যাবতীয় ক্ষোভ ভাষা পেয়েছিল,

বহু বছরের গ্লানি ছিল

রেখায রেখায়

এই চামড়ায়,

মিছেমিছি হা-ডু-ডু খেলায়

মরামারি নয়

অধিকারের শস্য ছিল

এবং লুণ্ঠনের বিপরীতে ছিল

প্রতিরোধ-

সেই গৌরবের চিহ্ন নিয়ে

বেঁচে আছি আমি

পারবে না।

শত যোজনের কত মরুভূমি পারায়ে গো,
কত বালু চরে কত আঁখি-ধারা ঝরায়ে গো,
বরষের পরে আসিল ঈদ!
ভূখারীর দ্বারে সওগাত বয়ে রিজওয়ানের,
কন্টক-বনে আশ্বাস এনে গুল-বাগের,
সাকীরে ”জা’মের” দিলে তাগিদ!

খুশীর পাপিয়া পিউ পিউ গাহে দিগ্বিদিক,
বধু-জাগে আজ নিশীথ-বাসরে নির্নিমিখ্।
কোথা ফুলদানী, কাঁদিছে ফুল!
সুদূর প্রবাসে ঘুম নাহি আসে কার সখার,
মনে পড়ে শুধু সোঁদা সোঁদা বাস এলো খোঁপার,
আকুল কবরী উলঝলুল্!!

ওগো কা’ল সাঁঝে দ্বিতীয়া চাঁদের ইশারা কোন্
মুজদা এনেছে, সুখে ডগমগ মুকুলী মন!
আশাবরী-সুরে ঝুরে সানাই।
আতর সুবাসে কাতর হ’ল গো পাথর-দিল্,
দিলে দিলে আজ বন্ধকী দেনা—-নাই দলীল,
কবুলিয়াতের নাই বালাই।।

আজিকে এজিদে হাসেনে হোসেনে গলাগলি,
দোজখে বেহেশ্তে ফুলে ও আগুনে ঢলাঢলি,
শিরীঁ ফরহাদে জড়াজড়ি।
সাপিনীর মত বেঁধেছে লায়লি কায়েসে গো,
বাহুর বন্ধে চোখ বূঁজে বঁধু আয়েসে গো।
গালে গালে চুমু গড়াগড়ি।।

দাউ দাউ জ্বলে আজি স্ফুর্তির জাহান্নাম
শয়তান আজ বেহেশ্তে বিলায় শরাব-জাম,
দুশমন দোস্ত্ এক-জামাত!
আজি আরাফাত্-ময়দান পাতা গাঁয়ে গাঁয়ে,
কোলাকুলি করে বাদশা-ফকীরে ভায়ে ভায়ে,
কা’বা ধ’রে নাচে ”লাত্-মানাত”।।

আজি ইসলামী-ডঙ্কা গরজে ভরি’ জাহান,
নাই বড় ছোট–সকল মানুষ এক সমান,
রাজা প্রজা নয় কারো কেহ।
কে আমীর তুমি নওয়াব বাদশা বালাখানায়?
সকল কালের কলঙ্ক তুমি: জাগালে হায়
ইসলামে তুমি সন্দেহ।।

ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই,
সুখ-দুখ সম-ভাগ ক’রে নেব সকলে ভাই,
নাই অধিকার সঞ্চয়ের।
কারো অখিঁ-জলে কারো ঝাড়ে কিরে জ্বলিবেদীপ?
দু’জনার হবে বুলন্দ-নসিব, লাখে লাখে হবে বদনসিব?
এ নহে বিধান ইসলামের।।

ঈদ্-অল-ফিতর আনিয়াছে তাই নব বিধান,
ওগো সঞ্চয়ী, উদ্বৃত্ত যা করিবে দান,
ক্ষুধার অন্ন হোক তোমার!
ভোগের পিয়ালা উপচায়ে পড়ে তব হাতে,
তৃষ্ণাতুরের হিসসা আছে ও পিয়ালাতে,
দিয়া ভোগ কর, বীর, দেদারঅঅ

বুক খালি ক’রে আপনারে আজ দাও জাকাত,
ক’রো না হিসাবী, আজি হিসাবের অঙ্কপাত!
একদিন কর ভূল হিসাব
দিলে দিলে আজ খুনসুড়ি করে দিললগী,
আজিকে ছায়েলা-লায়েলা-চুমায় লাল যোগী!
জামশেদ-বেচে চায় শরাব।।

পথে পথে আজ হাঁকিব, বন্ধু,
ঈদ-মোবারক! আসসালাম!
ঠোঁটে ঠোঁটে আজ বিলাব শিরনী ফুল-কালাম!
বিলিয়ে দেওয়ার আজিকে ঈদ।
আমার দানের অনুরাগে-রাঙা ঈদগা’ রে!
সকলের হাতে দিয়ে দিয়ে আজ আপনারে—
দেহ নয়, দিল হবে শহীদ।।

কলিকাতা
১৯শে চৈত্র, ১৩৩৩

বেলাল! বেলাল! হেলাল উঠেছে পশ্চিম আসমানে,
লুকাইয়া আছ লজ্জায় কোন মরুর গরস্থানে।
হের ঈদগাহে চলিছে কৃষক যেন প্রেত- কংকাল
কশাইখানায় যাইতে দেখেছ শীর্ণ গরুর পাল?
রোজা এফতার করেছে কৃষক অশ্রু- সলিলে হায়,
বেলাল! তোমার কন্ঠে বুঝি গো আজান থামিয়া যায়।
থালা, ঘটি, বাটি বাঁধা দিয়ে হের চলিয়াছে ঈদগাহে,
তীর খাওয়া বুক, ঋণে- বাঁধা- শির, লুটাতে খোদার রাহে।

জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ
মুমুর্ষ সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?
একটি বিন্দু দুধ নাহি পেয়ে যে খোকা মরিল তার
উঠেছে ঈদের চাঁদ হয়ে কি সে শিশু- পাঁজরের হাড়?
আসমান- জোড়া কাল কাফনের আবরণ যেন টুটে।
এক ফালি চাঁদ ফুটে আছে, মৃত শিশুর অধর পুটে।
কৃষকের ঈদ!ঈদগাহে চলে জানাজা পড়িতে তার,
যত তকবির শোনে, বুকে তার তত উঠে হাহাকার।
মরিয়াছে খোকা, কন্যা মরিছে, মৃত্যু- বন্যা আসে
এজিদের সেনা ঘুরিছে মক্কা- মসজিদে আশেপাশে।

কোথায় ইমাম? কোন সে খোৎবা পড়িবে আজিকে ঈদে?
চারিদিকে তব মুর্দার লাশ, তারি মাঝে চোখে বিঁধে
জরির পোশাকে শরীর ঢাকিয়া ধণীরা এসেছে সেথা,
এই ঈদগাহে তুমি ইমাম, তুমি কি এদেরই নেতা?
নিঙ্গাড়ি’ কোরান হাদিস ও ফেকাহ, এই মৃতদের মুখে
অমৃত কখনো দিয়াছ কি তুমি? হাত দিয়ে বল বুকে।
নামাজ পড়েছ, পড়েছ কোরান, রোজাও রেখেছ জানি,
হায় তোতাপাখি! শক্তি দিতে কি পেরেছ একটুখানি?
ফল বহিয়াছ, পাওনিক রস, হায় রে ফলের ঝুড়ি,
লক্ষ বছর ঝর্ণায় ডুবে রস পায় নাকো নুড়ি।

আল্লা- তত্ত্ব জেনেছ কি, যিনি সর্বশক্তিমান?
শক্তি পেলো না জীবনে যে জন, সে নহে মুসলমান।
ঈমান! ঈমান! বল রাতদিন, ঈমান কি এত সোজা?
ঈমানদার হইয়া কি কেহ বহে শয়তানি বোঝা?

শোনো মিথ্যুক! এই দুনিয়ায় পুর্ণ যার ঈমান,
শক্তিধর সে টলাইতে পারে ইঙ্গিতে আসমান।
আল্লাহর নাম লইয়াছ শুধু, বোঝনিক আল্লারে।
নিজে যে অন্ধ সে কি অন্যরে আলোকে লইতে পারে?
নিজে যে স্বাধীন হইলনা সে স্বাধীনতা দেবে কাকে?
মধু দেবে সে কি মানুষে, যাহার মধু নাই মৌচাকে?

কোথা সে শক্তি- সিদ্ধ ইমাম, প্রতি পদাঘাতে যার
আবে- জমজম শক্তি- উৎস বাহিরায় অনিবার?
আপনি শক্তি লভেনি যে জন, হায় সে শক্তি-হীন
হয়েছে ইমাম, তাহারি খোৎবা শুনিতেছি নিশিদিন।
দীন কাঙ্গালের ঘরে ঘরে আজ দেবে যে নব তাগিদ
কোথা সে মহা- সাধক আনিবে যে পুন ঈদ?
ছিনিয়া আনিবে আসমান থেকে ঈদের চাঁদের হাসি,
ফুরাবে না কভু যে হাসি জীবনে, কখনো হবে না বাসি।
সমাধির মাঝে গণিতেছি দিন, আসিবেন তিনি কবে?
রোজা এফতার করিব সকলে, সেই দিন ঈদ হবে।

কুড়ালের ছায়া দুলে উঠে যদি বলে যায়

আর ফাল্গুনে পলাশ না ফোটে,

শিমুল নাফোটে, না ফোটে ডালিম

উস্কানির আলো কোন লাল ফুল!

দীর্ঘদেহী কুড়ালের ছায়া দুলে ওঠে বাঙলায়..

ইতিহাস আছে, কোন

কুড়াল শাসন ভীত ইতিহাস?

বাঙালি রক্তের মত লাল

ফুল ফুটবেই

অনন্ত ফাল্গুন.

 

কবি কণ্ঠে শুনুন: 

চোখ বাঁধা, আরো কালো, আলো

ছাড়া জায়গায়
নিয়ে যায়, অস্ত্রধারী র্দুবৃত্ত সৈনিক ষোলজন।

তাঁর হাত বাঁধা, কোমড়ের চারদিকে থাকে দড়ি
পা চলেছে, টানা হেঁচড়ায় —

খোঁড়া করে, পোড়া মাটি আর ছাইযের গন্ধ নিয়ে
বধ্যভূমি তৈরি করবার জন্য, হয়
মগ্ন, নগ্ন বিভৎসতায় মেঘে মেঘে
লগ্ন বেড়ে যায়।

সে হয়েছে বন্দি, কেনো সন্ধি নয়, গুম
খুনে চিরঘুম —
তবু মুখ উন্মুখ হয়েছে, সোনামুখ
স্বাধীনতা, তাঁর স্বাধীনতা।

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

অক্টোবর 2013
S S M T W T F
« Sep   Nov »
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
%d bloggers like this: