You are currently browsing the category archive for the ‘অ-ও’ category.

গাছ তো কাটাই যায়; আমি গাছ লাগাতে এসেছি
যে আমাকে ঘৃণা করে, পত্রপুষ্পে তাকেও সাজাব
জানালাটা বন্ধ কেন? খোলো, খোলো, জংধরা মুঠি
পাহাড়ের কাছে যাও, নদীদের সর্বমনে ডাকো
মাটির খাতায় লেখো জলের ঠিকুজি
খাগের কলমে আঁকো প্রেম
শষ্যে গাও সমাত্মজীবনী
শান্ত হও যুদ্ধবাজ মন
জয়-পরাজয়ে লেখা যুদ্ধশেষে শোষকবদল হয় শুধু
নতুন শোকের গল্প শুরু হয় যুদ্ধাহত বঞ্চনার পাড়ে
আমি কোনো বিজয় দেখিনি
আমি আজও বিজয় দেখিনি

২ পৌষ, ১৪২৩
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

না, কোনও মানুষ নয়, পাখিরা যা বলাবলি করে, আমি শুনি
বাণিজ্যিক ধুলো ওড়ে পাছাভারি বণিক বাতাসে
ধুলোয় ধূসর সব; কে যে কাকে কী যে কথা বলে
কাজ শেষ, কথাও অচল
বিশ্বায়নদুষ্টতায় প্রেমও বোঝে শেয়ার বাজার
চুমুও মুনাফা খোঁজে; কবিতাও বাজারি পাঠক
গাছের বাকলে কারা নাম লিখে ফিরে গেছে ঘরে?
কে সেই অচেনা ফুল, মাঠপাড়ে অনাদরে ফোটে?
কে নদী নীরবে কাঁদে প্রাণঘাতী মানবদূষণে?
কে প্রেম ঋদ্ধ করে বামাচারী পাণ্ডবের গোলা?
কেউ আর কাউকে চেনে না
না, কোনও মানুষ নয়, পাখিরা যা বলাবলি করে, আমি শুনি

১৬ মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ
২৯ জানুয়ারি, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

নদীরা বিশ্রাম নেয় পাড়ের বালিশে মাথা রেখে
নালিঘাসে বেণি বেঁধে গল্প করে হিজলের সাথে
কার্পণ্য জানে না নদী; কৃপণতা ডোবার স্বভাব
নদী যদি নদী হয়, জলের কণাও আঁকে ঢেউ
ঢেউ যদি ঢেউ হয়, বহু জনপদে তার বাড়ি

প্রেম?

আগে তো নদীই ছিল; এখন ডোবাও নয়;– বালু

১৫ পৌষ, ১৪২৩
২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭

‘কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর, আমি ডালের বড়ি
শুকিয়ে রেখেছি—
খোকা তুই কবে আসবি!
কবে ছুটি?’

চিঠিটা তার পকেটে ছিল,
ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।

‘মাগো, ওরা বলে,
সবার কথা কেড়ে নেবে
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা, তাই কি হয়?
তাইতো আমার দেরী হচ্ছে।
তোমার জন্য কথার ঝুড়ি নিয়ে
তবেই না বাড়ী ফিরবো।
লক্ষ্মী মা রাগ ক’রো না,
মাত্রতো আর কটা দিন।’

‘পাগল ছেলে’ ,
মা পড়ে আর হাসে,
‘তোর ওপরে রাগ করতে পারি!’

নারকেলের চিঁড়ে কোটে,
উড়কি ধানের মুড়কি ভাজে
এটা সেটা আরো কত কি!
তার খোকা যে বাড়ী ফিরবে!
ক্লান্ত খোকা!

কুমড়ো ফুল
শুকিয়ে গেছে,
ঝ’রে প’ড়েছে ডাঁটা;
পুঁইলতাটা নেতানো,—
‘খোকা এলি?’

ঝাপসা চোখে মা তাকায়
উঠোনে, উঠোনে
যেখানে খোকার শব
শকুনিরা ব্যবচ্ছেদ করে।

এখন,
মা’র চোখে চৈত্রের রোদ
পুড়িয়ে দেয় শকুনিদের।
তারপর,
দাওয়ায় ব’সে
মা আবার ধান ভানে,
বিন্নি ধানের খই ভাজে,
খোকা তার
কখন আসে! কখন আসে!

এখন,
মা’র চোখে শিশির ভোর,
স্নেহের রোদে
ভিটে ভরেছে।

আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।
নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তোমার কাছে ?
-হাত দিওনা আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।
বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে
শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছড়িয়ে থাকে।
জল ছাড়িয়ে দল হারিয়ে গেলাম বনের দিক
সবুজ বনের হরিণ টিয়ে করে রে ঝিকমিক।
বনের কাছে এই মিনতি, ফিরিয়ে দেবে ভাই,
আমার মায়ের গয়না নিয়ে ঘরকে যেতে চাই।
কোথায় পাবো তোমার মায়ের হারিয়ে যাওয়া ধন
আমরা তো সব পাখপাখালি বনের সাধারণ।
সবুজ চুলে ফুল পিন্দেছি নোলক পরি নাতো !
ফুলের গন্ধ চাও যদি নাও, হাত পাতো হাত পাতো
বলে পাহাড় দেখায় তাহার আহার ভরা বুক
হাজার হরিণ পাতার ফাঁকে বাঁকিয়ে রাখে মুখ।
এলিয়ে খোঁপা রাত্রি এলেন, ফের বাড়ালাম পা
আমার মায়ের গয়না ছাড়া ঘরকে যাবো না।

কবিতা তো কৈশোরের স্মৃতি। সে তো ভেসে ওঠা ম্লান
আমার মায়ের মুখ; নিম ডালে বসে থাকা হলুদ পাখিটি
পাতার আগুন ঘিরে রাতজাগা ভাই-বোন
আব্বার ফিরে আসা, সাইকেলের ঘন্টাধ্বনি–রাবেয়া রাবেয়া–
আমার মায়ের নামে খুলে যাওয়া দক্ষিণের ভেজানো কপাট!

কবিতা তো ফিরে যাওয়া পার হয়ে হাঁটুজল নদী
কুয়াশায়-ঢাকা-পথ, ভোরের আজান কিম্বা নাড়ার দহন
পিঠার পেটের ভাগে ফুলে ওঠা তিলের সৌরভ
মাছের আঁশটে গন্ধ, উঠানে ছড়ানো জাল আর
বাঁশঝাড়ে ঘাসে ঢাকা দাদার কবর।

কবিতা তো ছেচল্লিশে বেড়ে ওঠা অসুখী কিশোর
ইস্কুল পালানো সভা, স্বাধীনতা, মিছিল, নিশান
চতুর্দিকে হতবাক দাঙ্গার আগুনে
নিঃস্ব হয়ে ফিরে আসা অগ্রজের কাতর বর্ণনা।

কবিতা চরের পাখি, কুড়ানো হাঁসের ডিম, গন্ধভরা ঘাস
ম্লান মুখ বউটির দড়ি ছেঁড়া হারানো বাছুর
গোপন চিঠির প্যাডে নীল খামে সাজানো অক্ষর
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

মার্চ 2017
S S M T W T F
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
%d bloggers like this: