You are currently browsing the category archive for the ‘গোলাম কিবরিয়া পিনু’ category.

কোন অভীষ্টের জন্যে এ রকম ছায়া নিয়ে যুক্ত
শুদ্ধ হচ্ছে কার হাতে কার মুক্তিযুদ্ধ?

তর্ক নামে শীতলতায় কিংবা উত্তাপে
সূক্ষ্মভাবে ফেলে দিচ্ছি কাউকে কাউকে খাপে!
রাজমুকুটের চাপে!

দৃষ্টিগ্রাহ্য যা কিছু তা পিছু পিছু টেনে
বোধগম্য কারণে-বারণে
কীযে তোলা হচ্ছে ক্রেনে আর কীযে তোলা হচ্ছে ট্রেনে।
কোন দফতর থেকে দেওয়া হচ্ছে খেতাপ-সর্বস্ব নাম
আর রংমাখা মোমবাতি?
পর্বতমালায় কি হয়েছে তৈরী এ ইতিহাস?
নেই রক্ত, নেই কারো ঘাম!

পোশাক পালটাতে পালটাতে
উচু-নিচু গিয়ারে ওঠা-নামা করতে করতে
কুচকাওয়াজকালেআটকে পড়ছি কোন জালে!
আজকাল রং পালটায় কি শুধুই গিরগিটি?
বাতিকগ্রস্ত চরিত্র রূপায়ণে যারা পারদর্শী
তাদেরই হাতে পালটে যাচ্ছে বিজয়মুকুট-
ইতিহাস হাসে মিটিমিটি ।

এই এক দেশ-যেখানে রক্তাক্ত হাইড্রোজেনের ভেতর

মেঘজমাট বেঁধে সৃষ্টি হয়েছিল

-এক চন্দ্রধারা

সেই চন্দ্রধারার নামই দেদীপ্যমান মুক্তিযুদ্ধ।

 

সৃষ্টির সময়ে ছিল

এক একেকটি আগুনের গোলক

যার সমবেত নাম বিদ্রোহী-জনতা

যেন এক আগ্নেয়গিরির যাদুঘর

টকবক হয়ে ফুটেছিল-দিগনড়রেখায়

উড়ছিল ধোঁয়ার কুÊলি

ঘনমেঘ-নীরদপুঞ্জ

কুড়ুলে মেঘ-আঁধিঝড়

তার মধ্যে থেকে উপচে উঠলো আমাদের স্বপ্নভূমি!

 

বিস্ময়কর রাসায়নিক মিশ্রণে

মরিয়া হয়ে উঠেছিল জনগণ

পাথরখণ্ডে সপ্তমুখী জবা ফুটলো

অসীম সাহসে-

একেকটি বরফের চাঁই গলে গলে

ফল্গুধারা তৈরি হলো !

 

রঙের ভিন্নতা ছিল না-

শরীরের যেকোনো স্হানে-মুখমণ্ডল, গলা, কাঁধ

হাত, পা, বুক অথবা পিঠে

সকল ধমনিতে একই রক্তের ধারা প্রবাহিত হয়েছিল

মস্তিষ্কের নিউরণে একই বাদ্যের দ্রিমি-দ্রিমি তাল ছিল

আমাদের দৃষ্টিহীনতা ছিল না

এমন কি আমরা একচক্ষু হরিণও ছিলাম না

আমাদের রক্ত জমাট বাঁধেনি

বিপন্ন সময়ে আমরা পরস্পর থেকে দূরে সরে থাকেনি

-শিরদাঁড়া উঁচু ছিল

আমাদের ছিল না পতঙ্গ-পতন !

রক্তক্ষরণের মধ্যে দিয়েও রক্তের প্রবহমানতা

-আনড়ঃনদী হয়ে জেগেছিল !

 

হৃদয়তন্ত্র কোন্‌ মন্ত্র নিয়ে জেগে উঠেছিল সেদিন ?

আমাদের কাঙ্ক্ষিত ছিল-

পরাধীনতার শৃংখলে-পরশাসিত থাকবো না

বশংবদ থাকবো না

দাসানুদাস হয়ে-পরনির্ভর থাকবো না

মেহনতি, শ্রমজীবী, কৃষিজীবীর ইশতেহার নিয়ে

শোষকশ্রেণির কব্জা থেকে বের হয়ে

-নিজের চারণভূমিতে

বৈষম্যহীন অবস্হায় সংহত হয়ে বেঁচে থাকবো !

 

অহিংস পথ দিয়ে আমরা যেতে চেয়েছিলাম

তবে সে পথে যেতে পারিনি-

রক্তাক্ত যুদ্ধের পথেই যেতে হয়েছিল !

ক্ষমতালোভী, সমরবণিক, যুদ্ধবাজ, ধর্মান্ধ-কালজ্ঞ শক্তি

ও সামাজ্যবাদ-

সোনার খাঁচায় আমাদের আটকে রাখতে পারেনি

আমরা হয়েছিলাম বালিহাঁস

ডাকপাখি

নীলকণ্ঠ

সোনাচড়াই !

 

বীতরাগ থেকে

নিঃস্পৃহতা ভেঙে আমরা জেগে উঠেছিলাম,

দ্বিধাহীনতা থেকে

অকুণ্ঠচিত্তে গীতি-নৃত্যে জেগে উঠেছিলাম,

মায়ামুগ্ধ থেকে

নিজের কোকিল সুরে জেগে উঠেছিলাম,

মনসড়াপ থেকে

ধ্যানমগ্ন হয়ে জেগে উঠেছিলাম,

ভয়গ্রসড় থেকে

দুঃসাহসে জেগে উঠেছিলাম,

শোকবিহ্বল থেকে

প্রাণপ্রাচুর্য নিয়ে জেগে উঠেছিলাম!

 

আর এখন-

আমরা কোন্‌ বিনষ্টির মধ্যে ?

আর এখন-

আমরা  কোন্‌ কপটভাষ্যের মধ্যে ?

আর এখন-

আমরা কোন্‌ স্বভাবদোষের মধ্যে ?

আর এখন-

আমরা কোন্‌ অশ্রুলোচনের মধ্যে ?

 

আমাদের অলোকসামান্য মুক্তিযুদ্ধ

আমাদের দেদীপ্যমান মুক্তিযুদ্ধ

ম্রিয়মান হয়ে যাবে ?

হারাবে তার স্বভাব-সৌন্দর্য

হারাবে তার উজ্জ্বলন

ও আকাশদিউটি !

যারফলে আমাদের দৃষ্টি জ্বালানোর পিলসুজ পর্যনড় থাকবে না ?

 

এত অকুঞ্চিত অন্ধকার

এত ছায়া-প্রচ্ছায়া

এত অন্ধকূপ

ধূপ জ্বালানোর লতাগৃহ নেই-

রাত্রি নামে-তমসাবৃত দিন !

 

চলো-অধিভুক্ত হই আবারও মুক্তিযুদ্ধে

চলো-কুণ্ঠামুক্ত হই আবারও মুক্তিযুদ্ধে

চলো-নবাঙ্কুর হই আবারও মুক্তিযুদ্ধে

চলো-প্রসববন্ধন হই আবারও মুক্তিযুদ্ধে।

 

তোমরা যতই টালবাহানায়, মুছে

ফেলে দিতে চাও দৃশ্যপট

পারবে না-

আমি স্বাক্ষী,

হিমপ্রবাহের মধ্যে থেকেও উষ্ণ ছিল

রক্ত-

আমি ছিলাম মুক্তক ছন্দ

মুক্তিযোদ্ধা,

গর্জে উঠেছিল এই হাতে

রাইফেল-

মানে যাবতীয় ক্ষোভ ভাষা পেয়েছিল,

বহু বছরের গ্লানি ছিল

রেখায রেখায়

এই চামড়ায়,

মিছেমিছি হা-ডু-ডু খেলায়

মরামারি নয়

অধিকারের শস্য ছিল

এবং লুণ্ঠনের বিপরীতে ছিল

প্রতিরোধ-

সেই গৌরবের চিহ্ন নিয়ে

বেঁচে আছি আমি

পারবে না।

চোখ বাঁধা, আরো কালো, আলো

ছাড়া জায়গায়
নিয়ে যায়, অস্ত্রধারী র্দুবৃত্ত সৈনিক ষোলজন।

তাঁর হাত বাঁধা, কোমড়ের চারদিকে থাকে দড়ি
পা চলেছে, টানা হেঁচড়ায় —

খোঁড়া করে, পোড়া মাটি আর ছাইযের গন্ধ নিয়ে
বধ্যভূমি তৈরি করবার জন্য, হয়
মগ্ন, নগ্ন বিভৎসতায় মেঘে মেঘে
লগ্ন বেড়ে যায়।

সে হয়েছে বন্দি, কেনো সন্ধি নয়, গুম
খুনে চিরঘুম —
তবু মুখ উন্মুখ হয়েছে, সোনামুখ
স্বাধীনতা, তাঁর স্বাধীনতা।

নকুলজাতীয় মাংসাশী জন্তুরা

বাদ্যযন্ত্র নিয়ে পথে নামছে

এদের হাসির আওয়াজ-কাশির আওয়াজ এক

এরা জঞ্জালের সাথে চলে গিয়েছিল ডাস্টবিনে

ঘোড়া পেয়ে এসেছে আবার

এরা খেচাখেচি করছে এখন

এদের তিল-সরিষা থেকে যে তেল বের হয়

তা স্পর্শ করা যায় না-খাদ্যে মেশানো যায় না

এদের হাতে-খড়ি হয়েছে হত্যা আর ধর্ষণে

গোখুরা-সাপ এদের সহযোগী বন্ধু

এরা খাঁটি দুধে ঘি তৈয়ার করতে পারে না

এদের পোশাক খুলে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে

গায়ে মাংস লাগার পর

আবার নতুন পোশাক পরেছে, তাও খুলে পড়ছে-

এদের গা-গতর থেকে বমনের যাবতীয় দুর্গন্ধ বের হয়

এদের স্পর্শ করা যায় না।

এরা ক্রোধে মত্ত

এরা গিরগিটি

এরা ঘড়িয়াল,

এদের আওতায় জলাশয় রাখা যায় না।

এমন ঘণ্টা বাজাও-

এরা যেন বধির হয়ে যায়,

এমন আলো জ্বালো

এরা যেন অন্ধ হয়ে যায়।

মোল্লাচর থেকে কালাসোনা চর পর্যন্ত হেঁটেছে
কতদিন, বালুচর পাড়ি দিয়ে গিয়েছে উত্তরে
নদীতে সাঁতার
আঁধারের রাত শরীরে মিশানো শিহরনে
পার হয়ে গেছে শত্রু কবলিত রসুলপুরের
বাঁধ, ঠাঁই নিয়েছিল কখনো গোয়াল ঘরে
কখনো পলের পুন্জে, শীতকে করেছে
পরাজিত, উষ্ণ —
আশায় আশায়। ভাসানো ভেলায় গেছে
উজানে স্রোতের বিপরীতে
উলিপুর। দূর নয়, জনতার কাছাকাছি থেকে
রেখেছিল হাত রাইফেলে —
জনতার জন্যে, অরণ্যে ফুটেছে ফুল
বরেণ্যে বলেছে
তাঁকে — ‘মুক্তি’ ‘মুক্তি’।

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

ফেব্রুয়ারি 2017
S S M T W T F
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728  
%d bloggers like this: