You are currently browsing the category archive for the ‘প-ম’ category.

নাটকের যবনিকা এলে বদলে যায় পর্দার রঙ। যারা
অভিনয় করেছিল, তারা পোশাক পাল্টে মিশে যায় জনস্রোতে।
হাততালি দিতে দিতে যারা উপভোগ করেছিল দৃশ্যাবলি-
তারাও ভুলে যায় বিগত সংলাপ।
নাটকটি মূলত সাজানো ছিল, বলতে বলতে নাট্যকার
হাত দেন পরবর্তী পরিচ্ছেদ পরিকল্পনায়। বোকা মাটির ঘ্রাণ
বুকে নিয়ে পাখিরা সেরে নিতে চায়
দেশান্তরের শেষপর্ব।
আমি তাকিয়ে থাকি। অনেক কিছু জানি- তবু বলতে
পারি না। অনেক কিছু দেখি- তবু বিশ্বাস করতে পারি না।
নীল সীমান্তসনদের লোভে যারা বিক্রি করে দেয়
আমার স্বদেশ,
দেশান্তরের হীন আশায় যারা তৈরি করে নাটকের
দৃশ্যান্তর, আজ তারাই বড় দেশ প্রেমিক!
আজ তাদের জন্যই হাত বাড়িয়ে থাকে রক্ষক প্রভু !
তারপর…..
আরও কোনো নাটকের জন্ম দেয়া যায় কী না-
তা ভেবে দেখতে পুনরায় নির্দেশ দেন
মহাসম্রাট প্রযোজক !

কী লিখছ ঘন্টা-কচু?
ঘোড়ার ডিমের পোচ,অমলেট ?
লিখছ নাকি ?! কী সাংঘাতিক !
ভয়ডর নেই ? রাইট অ্যান্ড লেফট ?

কীসের সাহস? ডান বাম সব,
বাজারী দোকানে চেতনা বিকায়।
Give and Take -Take and Give
সারা দেশ চলে এই তরিকায়।

পুরু চামড়ার এই সময়ে,
ঝরে ঝরে যায় কচিপাতা মন;
ডানা মেলেনা তো ভাবনার পাখি,
গুমোট বাঁচার সময় এখন।

এই শহরের মরা কংকালে,
খুবলে খাচ্ছে হাজার শকুন;
বই মেলা চলে রং তামাশায়,
লুকিয়ে রয়েছে ঘাতক গোপন।

কীসের লেবাসে ধাতব ঝিলিক?
বিকিকিনি হয় ঐশী বচন;
বই এর শত্রু ছুরি-চাপাতি,
ফুটপাতে লাশ ; দেখো না এখন।

একদিন ছিল অন্যরকম,
বই এর গন্ধে মেলা মৌতাত;
সাহসী কথারা মেলেছিল ডানা ,
ছিলনা তো কোনো আড়ি-পাতা রাত।

শাহবাগ আর বইপাড়া নয়,
স্মৃতিতে এখন নিথর দীপন ;
মানুষ নেই তো মানুষের ভিড়ে,
শিরদাঁড়াহীন অন্য জীবন।

দ্রুত হেঁটে চলে মানুষের সারি,
লাশ পড়ে থাকে লাশের মতন ;
কী আসে যায় রাতের খবরে?
কাল তো আসবে, আগের মতন।

দেশটাকে চল ভাগাড় বানাই,
সবাই চেতনা কিনে-বেচে খাই ;
‘সাধারণ’ মানে কেউ কিছু নয়,
অধিকার শুধু আইনি পাতায়।

লাশ ভেসে যায় রক্তের তোড়ে,
কেউ নেই কেউ, কোথাও কি আর?
দেখেনা কি কেউ? শোনেনা কি আর?
চোখ-কান বোঁজা মানুষের সার।

ইচ্ছে করে, গলা ছেড়ে বলি :
‘বিকার্ হীনতা’ ফাঁসিতে ঝোলো !
জেগে উঠছো কি সাহসী কথারা ?
নৈ:শব্দ্য তো অনেক হলো।

 

কবি: https://www.facebook.com/junebd

সুহৃদ কতাপোস বলে, তোমার হাসি
নাকি পাথুরে দুর্গ থেকে চকিত পৃথিবীতে নামে বাজের দৃপ্ত সুষমায়।
আমি কি জানি না সে কথা? আকাশ-কন্যা তুমি,
তুমি মাটি আর পাতার সবুজতা ফালি ফালি করা হৃৎ-বিদ্যুৎ

সে বিদ্যুৎ যখন স্পর্শ করে মাটি, তখন ভোরের শিশির গায় গান,
টলমলিয়ে ওঠে হীরের জৌলুস, আলোর মৌমাছিরা হঠাৎ লাফায়,
আর যেখানে নীরবতা বয়েসী দাঁড়ির মত দীর্ঘকায়,
সেখানেই আচমকা বিস্ফোরিত হয় সূর্য, থালা ভরা চাঁদ

আকাশ নেমে আসে বমাল আঁধার, ভরা জ্যোৎস্নার আভায়
ভাসে দেবপুষ্প, রুপালি ঘন্টাধ্বনি,
সফেদ মদির বন্যতায় দৌঁড়ায় মাহুতের পোষা ঘোড়া।

তুমি যে তোমার মত ছোট এক মহাজাগতিক বিস্ময়,
তাই তোমার উল্কাময় হাসি বর্ষিত হোক অবিরাম,
প্রকৃতির তাবৎ নাম বিদ্যুৎ-আঙ্গিকে ঝলসে উঠুক।

-অনুবাদ: আনন্দময়ী মজুমদার
২০১৪/০৮/১৪

Cotapos says your laughter drops
like a hawk from a stony tower. It’s true:
daughter of the sky, you slit the world
and its green leaves, with one bolt of your lightning:

it falls, it thunders: the tongues of the dew,
the waters of a diamond, the light with its bees
leap. And there where a long-bearded silence had lived,
little bombs of light explode, the sun and the stars,

down comes the sky, with its thick-shadowed night,
bells and carnations glow in the full moon,
the saddlemakers’ horses gallop.

Because you are small as you are, let it
rip: let the meteor of your laughter
fly: electrify the natural names of things!

L —`100 Sonnets of Love’, by Pablo Neruda

রক্তের আলকাতরা অন্ধকারে বধ্যরাত্রি

দালি’র চোয়ানো ঘড়ির মত মহাকালে জমাট

ধ্বংস চমকে উজ্জ্বলন্ত পলকের লোমহর্ষ লাল!

 

গলনাঙ্কে হিমালয় এত ফিনকি ধারা কখনো দ্যাখেনি

কখনো দ্যাখেনি এত জল বঙ্গোপসাগর

কখনো মাখেনি কোন মুক্তিযুদ্ধ এত সংশপ্তকের হৃৎপিণ্ডের লাভা৤

লক্ষপ্রাণের ঘনীভূত একছোপ চোয়ানো রক্তের মত

মহাকালের প্রকাশ্য দিবালোকে জমাট

বাংলাদেশের মানচিত্র

অনন্তে একছোপ চোয়ানো রক্তের মত মহাকালে জমাট৤

 

অগ্নিচেতনার লাল

নিজস্ব তাজা ক্ষতের মত লাল

স্বাধীনতা বাঙালি রক্তের মত লাল৤

 

 

কুড়ালের ছায়া দুলে উঠে যদি বলে যায়

আর ফাল্গুনে পলাশ না ফোটে,

শিমুল নাফোটে, না ফোটে ডালিম

উস্কানির আলো কোন লাল ফুল!

দীর্ঘদেহী কুড়ালের ছায়া দুলে ওঠে বাঙলায়..

ইতিহাস আছে, কোন

কুড়াল শাসন ভীত ইতিহাস?

বাঙালি রক্তের মত লাল

ফুল ফুটবেই

অনন্ত ফাল্গুন.

 

কবি কণ্ঠে শুনুন: 

পুরনো পকেট থেকে উঠে এল কবেকার শুকনো গোলাপ |
কবেকার ? কার দেওয়া ? কোন্ মাসে ? বসন্তে না শীতে ?
গোলাপের মৃতদেহে তার পাঠযোগ্য স্মৃতিচিহ্ন নেই |

স্মৃতি কি আমারও আছে ? স্মৃতি কি গুছিয়ে রাখা আছে
বইয়ের তাকের মত, লং প্লেইং রেকর্ড-ক্যাসেটে
যে-রকম সুসংবদ্ধ নথীভুক্ত থাকে গান, আলাপচারীতা ?

আমার স্মৃতিরা বড় উচ্ছৃঙ্খল, দমকা হাওয়া যেন
লুকোচুরি, ভাঙাভাঙি, ওলোটপালটে মহাখুশি
দুঃখেরও দুপুরে গায়, গাইতে পারে, আনন্দ-ভৈরবী |

আকাঙ্খার ডানাগুলি মিশে গেছে আকাশের অভ্রে ও আবীরে
আগুনের দিনগুলি মিশে গেছে সদ্যজাত ঘাসের সবুজে
প্রিয়তম মুখগুলি মিশে গেছে সমুদ্রের ভিতরের নীলে |

স্মৃতি বড় উচ্ছৃঙ্খল, দুহাজার বছরেও সব মনে রাখে
ব্যাধের মতন জানে অরণ্যের আদ্যোপান্ত মূর্তি ও মর্মর |
অথচ কাল বা পরশু কে ডেকে গোলাপ দিল কিছুতে বলবে না |

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

ফেব্রুয়ারি 2017
S S M T W T F
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728  
%d bloggers like this: