You are currently browsing the category archive for the ‘য-হ’ category.

শামুকখোলে শরীর ঢাকো
মুখটি লুকাও শামুকখোলে,
নষ্ট সময় নষ্ট সমাজ
নষ্টামিতে জীবন দোলে।
দুশো ছয়টি হাড়ে গড়া
ছিল তোমার অমন দেহ,
হাড্ডিবিহীন হলো শরীর
হাড়ের দেখা পায় না কেহ।
বিবর্তনের ধারায় পড়ে
বদল তোমার জেলি ফিসে,
মানিয়ে নেওয়াই আসল কথা
টিকে থাকায় লজ্জা কিসে!
শামুক দেখে ঘেন্না ভরে
কত কিছুই বলতে তুমি,
নিজেই এখন শামুকখোলে
আঁকড়ে থাকো পলল ভূমি।
হারিয়ে যাওয়া ডাইনোসরের
এখনও আছে ফসিল কত,
তোমার এমন হারিয়ে যাওয়ায়
ধরণী আজ লজ্জা-নত।
শামুকখোলে শরীর ঢাকো
মুখটি লুকাও শামুকখোলে,
মানুষ কি আর যায় রে হওয়া
মানুষবেশেই জন্ম নিলে?

ভীষন ক্ষুধার্ত আছিঃ উদরে, শারীরবৃত্ত ব্যেপে
অনুভূত হতে থাকে – প্রতিপলে – সর্বগ্রাসী ক্ষুধা
অনাবৃষ্টি যেমন চরিত্রের শস্যক্ষেত্রে জ্বেলে দেয়
প্রভূত দাহন – তেমনি ক্ষুধার জ্বালা, জ্বলে দেহ
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য কোনও দাবি
অনেক অনেক-কিছু চেয়ে নিয়েছে, সকলেই চায়ঃ
বাড়ি, গাড়ী, টাকাকড়ি- কারো বা খ্যাতির লোভ আছে;
আমার সামান্য দাবিঃ পুড়ে যাচ্ছে পেটের প্রান্তর-
ভাত চাই-এই চাওয়া সরাসরি – ঠান্ডা বা গরম,
সরূ বা দারুণ মোটা রেশনের লাল চাল হ’লে
কোনো ক্ষতি নেই মাটির শানকি ভর্তি ভাত চাইঃ
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে ছেড়ে দেবো অন্য সব দাবি!
অযৌক্তিক লোভ নেই, এমনকি নেই যৌন ক্ষুধা-
চাইনি তো নাভিনিম্নে পড়া শাড়ি, শাড়ির মালিক;
যে চায় সে নিয়ে যাক – যাকে ইচ্ছা তাকে দিয়ে দাও –
জেনে রাখোঃ আমার ও সব এ কোনও প্রয়োজন নেই।

যদি না মেটাতে পারো আমার সামান্য এই দাবি,
তোমার সমস্ত রাজ্যে দক্ষযজ্ঞ কান্ড ঘটে যাবে;
ক্ষুধার্তের কাছে নেই ইষ্টানিষ্ট, আইন-কানুন –
সমুখে যা পাবো খেয়ে নেবো অবলীলাক্রমে;
যদি বা দৈবাৎ সম্মুখে তোমাকে, ধর, পেয়ে যাই –
রাক্ষুসে ক্ষুধার কাছে উপাদেয় উপাচার হবে।
সর্বপরিবেশগ্রাসী হ’লে সামান্য ভাতের ক্ষুধা
ভয়াবহ পরিনতি নিয়ে আসে নিমন্ত্রণ করে!

দৃশ্য থেকে দ্রষ্টা অবধি ধারাবাহিকতা খেয়ে ফেলে
অবশেষে যথাক্রমে খাবোঃ গাছপালা, নদী-নালা,
গ্রাম-গঞ্জ, ফুটপাথ, নর্দমার জলের প্রপাত,
চলাচলকারী পথচারী, নিতম্ব-প্রধান নারী,
উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ী-
আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ।
ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো।

যতোদিন পর্যন্ত তুমি
মানুষের নাম দিচ্ছ
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান মুসলমান
ততোদিন পর্যন্ত তুমি
মানুষ হতে পারছ না।

যতোদিন পর্যন্ত তুমি
মানুষকে অশিক্ষিত মূর্খ
সাদা কালো ধনী দরিদ্র
অজাত কুজাত অভিজাতে
ভাগ করছ
ততোদিন পর্যন্ত তুমি
মানুষ হতে পারছ না।

যতোদিন পর্যন্ত তুৃমি
জন্তুর মতোই শিকার
করছ, রমণ গমন ও
যাপন করছ
ততোদিন পর্যন্ত তুমি
মানুষ হতে পারছ না।

————–
২৯শে ডিসেম্বর ২০১৬
আলেস, সুদ ফ্রান্স

ব্ল্যাকহোলের মধ্যে আমার বাস
যেখানে সূর্যও ভয়ে লুকোয়,
দিনের আলোও অন্ধকারের
গর্ভে নিঃশব্দে ঘুমিয়ে থাকে;
আকাশ দেখি না অনেকদিন
তারাগুলোও অচেনা অভিমানে।

অনেকদিন যাওয়া হয় নি
অ্যাসফল্টের রাস্তা ধরে
সেই স্বপ্ন মাখা ছোটো গ্রামে
যেখানে পাহাড়ি নদী অপেক্ষায় আছে,
যেখানে একটি কুঁড়ে ঘর আজও একা
রামধনুর সাত রং সাত সুর হয়ে ডেকে চলেছে।

এখানে কাঁচের টেস্টটিউবের মধ্যে
প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নিঃসঙ্গতা,
ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
শহুরে জীবনের অভ্যন্তরে
নিজের অস্তিত্বকে খুঁজে বেড়াই,
একটি বিশাল শকুনের ছায়া
প্রতিনিয়ত খুবলে খাচ্ছে আমার আমিকে।

অনেকদিন যাওয়া হয়নি গঙ্গার ধারে
গোধূলি রাঙা বিকেলে
জীবনের আবর্তনে ধ্বংস থেকে
নতুন ভাবে সৃষ্ট আমি-
একসময় যার নিঃশ্বাসে কার্ফু লেগেছিল,
জীবনের ভুলভুলাইয়ায় আজ
ছড়িয়ে গেছি শূন্য থেকে মহাশূন্যে।

যদি মনে করো ভালোবাসা মরে গেছে
যদি মনে করো ভালোবাসা আর নেই
যদি মনে করো ভালোবাসা বলে কখনো ছিল না কিছু—
তখন তাকিয়ে দেখো বাগানের দিকে—
সূর্যের দিকে শিমলতা চেয়ে আছে!
অথবা গাছের গুঁড়িতে পিঁপড়ে বাসা করে দেখে নিয়ো,
বেরিয়েছে ওরা তোমার গলার মতির মালার মতো
দীর্ঘ সারিতে মানুষের দিকে শর্করা সন্ধানে,
যদি মনে করো ভালোবাসা মরে গেছে
ভালোবাসার এই শব্দের মানে ওখানে উল্টে দেখো।
পথের কুকুর শুয়ে থাকে ঘুমে ল্যাম্পপোস্টের নিচে,
ভিখিরি খোঁড়ায় হেঁটে যায় তবু হাত তার পেতে রাখে,
কোথাও কিছুই মরে যায়নি তো,

ঘুমে জাগরণে অভাবে অধীরে তবু
রৌদ্রের দিকে।
পাতা ঝরে যায়, পাতা ধরে ওঠে মাঠ,
শাকান্ন তবু পরিতৃপ্তিতে সংশয়ী হাত চাটে—
যদি মনে করো ভালোবাসা বলে কখনো ছিল না কিছু,
অন্তত নিয়ো আমার অন্ন তোমাদের পাতে তুলে।

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫, লন্ডন, সকাল সাড়ে আটটা

এ বড় কঠিন রাত

কনকনে শীতের রাত
হাড়ের ভেতরে শীত
কনকনে শীত
যদি এ কেমন শীত—এই জিজ্ঞাসায়
নিজের ভেতরে যে তাকায়
সে দেখতে পায়
ভালোবাসায় যে ছিল
সে যখন চলে গিয়েছিল
তখন হৃদয়ে তার নেমে এসেছিল
বরফের মতো যে শূন্যতা
তাকে বলে শীত
কনকনে শীত
হাওয়ার ভেতরে যদি কারও শব্দ ওঠে
পায়ের কোমল শব্দ যদি অকস্মাৎ—
তখন বসন্তদিন শীত ছিন্ন করে
তখন এ বড় নয় কনকনে রাত
তখন বসন্ত আর পাখিদের গাঢ় কলরব—
কিন্তু এ এখন আমি মধু থেকে এত দূরে
বরফে জমাট এক মানবিক শব।

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

মার্চ 2017
S S M T W T F
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
%d bloggers like this: