You are currently browsing the category archive for the ‘য-হ’ category.

যতোদিন পর্যন্ত তুমি
মানুষের নাম দিচ্ছ
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান মুসলমান
ততোদিন পর্যন্ত তুমি
মানুষ হতে পারছ না।

যতোদিন পর্যন্ত তুমি
মানুষকে অশিক্ষিত মূর্খ
সাদা কালো ধনী দরিদ্র
অজাত কুজাত অভিজাতে
ভাগ করছ
ততোদিন পর্যন্ত তুমি
মানুষ হতে পারছ না।

যতোদিন পর্যন্ত তুৃমি
জন্তুর মতোই শিকার
করছ, রমণ গমন ও
যাপন করছ
ততোদিন পর্যন্ত তুমি
মানুষ হতে পারছ না।

————–
২৯শে ডিসেম্বর ২০১৬
আলেস, সুদ ফ্রান্স

ব্ল্যাকহোলের মধ্যে আমার বাস
যেখানে সূর্যও ভয়ে লুকোয়,
দিনের আলোও অন্ধকারের
গর্ভে নিঃশব্দে ঘুমিয়ে থাকে;
আকাশ দেখি না অনেকদিন
তারাগুলোও অচেনা অভিমানে।

অনেকদিন যাওয়া হয় নি
অ্যাসফল্টের রাস্তা ধরে
সেই স্বপ্ন মাখা ছোটো গ্রামে
যেখানে পাহাড়ি নদী অপেক্ষায় আছে,
যেখানে একটি কুঁড়ে ঘর আজও একা
রামধনুর সাত রং সাত সুর হয়ে ডেকে চলেছে।

এখানে কাঁচের টেস্টটিউবের মধ্যে
প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নিঃসঙ্গতা,
ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
শহুরে জীবনের অভ্যন্তরে
নিজের অস্তিত্বকে খুঁজে বেড়াই,
একটি বিশাল শকুনের ছায়া
প্রতিনিয়ত খুবলে খাচ্ছে আমার আমিকে।

অনেকদিন যাওয়া হয়নি গঙ্গার ধারে
গোধূলি রাঙা বিকেলে
জীবনের আবর্তনে ধ্বংস থেকে
নতুন ভাবে সৃষ্ট আমি-
একসময় যার নিঃশ্বাসে কার্ফু লেগেছিল,
জীবনের ভুলভুলাইয়ায় আজ
ছড়িয়ে গেছি শূন্য থেকে মহাশূন্যে।

যদি মনে করো ভালোবাসা মরে গেছে
যদি মনে করো ভালোবাসা আর নেই
যদি মনে করো ভালোবাসা বলে কখনো ছিল না কিছু—
তখন তাকিয়ে দেখো বাগানের দিকে—
সূর্যের দিকে শিমলতা চেয়ে আছে!
অথবা গাছের গুঁড়িতে পিঁপড়ে বাসা করে দেখে নিয়ো,
বেরিয়েছে ওরা তোমার গলার মতির মালার মতো
দীর্ঘ সারিতে মানুষের দিকে শর্করা সন্ধানে,
যদি মনে করো ভালোবাসা মরে গেছে
ভালোবাসার এই শব্দের মানে ওখানে উল্টে দেখো।
পথের কুকুর শুয়ে থাকে ঘুমে ল্যাম্পপোস্টের নিচে,
ভিখিরি খোঁড়ায় হেঁটে যায় তবু হাত তার পেতে রাখে,
কোথাও কিছুই মরে যায়নি তো,

ঘুমে জাগরণে অভাবে অধীরে তবু
রৌদ্রের দিকে।
পাতা ঝরে যায়, পাতা ধরে ওঠে মাঠ,
শাকান্ন তবু পরিতৃপ্তিতে সংশয়ী হাত চাটে—
যদি মনে করো ভালোবাসা বলে কখনো ছিল না কিছু,
অন্তত নিয়ো আমার অন্ন তোমাদের পাতে তুলে।

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫, লন্ডন, সকাল সাড়ে আটটা

এ বড় কঠিন রাত

কনকনে শীতের রাত
হাড়ের ভেতরে শীত
কনকনে শীত
যদি এ কেমন শীত—এই জিজ্ঞাসায়
নিজের ভেতরে যে তাকায়
সে দেখতে পায়
ভালোবাসায় যে ছিল
সে যখন চলে গিয়েছিল
তখন হৃদয়ে তার নেমে এসেছিল
বরফের মতো যে শূন্যতা
তাকে বলে শীত
কনকনে শীত
হাওয়ার ভেতরে যদি কারও শব্দ ওঠে
পায়ের কোমল শব্দ যদি অকস্মাৎ—
তখন বসন্তদিন শীত ছিন্ন করে
তখন এ বড় নয় কনকনে রাত
তখন বসন্ত আর পাখিদের গাঢ় কলরব—
কিন্তু এ এখন আমি মধু থেকে এত দূরে
বরফে জমাট এক মানবিক শব।

ও মেয়ে তোর বয়স কত?
: কি জানি গো,মা থাকলে বলে দিত।
সেই যে বারে দাঙ্গা হল,শয়ে শয়ে লোক
মরল,
হিন্দুদের ঘর জ্বলল, মুসলমানের রক্ত ঝরল,
তখন নাকি মা পোয়াতি,দাঙ্গা আমার
জন্মতিথি।
ও মেয়ে তোর বাবা কোথায়?
: মা বলেছে,গরিব দের বাবা হারায়
কেউ তো বলে বাপটা আমার হারামি ছিল।
মায়ের জীবন নষ্ট করে,অন্য গাঁয়ে ঘর বাঁধল।
মা বলত, শিবের দয়াই তোকে পেলাম,
শিবকেই তাই বাপ ডাকলাম।
ও মেয়ে তোর প্রেমিক আছে?
ছেলেরা ঘোরে ধারে-কাছে?
: প্রেমিক কি গো?মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে?
স্বপ্ন দেখাই দিন দুপুরে?
চুড়ি কাজল মেলাতে কেনায়,
ঝোপের ধারে জামা খোলায়?
এসব নন্দ কাকা করেছে দুবার
প্রেমিক ওকেই বলব এবার।
ও মেয়ে তোর পদবি কি?
: বাপই নাকি দেয় শুনেছি
পদবী থাকলে ভাত পাওয়া যায়?
বাপের আদর কাঁদায় হাসায়
ওটা কি বাজারে মেলে?
কিনব তবে দু-দশে দিলে
দামী হলে চাই না আমার
থাক তবে ও বাপ-ঠাকুরদার
ও মেয়ে তুই রূপসী?
:লোকে বলে ডাগর গতর সর্বনাশী
রুপ তো নয়, চোখের ধাঁধা।
যৌবনেতে কুকুরী রাঁধা।
পুরুষ চোখের ইশারা আসে,
সুযোগ বুঝে বুকে পাছায় হাত ও ঘষে।
রুপ কি শুধুই মাংসপেশী?
তবে তো আমি খুব রূপসী।
ও মেয়ে তোর ধর্ম কি রে?
: মেয়েমানুষের ধর্ম কি গো?
সব কিছু তো শরীর ঘিরে,
সালমা বলে ধর্মই সমাজ বানায়,
সন্ধেবেলা যখন দাঁড়াই
কেউ তো বলে না,হিন্দু নাকি?
সবাই বলে,কতই যাবি?
বিছানা নাকি ধর্ম মেলায়
শরীর যখন শরীর খেলায়
তাই ভাবছি এবার থেকে ধর্ম বলব শরীর বা বিছানাকে।

পাঁচ বছরের মেয়েটি বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলো- বাবা, স্বাধীনতা মানে কি?
বাবা বলেছিলো- স্বাধীনতা মানে, এই আমরা যা কিছু বলতে পারি, যা খুশি করতে পারি, কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই, আমার ইচ্ছেতে আমি চলতে পারি।
মেয়েটি বলেছিলো- তাহলে আজ থেকে আমিও স্বাধীনতা।
বাবা বললো- না। প্রথমত স্বাধীনতা নয়, তুমি স্বাধীন। কিন্তু এখন নয়। তুমি এখন ছোট। স্বাধীনতা পেয়ে কি করবে? বড় হও। বড় হলে স্বাধীনতা আপনাআপনি আসবে। বড় হলেই তুমি স্বাধীন।
মেয়েটি বাবাকে জিজ্ঞেস করলো- বাবা, মা কবে বড় হবে?

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

ফেব্রুয়ারি 2017
S S M T W T F
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728  
%d bloggers like this: