You are currently browsing the category archive for the ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়’ category.

গভীর দু চোখ নিয়ে শিশু বড়ো হয়

কিছুই জানে না তারা, বড়ো হয়, ফের মরে যায়।

মানুষেরা চলে যায় যে-যার রাস্তায় ।

 

তেতো ফল একদিন মিষ্টি হয়ে ওঠে

মরা পাখিদের মতো ঝরে যায় রাতে

কয়েকদিন পড়ে থাকে, ফের মরে যায় ।

 

হাওয়া আছে সব সময়, তবু বার বার

কত কথা শুনি আমরা কত কথা বলি

শরীরের যন্ত্রপাতি সুখ আর দুঃখ ভোগ করে ।

ঘাসের ভিতর দিয়ে রাস্তা হয়, গ্রাম ও শহর

এখানে ওখানে ভরা পুকুর ও গাছপালা, আলো

কিছু আছে বিশ্রী লোক, কিছু আছে মড়ার মতন ।

 

কেন এরা বেড়ে ওঠে ? কেন পরম্পর

দুজন সমান হয় না ? কেন এরা এত সংখ্যাহীন ?

কেন একবার হাসি, তার পরই কান্না, শুকনো হাওয়া ?

 

এই সব ছেলেখেলা— আমাদের কাছে আর কতটুকু দামী

আমরা ক’জন তবু রয়েছি অসাধারণ, অনন্ত একাকী

চিরকাল ভ্ৰাম্যমাণ, কখনো খুঁজিনি কোনো শেষ ।

 

এত সব বিচিত্রকে লক্ষ্য করা কেন প্রয়োজন ?

যা হোক, সেই তো সব কিছু বলে, যে বলে সায়াহ্ন

এই এক শব্দ থেকে ভেসে ওঠে গভীর কাতর স্বর, দুঃখ নিরবধি

শূন্য মৌচাক থেকে যে-রকম প্রবাহিত মধু।

 

[ হেফমান্সথালের জন্ম ভিয়েনায়, ১৮৭৪-এ। যদিও ভিক্টর যুগো সম্পর্কে গবেষণা করে ডক্টরেট হয়েছিলেন, কিন্তু নিজের সাহিত্য সাধনায় রোমষ্টিসিজমকে অস্বীকার করেছেন। জার্মান সাহিত্যে তাঁর আসন তখনই অবিসংবাদীভাবে স্বীকৃত, কিন্তু ক্রমশ তিনি কবিতা থেকে সরে গিয়ে মঞ্চ জগতে আশ্রয় নেন । জার্মান গীতিনাট্যের গৌরবময় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত তাঁর নাম । সোফোক্লিস, মলিয়েরের ভাষান্তর ছাড়াও তিনি কয়েকটি কলোত্তীর্ণ ট্র্যাজেডি লিখেছেন নিজে— এবং সুরকার হিসেবে পেয়েছিলেন রিচার্ড স্ট্রাউসকে । এখন জার্মান সাহিত্যে তাঁর সুনাম প্রধানত প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার হিসেবে । কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কবিরা হফমান্সথালের কবিতারই বেশি ভক্ত। ওঁর ছেলে হঠাৎ আত্মহত্যা করায়, ভগ্নহৃদয় হফমান্সথালের মৃত্যু ১৯২৯-এ । ]

এই যে বাইরে হু হু ঝড়, এর চেয়ে বেশী
বুকের মধ্যে আছে
কৈশোর জুড়ে বৃষ্টি বিশাল, আকাশে থাকুক যত মেঘ,
যত ক্ষণিকা
মেঘ উড়ে যায়
আকাশ ওড়ে না
আকাশের দিকে
উড়েছে নতুন সিঁড়ি
আমার দু বাহু একলা মাঠের জারুলের ডালপালা
কাচ ফেলা নদী যেন ভালোবাসা
ভালোবাসার মতো ভালোবাসা
দু‘দিকের পার ভেঙে
নরীরা সবাই ফুলের মতন, বাতাসে ওড়ায়
যখন তখন
রঙিন পাপড়ি
বাতাস তা জানে, নারীকে উড়াল দেয়ে নিয়ে যায়
তাই আমি আর প্রকৃতি দেখি না,
প্রকৃতি আমার চোখ নিয়ে চলে গেছে!

বহুক্ষণ মুখোমুখি চুপচাপ, একবার চোখ তুলে সেতু
আবার আলাদা দৃষ্টি, টেবিলে রয়েছে শুয়ে
পুরোনো পত্রিকা
প্যান্টের নিচে চটি, ওপাশে শাড়ির পাড়ে
দুটি পা-ই ঢাকা
এপাশে বোতাম খোলা বুক, একদিন না-কামানো দাড়ি
ওপাশে এলো খোঁপা, ব্লাউজের নীচে কিছু
মসৃণ নগ্নতা
বাইরে পায়ের শব্দ, দূরে কাছে কারা যায়
কারা ফিরে আসে
বাতাস আসেনি আজ, রোদ গেছে বিদেশ ভ্রমণে।
আপাতত প্রকৃতির অনুকারী ওরা দুই মানুষ-মানুষী
দু‘খানি চেয়ারে স্তব্ধ, একজন জ্বলে সিগারেট
অন্যজন ঠোঁটে থেকে হাসিটুকু মুছেও মোছে না
আঙুলে চিকচিকে আংটি, চুলের কিনারে একটু ঘুম
ফের চোখ তুলে কিছু স্তব্ধতার বিনিময়,
সময় ভিখারী হয়ে ঘোরে
অথচ সময়ই জানে, কথা আছে, ঢের কথা আছে।

বহুক্ষণ মুখোমুখি চুপচাপ, একবার চোখ তুলে সেতু
আবার আলাদা দৃষ্টি, টেবিলে রয়েছে শুয়ে
পুরোনো পত্রিকা
প্যান্টের নিচে চটি, ওপাশে শাড়ির পাড়ে
দুটি পা-ই ঢাকা
এপাশে বোতাম খোলা বুক, একদিন না-কামানো দাড়ি
ওপাশে এলো খোঁপা, ব্লাউজের নীচে কিছু
মসৃণ নগ্নতা
বাইরে পায়ের শব্দ, দূরে কাছে কারা যায়
কারা ফিরে আসে
বাতাস আসেনি আজ, রোদ গেছে বিদেশ ভ্রমণে।
আপাতত প্রকৃতির অনুকারী ওরা দুই মানুষ-মানুষী
দু‘খানি চেয়ারে স্তব্ধ, একজন জ্বলে সিগারেট
অন্যজন ঠোঁটে থেকে হাসিটুকু মুছেও মোছে না
আঙুলে চিকচিকে আংটি, চুলের কিনারে একটু ঘুম
ফের চোখ তুলে কিছু স্তব্ধতার বিনিময়,
সময় ভিখারী হয়ে ঘোরে
অথচ সময়ই জানে, কথা আছে, ঢের কথা আছে।

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল
শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে
তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী
আর এলোনা
পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।

মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর
তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো
সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর
খেলা করে!
নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো? আমার মাথা এ ঘরের ছাদ
ফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায়
তিন প্রহরের বিল দেখাবে?

একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনো
লাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরা
ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি
ভিতরে রাস-উৎসব
অবিরল রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরা
কত রকম আমোদে হেসেছে
আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি!
বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন, আমরাও…
বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুই
সেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসব
আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা!

বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল,
যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবে
সেদিন আমার বুকেও এ-রকম আতরের গন্ধ হবে!
ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠেয়ে প্রাণ নিয়েছি
দূরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়
বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীল পদ্ম
তবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ
এখনো সে যে-কোনো নারী।
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখে না!

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

মার্চ 2017
S S M T W T F
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
%d bloggers like this: