You are currently browsing the category archive for the ‘হুগো ফন হফমান্সথাল’ category.

গভীর দু চোখ নিয়ে শিশু বড়ো হয়

কিছুই জানে না তারা, বড়ো হয়, ফের মরে যায়।

মানুষেরা চলে যায় যে-যার রাস্তায় ।

 

তেতো ফল একদিন মিষ্টি হয়ে ওঠে

মরা পাখিদের মতো ঝরে যায় রাতে

কয়েকদিন পড়ে থাকে, ফের মরে যায় ।

 

হাওয়া আছে সব সময়, তবু বার বার

কত কথা শুনি আমরা কত কথা বলি

শরীরের যন্ত্রপাতি সুখ আর দুঃখ ভোগ করে ।

ঘাসের ভিতর দিয়ে রাস্তা হয়, গ্রাম ও শহর

এখানে ওখানে ভরা পুকুর ও গাছপালা, আলো

কিছু আছে বিশ্রী লোক, কিছু আছে মড়ার মতন ।

 

কেন এরা বেড়ে ওঠে ? কেন পরম্পর

দুজন সমান হয় না ? কেন এরা এত সংখ্যাহীন ?

কেন একবার হাসি, তার পরই কান্না, শুকনো হাওয়া ?

 

এই সব ছেলেখেলা— আমাদের কাছে আর কতটুকু দামী

আমরা ক’জন তবু রয়েছি অসাধারণ, অনন্ত একাকী

চিরকাল ভ্ৰাম্যমাণ, কখনো খুঁজিনি কোনো শেষ ।

 

এত সব বিচিত্রকে লক্ষ্য করা কেন প্রয়োজন ?

যা হোক, সেই তো সব কিছু বলে, যে বলে সায়াহ্ন

এই এক শব্দ থেকে ভেসে ওঠে গভীর কাতর স্বর, দুঃখ নিরবধি

শূন্য মৌচাক থেকে যে-রকম প্রবাহিত মধু।

 

[ হেফমান্সথালের জন্ম ভিয়েনায়, ১৮৭৪-এ। যদিও ভিক্টর যুগো সম্পর্কে গবেষণা করে ডক্টরেট হয়েছিলেন, কিন্তু নিজের সাহিত্য সাধনায় রোমষ্টিসিজমকে অস্বীকার করেছেন। জার্মান সাহিত্যে তাঁর আসন তখনই অবিসংবাদীভাবে স্বীকৃত, কিন্তু ক্রমশ তিনি কবিতা থেকে সরে গিয়ে মঞ্চ জগতে আশ্রয় নেন । জার্মান গীতিনাট্যের গৌরবময় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত তাঁর নাম । সোফোক্লিস, মলিয়েরের ভাষান্তর ছাড়াও তিনি কয়েকটি কলোত্তীর্ণ ট্র্যাজেডি লিখেছেন নিজে— এবং সুরকার হিসেবে পেয়েছিলেন রিচার্ড স্ট্রাউসকে । এখন জার্মান সাহিত্যে তাঁর সুনাম প্রধানত প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার হিসেবে । কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কবিরা হফমান্সথালের কবিতারই বেশি ভক্ত। ওঁর ছেলে হঠাৎ আত্মহত্যা করায়, ভগ্নহৃদয় হফমান্সথালের মৃত্যু ১৯২৯-এ । ]

কবি’র সূচী

পৃষ্ঠা

ফেব্রুয়ারি 2017
S S M T W T F
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728  
%d bloggers like this: